সর্বশেষ

  ঈদে রাস্তায় থাকবে বিআরটিসির ৯০০ বাস   দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ   টস জিতে ফিল্ডিংয়ে টাইগাররা   সিলেট বিভাগকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা   দীর্ঘ ১৭ বছর পর এফডিসিতে ফিরছেন শাবানা?   শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন   বিশ্বনাথে স্বামীর হাতে খুন হলেন স্ত্রী   অভিযোগের পাহাড় শিক্ষার্থীদের : হল থেকে বিতাড়িত শাবির সেই ‘অপরাধ সম্রাট’   কুসিক মেয়র সাক্কুর স্থায়ী জামিন   গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুর ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা   শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা   অর্ধেক বৃত্তে মৌলভীবাজার শহীদ মিনার!   যুক্তরাজ্যে আরও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে   মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য গড়ার খাবার   আজ মাশরাফি চোখ রাখছেন জয়ে   জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি বাড়ি ঘেরাও   সিলেটে বজ্রপাতে শ্যালক-দুলাভাইসহ নিহত ৩   মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বাজেট ঘোষণা   চরগাঁওয়ে রাস্তা উদ্বোধন করলেন এমপি কেয়া চৌধুরী   রাজনগরে ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ফেসবুকের কল্যাণে ৬ যুগ পর স্বজনের দেখা পেলেন হায়দার আলী

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৮ ০১:২৩:২৬

জালাল আহমদ : বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫ ॥ সিনেমায় তো প্রায়ই এ রকম হয়। ১৫-২০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মা-ছেলের কিংবা ভাইয়ের সাথে বোনের দেখা হয়। ছোটবেলায় গাওয়া একটি গানের মাধ্যমে খুঁজে পায় পরিবারের একজন আরেকজনকে। এখন অবশ্য প্রযুক্তির যুগ, খুঁজে পাওয়ার তরিকাটিও তাই ভিন্ন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে জীবনের শেষ বয়সে এসে আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার সুযোগ পেলেন আলী হায়দার (৮৫)। প্রায় ১৫ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। সেই থেকে ঘর ছাড়া। প্রায় ৬ যুগ পর সোমবার (১৬ নভেম্বর) মামা-ভাগনার মিলন ঘটে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০ বছর আগে আলী হায়দার এসেছিলেন বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায়। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর। চান্দগ্রাম বাজারটিও এখনকার মতো ছিল না। এখানে আসার পর এলাকার অনেকের বাড়িতে গরু-মহিষ চরিয়ে জীবিকা চালাতেন। বছর তিনেক আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই কাজ করতে পারতেন না। খালি জায়গায় পড়ে থাকতেন। বয়সের ভারে স্পষ্ট করে কথা বলতেও পারেন না। এ অবস্থায় মধ্য চান্দগ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সোনা মিয়া চান্দগ্রাম বাজারের একটি খালি দোকানকোঠায় তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের বাড়ি থেকে পাঠানো হতো খাবার।
কেনো কিশোর হায়দার আলীর হারিয়ে যাওয়া আর কেনো-ই বা এতো বছর নিরুদ্দ্যেশ ছিলেন তা জানতে স্মৃতি হাতড়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বললেন আলী হায়দার।

নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার কুলছড়ি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর প্রথমপক্ষের দ্বিতীয় পুত্র হচ্ছেন আলী হায়দার। মা মারা গেলে বাবা আবার বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে আপন মায়ের অভাব পূরণ হয়নি। প্রতিনিয়ত চলতো নির্যাতন। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আলী হায়দার ও তার বড় ভাই নাদেরুজ্জামান বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। আলী হায়দার চলে যান ভারতে। বড় ভাই নাদেরুজ্জামানের আর খোঁজ মিলেনি। ভাইরা চলে যাওয়ার পর একমাত্র ছোট বোন সাফিয়া বেগমও মামার বাড়ি চলে যান। প্রায় চার মাস ভারতে ঘোরাঘুরি করার পর মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায় চলে আসেন আলী হায়দার।

এদিকে সোনা মিয়ার ছেলে আখতার আহমদ আলী হায়দারকে নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরেই আলী হায়দারের আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়। গত সোমবার বড়লেখার চান্দগ্রামে আসেন আলী হায়দারের ছোট  বোন সাফিয়া বেগমের ছেলে আব্দুর রহিম। মামা-ভাগনার মিলনে তখন এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরাতো ধরে নিয়েছিলাম মামা মারা গেছেন। আখতারের পরিবার ও ফেসবুকের কল্যাণে তাঁকে ফিরে পেয়েছি।’

 সোনা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাতেই তাঁরা নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে চলে যান। বাড়িতেও ছোট বোন সাফিয়া বড় ভাইকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে। অনেকেই আলী হায়দারকে দেখতে বাড়িতে ভীড় জমাচ্ছেন।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/জেএ/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত