সর্বশেষ

  রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারের দাবীতে ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরীর বিক্ষোভ   'শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্ঠায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার'   রিয়ালকে জয়ে ফেরালেন নবীন সেবায়োস   কমেছে চালের দাম, কমবে আরও   লন্ডনে আবারো এসিড হামলা, আহত ৬   তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল   মহিউদ্দিন শীরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৫ সেপ্টেম্বর   ধর্ম যার যার, উৎসব সবার : কামরান   ওসমানীনগরে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর, প্রশাসন নিরব   জগন্নাথপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু   ফেঞ্চুগঞ্জে সড়ক মেরামতের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা   মৌলভীবাজারে ‘শিক্ষা দিবস’ পালিত   হত্যা মামলার আসামী টিটু ও সুলেমান এখনও অধরা   ফেঞ্চুগঞ্জে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সাথে প্রশাসনের সভা   রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত   দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট মহানগর পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি   নগরী থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ   বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষাখাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে : এমপি আবু জাহির   সিলেটে ছিনতাইকারী বাবলু ও শরীফ আটক   সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন

সিলেটে কঠোর নজরদারিতে জামায়াতের প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২০ ০০:০০:৩৫

তুহিনুল হক তুহিন : শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০১৫ ॥ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে- জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে বসে বিভিন্ন অপকর্মের ছক কষা হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

সে প্রকাশিত তালিকাতে সিলেটে জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসমূহের নাম প্রকাশিত হয়। এদিকে, সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বেশ কিছু এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তা দিচ্ছে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

সূত্রে জানা যায়- সিলেটে জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে নজরদারিতে রেখেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এমনকি কারা কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আর প্রতিষ্ঠানগুলো কারা পরিচালিত করছেন এবং তাদের অর্থের উৎসও কারা যোগান দিচ্ছেন সেসব তালিকা তৈরি করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এছাড়াও ২৯ অক্টোবর জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিক্ষামন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে পাঠানো আদেশে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ চার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন নথিতে বলা হয়েছে- বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এনে তা নিজেদের সংগঠনের কাজে ব্যয় করার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনকে আর্থিক সাহায্য করার কাজে ব্যবহার করছে।

সিলেটে নজরদারির আওতায় আনা জামায়াত-শিবির পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ইসলামী ব্যাংক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, রেটিনা, ইবনে সিনা মেডিক্যাল হসপিটাল, মা-মনি ক্লিনিক, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ক্যাডেট মাদরাসা, সিলেট রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মিশন ডেভেলপারস, সোনারগাঁ হাউজিং, ইয়ুথ গ্রুপ, মিশন গ্রুপ, আল-হামরা শপিং সেন্টার, রাজমহল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স কোং লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অনাবিল, সৌদিয়া, আবাবিল, ছালছাবিল, ফুয়াদ আল খতিব মেডিকেল ট্রাস্ট, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, সিএনসি, ফুলকুঁড়ি আসর, ফোকাস, কনসেপ্ট, ওমেকা। এছাড়াও সিলেট নগরীতে পরিচালিত জামায়াত-শিবিরের কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও তাদের সুদি ব্যবসার তালিকা তৈরি করে সেগুলোকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান- নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই গোয়েন্দা পূর্বের তৈরি তালিকাটি একটু হালনাগাদ করতে হয়েছে। তালিকার বাইরেও নামে-বেনামে গড়ে ওঠা জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তিনি আরো জানান- শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে কমর্রত জামায়াত-শিবিরপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে সক্রিয়। জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সমিতি থেকে সংগঠনের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি জঙ্গিদেরও অর্থায়ন করা হয়।

সিলেট মেট্রাপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ জানান- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি হওয়ার পর সিলেটে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আজতের হরতালকে ও রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যে কোন ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে সন্দেভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/টিএইচটি/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত