সর্বশেষ

  মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ   ‘আদর্শ সমাজ গঠনে রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে’   সাচনা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাঠ পরিদর্শনে রঞ্জিত সরকার   জামালগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই ৯ দোকান: দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বেহাল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর-জাফলং এলাকা : আশ্বাসেই নাভিশ্বাস যাত্রীদের

প্রকাশিত : ২০১৮-০৫-১৩ ১৭:০৩:৩৪

আপডেট : ২০১৮-০৫-১৩ ১৭:২১:৪৫

মোঃ হানিফ, জৈন্তাপুর : রবিবার, ১৩ মে ২০১৮ ॥ সিলেট জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম মহাসড়ক সিলেট-তামাবিল রোড। বিগত ২০০০ সালে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক বর্ধিত হয়। এরপর ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সওজ কর্তৃপক্ষ রাস্তাটির দেখবাল করছে। সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ নিয়ে নিম্নমানের মরা পাথর, পচা ইট, মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে সংস্কার কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।যে কারণে কাজের ১ মাসের মাথায় পুনরায় বড় বড় গর্ত ধারণ করে সড়কটি। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিভিন্ন সময় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারে স্থায়ী কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।

সরেজমিনে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর হতে জাফলং পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়- বড় বড় গর্তসহ কয়েক হাজার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা গুলোতে মাত্রাতিরিক্ত পরিস্থিতি ধারণ করেছে। রাস্তার বালু পাথর উড়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা দূর্ঘটনা সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র গতিতে যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তার ধুলো বালু উড়ে গিয়ে হোটেল রেস্তুরা গুলোতে প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয়, এরাস্তা দিয়ে দেশী বিদেশী হাজার হাজার পর্যটকরা চলাচল করতে হয় মূখে কাপড় বেঁধে।

অপরদিকে ধুলা বালু মিশ্রিত খাবার খেয়ে বাজারে আগত লোকজন পরিবেশ বাহি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করেও কোন প্রতিকার পচ্ছেন না। সান্তনা দিয়েই তাদের রাস্তা হতে আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নিকট থেকে তেমন কোন কাজের আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের শুক্রবারী বাজার, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, হরিপুর বাজার, বাগেরসড়ক, দামড়ী, ফরফরা, সারীঘাট দক্ষিণ বাজার, ফেরীঘাট ব্রিজ, ইমরান আহমদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ গেইট, জৈন্তাপুর বাজার, চাঙ্গীল বাজার, কদমখাল, রাংপানী, ৪নং বাংলাবাজার, আসামপাড়া, আদর্শগ্রাম, শ্রীপুর, আলুবাগান, মোকামবাড়ী, জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সম্মুখ, নলজুরী বাজার, বিজিবি সম্মেলন কেন্দ্র, তামাবিল, মামার দোকান, বল্লাঘাট এলাকায় রয়েছে কয়েকটি পুকুর সমান গর্ত। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট ছোট কয়েক সহস্রাধিক গর্ত।

এদিকে জৈন্তাপুর হতে বল্লাঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগে ২ ঘন্টার অধিক। যে কারণে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণ, দেশী-বিদেশী পর্যটক, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদেরকে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সহ স্থানীয় সংসদ নিজ এলাকায় আসা যাওয়া করলেও রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহন করছেন না।

স্থানীয় এলাকাবাসী- মরতুজ আলী, হুমায়ুন রশিদ, গোলাম মোস্তফা, আব্দুর রহমান, আব্দুর রকিব, হারিছ আলী, ইব্রাহীম আলী, মোবারক আলী, এরশাদ মিয়া, জয়দোল হোসেন, আব্দুল মান্নান, ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, জালাল উদ্দিন, বশির উদ্দিন, আবুল হোসেন, নজির আলী, আলী হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভের সাথে জানান- সিলেট-তামাবিল সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে বা মহাসড়ক নয়, এটি গ্রামীণ সড়ক হিসাবে সবার কাছ চিহ্নিত হয়েছে। তাদের দাবি রাস্তা দিয়ে লোকজন কিংবা মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি চলাচল করে থাকলেও রাস্তাটির বেহাল দশা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতেন। কয়েক মাস আগে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম জৈন্তাপুর হতে জাফলং পর্যন্ত ১শত ৯০ কোটি টাকার সংস্কার প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এপর্যন্ত রাস্তাটি ব্যবহারকারীরা রাস্তা সংস্কারের দৃশ্যমান কোন কাজ শুরু করেত দেখা যায়নি। এদিকে বৃষ্টি হলে এসব স্থানে কাঁদায় পরিপূর্ণ আর রোদ্রের দিনে ধুলো ঝড়ে পরিনত হচ্ছে এমনটাই ভোক্তভোগীদের মন্তব্য করেন।

অপরদিকে সওজ কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারের নামে মঝে মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে যৎ সামান্য নিম্ন-মানের সমগ্রী ব্যবহার করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সড়ক সংস্কারের সরকারের নিকট হতে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।

এবিষয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর শাখা প্রকৌশলী মাসুম আহমদ জানান- ২৪এপ্রিল জৈন্তাপুর হতে মামার দোকান ও হরিপুর বাজার এবং শুক্রবারী বাজার রাস্তার কাজের জন্য ১শত ৩৮কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। তাড়াতাড়ী টেন্ডারটি মাধ্যমে এসব স্থানে সি.সি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া সিলেট-জৈন্তাপুর পর্যন্ত রাস্তার মধ্যের গর্ত সমুহ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম জানান- রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর মৌখিক ও লিখিত ভাবে বিষয়টি উত্তাপন করা হয়েছে। একনেকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পূর্ণকাজের প্রস্তাব পাশ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাস্তাটির উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান- রাস্তার বিষয়ে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন না করায় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আশারাখি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাস্তাটি সংস্কারের ব্যপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এমএইচ/এমওআর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত