সর্বশেষ

  বিয়ানীবাজার পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে কে কতো ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেন   শাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় সপ্তাহব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি সমাপ্ত   মাধবপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত   ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ভাসছে লাশ   কুলাউড়ার চাতলাপুর চা বাগানে নারী শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত : যোগ দিলেন পুরুষ শ্রমিকরাও   কেন বাংলাদেশে আসছে না পাকিস্তান?   গণভবনে হাসিনার সাথে ডেভিড ক্যামেরনের সাক্ষাৎ   শনিবার সুনামগঞ্জ আসছেন ওয়ার্কার্স পার্টি ও যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ   হিমালয়ে নিখোঁজ পবর্তারোহীকে ৪৭ দিন পর উদ্ধার   সিলেট মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রয়েছেন যারা   মদনমোহন কলেজে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে রিলিজস্লিপে ভর্তির শেষ তারিখ ৩০ এপ্রিল   চাপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য শেষ আহ্বান   চলে গেলেন অভিনেতা বিনোদ খান্না   শ্রীমঙ্গলে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত   কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে শিক্ষা বিষয়ক গেøাবাল অ্যাকশন র‌্যালি শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত   শায়েস্তাগঞ্জসহ ৬ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একঘণ্টা কর্মবিরতি   ছাতকে ব্যবসায়ীদের নিয়ে কাস্টম্স বিভাগের কর্মশালা সম্পন্ন   মোল্লারগাঁও ইউপি ৩নং ওয়ার্ড তালামীযের মতবিনিময় সভা   আব্দুস সামাদ আজাদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

হাকালুকি হাওরের উন্নয়নে নেই কোনো পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৭ ০০:০৪:৪০

বড়লেখা প্রতিনিধি : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৫ ॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি অদ্যাবধি। গত এক যুগেরও বেশি সময়ে এই হাওরে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু হাওর ব্যবস্থাপনার সমস্যা ও হুমকিসমূহের খুব একটা উত্তরণ হয়নি।

হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা ও হুমকিসমূহ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন হাওরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টরা। হাকালুকি হাওর মূলত দু’টি প্রশাসনিক জেলা মৌলভীবাজার ও সিলেট এবং (মৌলভীবাজার) বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া (সিলেট) ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ এই ৫টি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত।

বর্ষায় প্লাবিত এলাকাসহ হাওরের মোট আয়তন হয় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর। আর শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী জলাভূমি (বিল) এর আয়তন প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। এসব উপজেলায় হাওর এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। এসব মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হাওরের উপরই নির্ভরশীল। হাওরের উপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবিকার দু’টি প্রধান উৎস হলো মৎস্য ও কৃষি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে সরকার এই হাওরকে ইসিএ (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া বা প্রতিবেশগত সংকাপন্ন এলাকা) হিসেবে ঘোষণা করে। এই হাওরকে শুধু এশিয়ার বৃহত্তম হাওরই নয় দেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রও বলা হয়। ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই হাওরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে-টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির একটি কম্পোনেন্ট (এসইএমপি) হিসেবে কমিউনিটিভিত্তিক হাওর ও প্লাবনভূমির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করে, যা এমওইএফ বাস্তবায়ন করে থাকে।

২০০২ সালে জিইএফ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতর উপকূলীয় ও জলাভূমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সূচিত করে এবং স্থানীয় জনগণের দ্বারা হাকালুকি হাওর ইসিএ এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে। ইউএসএআইডি-আইপ্যাক প্রকল্প ডিওই দ্বারা বাস্তবায়িত হয়; জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। সামাজিক সুরক্ষা (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্প পরিবেশ অধিদফতর বাস্তবায়ন করে, বিপদাপন্নতা এবং ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং ইকো-সিস্টেমভিত্তিক অভিযোজন (ভিআইএ অ্যাণ্ড ইবিএ) একটি কেস স্টাডি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) কারিগরি সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক গৃহিত হয়ে থাকে।

সামাজিক সুরক্ষা (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্প চলতি বছরের জুন মাসেই শেষ হয়ে যায়। এরই মধ্যে সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনা হয় কিন্তু সরকার হাকালুকি হাওরের ভবিষ্যত কার্যক্রমের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।

হাকালুকি হাওরকে মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আন্দোলনকারী হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশাহ জানান, হাকালুকি হাওরকে সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনেক আন্দোলন করেছি। পরবর্তীতে অনেক প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে  সেই আন্দোলন স্থিমিত হয়। কোন্ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়াটা হতাশার। এর প্রভাবও হাওরের উপর পড়বে।

হাওরের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ইউএসএআইডি’র ক্রেল প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা ও হুমকিসমূহ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের মাধ্যমে যে সকল কাজ হয়েছে, সেগুলোকে এগিয়ে নিয়ে  যেতে হবে। সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনায় না থাকলেও এশিয়ার এই বৃহত্তম হাওরকে নিয়ে সরকারের উচিত পৃথকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। আর তা সরকারের নজরেও আনতে হবে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/জেএ/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত