সর্বশেষ

  মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি আরবে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা   বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ   শাবি থিয়েটার সাস্টের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন   লাউয়াছড়া উদ্যানে ট্রেনে কাটা পড়ে হরিণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উল্লুকের মৃত্যু   জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া   সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ   মোগলগাঁও ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক, অতঃপর....   ধর্মপাশা মুক্ত দিবস পালিত   মাধবপুরে গোপনে জয়িতা তালিকা!   শ্রীমঙ্গলে ৪ বছরের মাথায় দুটি শাবকের জন্ম দিলো মেছো বাঘ   ভারতে বাংলাদেশী শ্রমিক হত্যায় তাহিরপুর উত্তাল: বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বাতিল   অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা আটক   ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৬ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৫ আসামির বিচার শুরু   মায়ানমারকে মালয়েশিয়ার সেনা প্রধানের হুমকি!   আজই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মুশফিকরা   দুর্নীতি মামলায় জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের জামিন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার   আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস   চট্টগ্রামে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‌্যাবের অভিযানে আটক ৩

ভাটির সাড়ে ৪ হাজার ইরি-বোরো চাষীদের কপাল পুড়বে

দোয়ারাবাজারে চিলাই নদীর উজানে ফের বাঁধ দেয়ার প্রস্তুতি

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২৩ ১৩:০১:২৬

আপডেট : ২০১৫-১১-২৩ ১৪:৪৯:৪২

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার : সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫ ॥ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চিলাই নদীর উজানে ফের মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর  প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে বাঁধের সব প্রস্তুতি সম্পন্নও হয়েছে। আর এবারও পাহাড়ী ওই নদীর উজানে অবৈধ বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হলে ভাটি এলাকার চাষীদের কপাল পুড়বে।

প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর ইরি-বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হবে। পানি না পেয়ে চলমান বোরো আবাদ সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। প্রতিকার চেয়ে ও সব অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে সুষম পানি বণ্টনের দাবিতে সম্প্রতি চিলাই নদী উত্তর বালিছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেছেন।

কৃষকদের অভিযোগ- উপজেলার বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ও সদর ৩ ইউনিয়নের ভাটির সহস্রাধিক কৃষক শুকনো মৌসুমে পাইকপাড়া-ইদুকোনা হয়ে প্রবাহিত চিলাই নদীর উত্তর বালিছড়া অংশে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ টন ধান উৎপাদন করে আসছে। এছাড়া ভাটির হাজার হাজার কৃষকরা ইরি-বোরে চাষাবাদসহ প্রায় ২শ’ পুকুরে মাছ চাষ ও শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ওই এলাকার কৃষকরা শুকনো মৌসুমে ইরি-বোরে চাষাবাদ করে স্থানীয় খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে জাতীয়ভাবে খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল গত বছর ওই নদীর উজানে অবৈধ মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর ফলে ভাটির কয়েক হাজার কৃষক পানির অভাবে চাষাবাদ করতে না পেরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবারও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীর উজানে চিহ্নিত একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল ক্যাম্পেরঘাট এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে অবৈধ মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে। আর নদীর উজানে এভাবে অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ হলে প্রায় ১০ হাজার টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ভাটি অঞ্চলের কৃষকদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হবে।

ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এলজিইডি সুনামগঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত অনুযায়ী, চিলাই নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে ভাটি অঞ্চল কালক্রমে মরুভূমিতে পরিণত হবে।

স্থানীয় বালিছড়া গ্রামের প্রভাতি সমবায় সমিতির সভাপতি কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান- “নদীর উজানে বাঁধ দেয়ার কারণে ভাটির কৃষকরা গত বছরের ক্ষতির ভয়ে এবছর বীজতলা প্রস্তুত করছে না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবিলম্বে উজানের বাঁধ দেয়া বন্ধ না করলে এবারও চরম ক্ষতির সম্মুখিন হবেন নিচু এলাকার কৃষকরা।”

চিলাই নদী উত্তর বালিছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আকন্দ জানান- “কৃষকদের সমস্যা সমাধান ও উজানের মাটির বাঁধ অপসারণ করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।”
 
বোগলাবাজার ইউনিয়নের সোনাছড়া গ্রামের কৃষক ডা. হাফিজ উদ্দিন জানান- “ভাটি এলাকার উত্তর বালিছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের ইরি-বোরে স্কিম অনুযায়ী বালিছড়া অংশে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো প্রয়োজন। যেখানে ভাটি এলাকার কৃষক, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বর্গাচাষীদের সুবিধার্থে সরকার ইতোমধ্যে রাবারড্যাম প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে জাইকা কর্তৃক একটি পাকা অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাবও করা হয়েছে। আর পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করলেই নিচু এলাকায় প্রচুর চাষাবাদ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে। উজান ও ভাটির কৃষকরা সমানভাবে পানি পাবে।

চিলাই নদীর উজানে স্বার্থান্বেষী মহলের অবৈধ মাটির বাঁধ দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন- নদীর উজানে বাঁধ দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কারো স্বার্থের জন্য কৃষকদের ক্ষতি হোক সেটা সহ্য করা হবেনা বলেও জানান তিনি। 

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এমএইচএইচ/এসবি

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত