সর্বশেষ

  সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের লিজ বাতিল ও কর্মসংস্থানের দাবিতে মানববন্ধন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ   জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু রিয়াজের চিকিৎসার জন্য অনুদান   অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান ৩ দিনের সফরে সুনামগঞ্জে আসছেন আজ   জগন্নাথপুরে চালের বরাদ্দ দিগুণ করা হলেও বাড়েনি বিক্রয় কেন্দ্র   ২০ দিন ধরে সারী ও বড়গাং নদীর রয়েল্টি বঞ্চিত ইজারাদার   গোয়াইনঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই রোগী   অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর জাউয়ার ব্যবসায়ীর অভিযোগ   ওসমানী বিমানবন্দরে ৬০ লাখ টাকার সিগারেট আটক   যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা উপলক্ষে সাংবাদিক তুহিন চৌধুরীকে জেলা প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা   সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত   শিবের বাজার আদর্শ ব্যবসায়ী সংস্থার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন শনিবার   দক্ষিণ সুরমায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু   মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষতি   কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সম্পন্ন   তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট পূর্ব জেলার কাউন্সিল সম্পন্ন   শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর দেব পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি মনোনীত   রোববার শাল্লা আসছেন শেখ হাসিনা: স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি   শ্রীমঙ্গলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে : আহত ১৪   ভোগের নয়, আ’লীগের রাজনীতি ত্যাগের: বিশ্বনাথে সংবর্ধনা সভায় শফিক চৌধুরী

পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে তলব করে ‘কড়া প্রতিবাদ’

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২৩ ১৬:৪০:০১

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫ ॥ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পর দেশটির হাই কমিশনারকে তলব করে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে ঢাকায় পাকিস্তানের হাই কমিশনার সুজা আলম সোমবার রাষ্ট্রীয় ভবন পদ্মায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মিজানুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

মিজানুর রহমান পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে রোববার প্রথম প্রহরে সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদের মৃতুদণ্ডের রায় কার্যকর করার পর এক বিবৃতিতে উদ্বেগের কথা জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আমরা গভীর উদ্বেগ ও বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করলাম।”

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের এই বিচারকে ‘প্রহসন’ আখ্যায়িত করে এ নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার’ কথা বলা হয় ওই বিবৃতিতে।

পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ চুক্তির আলোকে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ঢাকার প্রতি আহ্বান জানায় ইসলামাবাদ।  

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে রোববারই পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর সুজা আলম সোমবার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দেখা করেন।  

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও উদ্বেগ জানিয়েছিল পাকিস্তান।

‘পাকিস্তানের প্রতি অনুগত এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করায়’ কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে দাবি করে সে সময় দেশটির পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়।

তা নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে ওই প্রস্তাব গ্রহণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

২৫ বছরের শোষণ-বঞ্চনার পর বাঙালিদের স্বাধিকারের দাবিকে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নির্বিচার হত্যাকাণ্ড শুরু করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

তখন প্রতিরোধ ‍যুদ্ধে নামে বাঙালিরা। নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে।   

একাত্তরে বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি বাহিনী এদেশেরই কিছু দোসর পেয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাতে সমর্থন দেয়; গঠন করে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী।

মুসলিম লীগ নেতা পাকিস্তান গণপরিষদের সাবেক স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালাউদ্দিন কাদের একাত্তরে ‘চট্টগ্রামের ত্রাস’ হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দালাল আইনে গ্রেপ্তার হয়ে বন্দি অবস্থায় মারা যান ফজলুল কাদের। তার ছেলে সালাউদ্দিন বাংলাদেশের মন্ত্রীও হয়েছিলেন। 

একাত্তরে আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন মুজাহিদ। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন তারই নেতৃত্বে হয়েছিল বলে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে উঠে এসেছে। তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন, মন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলে  পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী নামে একটি শাখা কাজ করত। স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামে সক্রিয় হয় দলটি। 

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের মধ্যে অধিকাংশই জামায়াত নেতা এবং তাদের রায়ের পর পাকিস্তান জামায়াত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এমওআর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত