সর্বশেষ

  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদোন্নতি পেলেন জ্যোতির্ময়   নগরী থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার   জামিন পেলেন পৌর শ্রমিকলীগ নেতা তানিন   বিশ্বনাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা   সরকারের পাশাপাশি অসহায়দের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত: নাদেল   সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির নতুন কমিটি   নগরীতে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১   বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন   শুরুতেই সিলেটবাসীকে সুখবর দিলেন শাহজাহান কামাল   ‘শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত’ রাষ্ট্র হয়েছে’   শহরতলীর তেমুখীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩   বাগবাড়ীতে শিক্ষকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি   শাবিতে তিনদিনব্যাপী ‘উৎসবে অনিরুদ্ধ’ শুরু   জেলা বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ   গোপালপুরে মাঠে শীতকালীন বিষমুক্ত সবজির বাম্পার ফলন   মনিপুরি পাড়ায় ৫ দিনব্যাপি মহানামযজ্ঞ উৎসব শুরু   কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা   আব্দুর রহমান বর্নী (রহঃ) ইছালে সওয়াব মাহফিল বাস্তবায়নে প্রস্তুতি সভা   ওসামানী স্মৃতি পরিষদ বাংলাদেশ’র শীতবস্ত্র বিতরণ   দি হলি চাইল্ড স্কুল এন্ড কলেজ’র নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন

ফেসবুকের কল্যাণে ৬ যুগ পর স্বজনের দেখা পেলেন হায়দার আলী

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৮ ০১:২৩:২৬

জালাল আহমদ : বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫ ॥ সিনেমায় তো প্রায়ই এ রকম হয়। ১৫-২০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মা-ছেলের কিংবা ভাইয়ের সাথে বোনের দেখা হয়। ছোটবেলায় গাওয়া একটি গানের মাধ্যমে খুঁজে পায় পরিবারের একজন আরেকজনকে। এখন অবশ্য প্রযুক্তির যুগ, খুঁজে পাওয়ার তরিকাটিও তাই ভিন্ন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে জীবনের শেষ বয়সে এসে আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার সুযোগ পেলেন আলী হায়দার (৮৫)। প্রায় ১৫ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। সেই থেকে ঘর ছাড়া। প্রায় ৬ যুগ পর সোমবার (১৬ নভেম্বর) মামা-ভাগনার মিলন ঘটে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ বছর আগে আলী হায়দার এসেছিলেন বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায়। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর। চান্দগ্রাম বাজারটিও এখনকার মতো ছিল না। এখানে আসার পর এলাকার অনেকের বাড়িতে গরু-মহিষ চরিয়ে জীবিকা চালাতেন। বছর তিনেক আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই কাজ করতে পারতেন না। খালি জায়গায় পড়ে থাকতেন। বয়সের ভারে স্পষ্ট করে কথা বলতেও পারেন না। এ অবস্থায় মধ্য চান্দগ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সোনা মিয়া চান্দগ্রাম বাজারের একটি খালি দোকানকোঠায় তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের বাড়ি থেকে পাঠানো হতো খাবার।
কেনো কিশোর হায়দার আলীর হারিয়ে যাওয়া আর কেনো-ই বা এতো বছর নিরুদ্দ্যেশ ছিলেন তা জানতে স্মৃতি হাতড়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বললেন আলী হায়দার।

নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার কুলছড়ি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর প্রথমপক্ষের দ্বিতীয় পুত্র হচ্ছেন আলী হায়দার। মা মারা গেলে বাবা আবার বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে আপন মায়ের অভাব পূরণ হয়নি। প্রতিনিয়ত চলতো নির্যাতন। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আলী হায়দার ও তার বড় ভাই নাদেরুজ্জামান বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। আলী হায়দার চলে যান ভারতে। বড় ভাই নাদেরুজ্জামানের আর খোঁজ মিলেনি। ভাইরা চলে যাওয়ার পর একমাত্র ছোট বোন সাফিয়া বেগমও মামার বাড়ি চলে যান। প্রায় চার মাস ভারতে ঘোরাঘুরি করার পর মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায় চলে আসেন আলী হায়দার।

এদিকে সোনা মিয়ার ছেলে আখতার আহমদ আলী হায়দারকে নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরেই আলী হায়দারের আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়। গত সোমবার বড়লেখার চান্দগ্রামে আসেন আলী হায়দারের ছোট  বোন সাফিয়া বেগমের ছেলে আব্দুর রহিম। মামা-ভাগনার মিলনে তখন এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরাতো ধরে নিয়েছিলাম মামা মারা গেছেন। আখতারের পরিবার ও ফেসবুকের কল্যাণে তাঁকে ফিরে পেয়েছি।’

 সোনা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাতেই তাঁরা নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে চলে যান। বাড়িতেও ছোট বোন সাফিয়া বড় ভাইকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে। অনেকেই আলী হায়দারকে দেখতে বাড়িতে ভীড় জমাচ্ছেন।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/জেএ/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত