সর্বশেষ

  সাংবাদিক অমলকৃষ্ণ’র শাশুড়ির মৃতুতে বামাসাক’র শোক   মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি আরবে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা   বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ   শাবি থিয়েটার সাস্টের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন   লাউয়াছড়া উদ্যানে ট্রেনে কাটা পড়ে হরিণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উল্লুকের মৃত্যু   জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া   সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ   মোগলগাঁও ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক, অতঃপর....   ধর্মপাশা মুক্ত দিবস পালিত   মাধবপুরে গোপনে জয়িতা তালিকা!   শ্রীমঙ্গলে ৪ বছরের মাথায় দুটি শাবকের জন্ম দিলো মেছো বাঘ   ভারতে বাংলাদেশী শ্রমিক হত্যায় তাহিরপুর উত্তাল: বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বাতিল   অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা আটক   ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৬ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৫ আসামির বিচার শুরু   মায়ানমারকে মালয়েশিয়ার সেনা প্রধানের হুমকি!   আজই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মুশফিকরা   দুর্নীতি মামলায় জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের জামিন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার   আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

হাকালুকি হাওরের উন্নয়নে নেই কোনো পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৭ ০০:০৪:৪০

বড়লেখা প্রতিনিধি : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৫ ॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি অদ্যাবধি। গত এক যুগেরও বেশি সময়ে এই হাওরে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু হাওর ব্যবস্থাপনার সমস্যা ও হুমকিসমূহের খুব একটা উত্তরণ হয়নি।

হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা ও হুমকিসমূহ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন হাওরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টরা। হাকালুকি হাওর মূলত দু’টি প্রশাসনিক জেলা মৌলভীবাজার ও সিলেট এবং (মৌলভীবাজার) বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া (সিলেট) ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ এই ৫টি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত।

বর্ষায় প্লাবিত এলাকাসহ হাওরের মোট আয়তন হয় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর। আর শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী জলাভূমি (বিল) এর আয়তন প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। এসব উপজেলায় হাওর এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। এসব মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হাওরের উপরই নির্ভরশীল। হাওরের উপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবিকার দু’টি প্রধান উৎস হলো মৎস্য ও কৃষি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে সরকার এই হাওরকে ইসিএ (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া বা প্রতিবেশগত সংকাপন্ন এলাকা) হিসেবে ঘোষণা করে। এই হাওরকে শুধু এশিয়ার বৃহত্তম হাওরই নয় দেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রও বলা হয়। ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই হাওরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে-টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির একটি কম্পোনেন্ট (এসইএমপি) হিসেবে কমিউনিটিভিত্তিক হাওর ও প্লাবনভূমির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করে, যা এমওইএফ বাস্তবায়ন করে থাকে।

২০০২ সালে জিইএফ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতর উপকূলীয় ও জলাভূমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সূচিত করে এবং স্থানীয় জনগণের দ্বারা হাকালুকি হাওর ইসিএ এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে। ইউএসএআইডি-আইপ্যাক প্রকল্প ডিওই দ্বারা বাস্তবায়িত হয়; জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। সামাজিক সুরক্ষা (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্প পরিবেশ অধিদফতর বাস্তবায়ন করে, বিপদাপন্নতা এবং ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং ইকো-সিস্টেমভিত্তিক অভিযোজন (ভিআইএ অ্যাণ্ড ইবিএ) একটি কেস স্টাডি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) কারিগরি সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক গৃহিত হয়ে থাকে।

সামাজিক সুরক্ষা (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্প চলতি বছরের জুন মাসেই শেষ হয়ে যায়। এরই মধ্যে সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনা হয় কিন্তু সরকার হাকালুকি হাওরের ভবিষ্যত কার্যক্রমের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।

হাকালুকি হাওরকে মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আন্দোলনকারী হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশাহ জানান, হাকালুকি হাওরকে সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনেক আন্দোলন করেছি। পরবর্তীতে অনেক প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে  সেই আন্দোলন স্থিমিত হয়। কোন্ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়াটা হতাশার। এর প্রভাবও হাওরের উপর পড়বে।

হাওরের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ইউএসএআইডি’র ক্রেল প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা ও হুমকিসমূহ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে যে সকল কাজ হয়েছে, সেগুলোকে এগিয়ে নিয়ে  যেতে হবে। সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনায় না থাকলেও এশিয়ার এই বৃহত্তম হাওরকে নিয়ে সরকারের উচিত পৃথকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। আর তা সরকারের নজরেও আনতে হবে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/জেএ/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত