সর্বশেষ

  কোম্পানীগঞ্জ প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ   একটি চক্রের হাতে যেন জিম্মি ছাতকের ৩ গ্রামের মানুষ!   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি   কমলগঞ্জের ইসলামপুরে টিভি কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সম্পন্ন   ‘মাতৃমৃত্যু রোধে মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ’   সাদিপুর ইউপি ছাত্রদলের নব-গঠিত কমিটিকে সংবর্ধনা   সারিঘাট প্রবাসী সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ   উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আ’লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে: সাফিয়া খাতুন   এমসি কলেজ ছাত্রাবাস: নেই অাগুনে পোড়া গন্ধ, আছে ফুলের ঘ্রাণ   বিশ্বনাথে ‘দৌলতপুর ইউনিয়ন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ’র উদ্বোধন   সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে: শফিক চৌধুরী   দক্ষিণ সুরমায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইজতেমা ফেরত ৪ মুসল্লি নিহত   ‘সিলেট-২ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হবেন মুনতাসির আলী’   মুনতাসির আলীর সমর্থনে বিশ্বনাথে খেলাফত মজলিসের প্রচার মিছিল   প্রাণিসম্পদ সপ্তাহে বিশ্বনাথে র‌্যালি   কানাইঘাট প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণে তহবিল গঠনে সুধীজনদের নিয়ে সমাবেশ   বিশ্বনাথে ‘দৌলতপুর ইউনিয়ন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ’র উদ্বোধন   আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে ইয়াং স্টার : আশফাক আহমদ   কাল সিলেট আসছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ   ভাটি এলাকার কৃষি ও কৃষক রক্ষার দাবিত ঢাকায় মানববন্ধন

মা, এ দেখাই যে শেষ দেখা...

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২৩ ২৩:০১:১৩

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫ ॥ ‘মা, জননী, জন্মভূমি ছাড়িয়া গেলাম। জানি না, ওখানে জন্মভূমির মতো মাতৃছায়া পাবো কিনা। হামার জন্য আর্শিবাদ চাই। শেষ বারের মতো আর্শিবাদ করেন। হয়তো আর কোনো দিন দেখা-সাক্ষাৎ হবে না। এ দেখাই যে শেষ দেখা হবে, কখনোই ভাবি নাই।’

সোমবার সকালে চিরকালের জন্য নিজের জন্মভিটা ছেড়ে ভারতে নতুন ঠিকানার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পাটগ্রামের বিলুপ্ত ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলের বর্মণপাড়ার ষাটোর্ধ উকিল চন্দ্র বর্মণ।

বিদায় নেয়ার আগে এসব কথা বলে বিলাপ করতে থাকেন। এসময় উকিল বর্মণ আরো বলেন, হামার সবাকে ক্ষমা করে দিবেন হে ভগবান! তোমার কাছে প্রণাম করিতেছি, তুমি বঙ্গজননী, জন্মভূমির সবাকে ভালো রাখিও। ভাল থাকিস।’

সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে বিদায় নিতে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন উকিল চন্দ্র। এসময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
 
জন্ম ভিটামাটি ও প্রতিবেশীদের মায়াজাল ছিন্ন করে ভারতে চলে যাওয়া পাটগ্রামের বিলুপ্ত ৪টি ছিটমহলের ৩০টি পরিবারের ১৩০ ট্রাভেলপাসধারীর নেতৃত্ব দেন এই উকিল চন্দ্র বর্মণ। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে। এক ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশেই। বাকি তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন ভারতের কোচবিহার জেলার ধুবগুড়ি ও নয়ারহাট এলাকায়।

উকিল বর্মণের ছেলে হৃদয় বর্মণ ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে রেখেই চলে গেলেন মা শশী বালা। কিন্তু যাওয়ার আগে মা-ছেলের হৃদয়বিদারক আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পাটগ্রামের আকাশ বাতাস।

মাকে জড়িয়ে ধরে হৃদয় বারবার ডুকরে ডুকরে কেঁদে বলছিলেন, ‘মা জানি না আর কবে তোমার সাথে দেখা হবে। কবে দেখতে পাব তোমার মায়াবি মুখটাকে! আশিবার্দ করিও মা , ক্ষমা করিও আমাকে।

নেবিচ্ছেদের এই কান্না শুধু উকিল চন্দ্র বর্মন ও শশী বালার একার নয়। তার মতো ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলের অনেকেরই। বর্মণপাড়ার উকিল চন্দ্রের মতো ডুকরে কাঁদছিলেন স্কুলছাত্রী সুচরিতা রাণী বর্মণ, জোসনা রানী বর্মণ, সুমন চন্দ্র বর্মণসহ অন্যরা। যেন তাদের কান্নায় ১১৯, ১১২, ১১৫ নম্বর বাঁশকাটা ও ১৫ নম্বর খরিখরি ছিটমহলের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

ভারতে গমনেচ্ছুকদের কান্নায় স্থানীয় প্রতিবেশীরাও কান্নায় আবেগাপ্লুত হন। এসময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সোমবার দুপুর একটার দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষে জিরোপয়েন্টে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর কুতুবুল আলম ভারতের নয়া ঠিকানায় যাওয়া এসব নাগরিককে মিষ্টি মুখ করান। রজনীগন্ধার একটি করে স্টিক হাতে তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। এসময় পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল ও জোংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদুন্নবী শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, ভারতের কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলা শাসক আয়শা রাণী ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব রামাকান্ত গুপ্তা উপস্থিত থেকে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে হাতে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পাশেই স্থাপিত মঞ্চে ভারতীয় শিল্পীরা মলিন চেহারার নয়া নাগরিকদের মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশনে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এছাড়াও বৈরাতি নৃত্য পরিবেশনও করা হয়।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত