সর্বশেষ

  মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ   ‘আদর্শ সমাজ গঠনে রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে’   সাচনা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাঠ পরিদর্শনে রঞ্জিত সরকার   জামালগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই ৯ দোকান: দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা আজ

প্রকাশিত : ২০১৭-১১-১৫ ০০:৪৭:১০

মীর্জা সোহেল : বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ॥ আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা। ফারসি শব্দমালা ‘আখেরি চাহার শোম্বার’ অর্থ শেষ বুধবার। আরবি সফর মাসের এই শেষ বুধবারে আমাদের প্রিয় নবী করিম (সা.) জীবনে শেষবারের মতো রোগমুক্তি লাভ করেন।

আর এ কারণেই সফর মাসের শেষ বুধবারকে বলা হয় আখেরি চাহার শোম্বা। মুসলিম বিশ্ব এ দিবসকে প্রতিবছর শুকরিয়া দিবস অর্থাৎ খুশির দিন হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে। তাই মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে আখেরি চাহার শোম্বার গুরুত্ব ও মর্যাদা কোনো অংশে কম নয়।

আল্লাহর প্রিয় নবী (সা.) ওফাতের পূর্ববর্তী সফর মাসের শেষ ভাগে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পীড়াজনিত কারণে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েন। এরপর তিনি এ মাসেরই ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ বুধবার অতি প্রত্যুষে জেগে উঠে বলেন- ‘কে আছ, আমার কাছে?’ হজরত রাসুলে করিম (সা.)-এর ডাকটুকু উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) শুনতে পেয়ে দৌড়ে এসে বলেন, 'হে আল্লাহর নবী, আমি আপনার কাছেই আছি।’ রাসুল (সা.) বললেন, আয়েশা, আজ যেন আমি অনেকটা সুস্থ বোধ করছি। শরীরটা বেশ হালকা মনে হচ্ছে। বোধকরি, আমি সুস্থ হয়ে গেছি। কথা কয়টি শোনার পর হজরত আয়েশা (রা.) সীমাহীন আনন্দ ও খুশিতে বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি কালবিলম্ব না করে রাসুলে পাক (সা.)-এর শির ও শরীর মোরাবরকে পবিত্র পানি দিয়ে উত্তমভাবে গোসল করিয়ে দেন।

ফলে বেশ কিছু দিনের পীড়াজনিত ক্লান্তি, দুর্বলতা কমে যায়। রাসুলে পাক (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে বললেন, ‘হে আয়েশা, ঘরে খাবার কিছু আছে কি? ঘরে সামান্য কিছু রুটি তৈরি ছিল। তা-ই নিয়ে এলেন হজরত আয়েশা (রা.)। রাসুল (সা.) বললেন, আয়েশা, ‘জলদি আমার মা ফাতেমাকে খবর দাও। সে যেন নাতিদ্বয়কে নিয়ে এখনই আমার কাছে চলে আসে।’ মা ফাতেমা সংবাদ পাওয়া মাত্র পুত্রদ্বয়কে সঙ্গে নিয়ে ব্যাকুল হৃদয়ে হজরত রাসুলে করিম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হলেন। রাসুলে করিম (সা.) তাঁর আদরের কন্যা মা ফাতেমার গলদেশে স্নেহের পরশ বুলিয়ে নাতিদ্বয় হাসান ও হোসাইনের কপালে মৃদু চুম্বন করলেন এবং সবাইকে নিয়ে রুটি খেতে বসলেন। ইতিমধ্যে রোগমুক্তির খবর পেয়ে হজরত নবী পাক (সা.)-এর অন্য বিবিগণ ও বিশিষ্ট সাহাবারাও আসেন। সবার উপস্থিতিতে রাসুল (সা.) বললেন, 'সবার আগে আল্লাহর দরবারে আমিই প্রথম যাচ্ছি।'

এরপর হজরত রাসুলে পাক (সা.) মসজিদে নববীতে গিয়ে ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমামতি করেন। কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ শরীরে রাসুলে পাক (সা.)-এর মসজিদে নববীতে আগমন ও নামাজের ইমামতি করায় সাহাবারা অপার আনন্দ ও খুশি হলেন এবং রাসুলে করিম (সা.)-এর সুস্থতা ও রোগমুক্তি দেখে খুশির আতিশয্যে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের মধ্যে দান-খয়রাত করেন। ‘মেশকাতুল আনোয়ার' গ্রন্থে উল্লেখ আছে, এ খুশিতে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সাত হাজার দিনার, হজরত ওমর ফারুক (রা.) পাঁচ হাজার দিনার, হজরত ওসমান (রা.) ১০ হাজার দিনার এবং হজরত আলী (রা.) তিন হাজার দিনার এবং হজরত আবদুর রউফ ইবনে আউফ (রা.) ১০০ উট ও ১০০ ঘোড়া আল্লাহ পাকের নামে গরিব-মিসকিনের মধ্যে দান করে দেন।

মোদ্দা কথা, হজরত রাসুলে করিম (সা.)-এর রোগমুক্তি, শেষ গোসল এবং সুস্থ দেহে মসজিদে নববীতে ইমামতি ইত্যাদি কারণে এই দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণেই সাহাবাদের নীতি অনুসরণে মুসলিম বিশ্ব তথা আমরাও খুশিতে শুকরিয়া ও আনন্দ প্রকাশের জন্য আখেরি চাহার শোম্বার এই মহান দিনটি বিশেষ মর্যাদা সহকারে উদ্যাপন করে থাকি।

সুতরাং আখেরি চাহার শোম্বার এই পবিত্র দিনে অজু-গোসল করে নফল নামাজ আদায়, ইবাদত-বন্দেগি করা এবং রাসুলে পাক (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআনখানি, মিলাদ পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসটি অতিবাহিত হলে এতে প্রভূত কল্যাণ ও পুণ্য সাধিত হবে। এ ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় গরিব-মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে দান-খয়রাত ও খাবার বিতরণ ইত্যাদির মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করার মধ্যেই রয়েছে সত্যিকারের সার্থকতা।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এমএস/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত