সর্বশেষ

  রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারের দাবীতে ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরীর বিক্ষোভ   'শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্ঠায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার'   রিয়ালকে জয়ে ফেরালেন নবীন সেবায়োস   কমেছে চালের দাম, কমবে আরও   লন্ডনে আবারো এসিড হামলা, আহত ৬   তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল   মহিউদ্দিন শীরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৫ সেপ্টেম্বর   ধর্ম যার যার, উৎসব সবার : কামরান   ওসমানীনগরে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর, প্রশাসন নিরব   জগন্নাথপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু   ফেঞ্চুগঞ্জে সড়ক মেরামতের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা   মৌলভীবাজারে ‘শিক্ষা দিবস’ পালিত   হত্যা মামলার আসামী টিটু ও সুলেমান এখনও অধরা   ফেঞ্চুগঞ্জে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সাথে প্রশাসনের সভা   রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত   দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট মহানগর পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি   নগরী থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ   বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষাখাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে : এমপি আবু জাহির   সিলেটে ছিনতাইকারী বাবলু ও শরীফ আটক   সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন

সাকার ফাঁসি কার্যকর

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২২ ০০:৫০:৩৮

আপডেট : ২০১৫-১১-২২ ০০:৫৭:২৬

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : রোববার, ২২ নভেম্বর ২০১৫ ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২ টার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। কারাসূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার একইসঙ্গে জামায়াতের শীর্ষনেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশ কারাগারে পৌঁছায়।

এক সময়ের প্রবল প্রতাপশালী এই সাংসদ যিনি নিজেকে সব সময়ই মনে করতেন আইনের ঊর্ধ্বে, ফাঁসির মধ্যদিয়ে তার সব দম্ভ চূর্ণ হলো। দেশের এই শীর্ষ মানবতাবিরোধীর ফাঁসি কার্যকর করার মধ্যদিয়ে কিছুটা দায়মুক্ত হলো বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে চার দশকের বেশি সময় আগে চট্টগ্রামে রাউজানে যেসব মুক্তিযোদ্ধা ও সংখ্যালঘু সাকা চৌধুরীর হত্যা, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তাদের ক্ষোভ সামান্য হলেও প্রশমিত হলো।      

গত বুধবার আপিল বিভাগ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন। আর ওই রায়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে যায় আইনি লড়াই।
 
রিভিউ খারিজ হওয়ার পর প্রাণভিক্ষাই ছিল সাকা চৌধুরীর একমাত্র পথ। কিন্তু প্রাণভিক্ষা নিয়ে সাকা চৌধুরী টালবাহানা করতে থাকেন। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। তবে সেই সুযোগ তিনি পাননি।

আজ দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে সালাউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রাণ ভিক্ষার ব্যাপারে জানতে চান। পরে সালাউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন।
 
প্রাণভিক্ষার সেই আবেদন প্রথম যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতামত দেয়ার পর নথি যায় আইনমন্ত্রীর কাছে। আইনমন্ত্রীও মতামত দেয়ার পর প্রাণভিক্ষার ফাইল নিয়ে যাওয়া হয় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের। রাত ৯টার দিকে আইনসচিব বেরিয়ে আসেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার পরই শুরু হয় দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া।   

ডাকা হয় তার পরিবারের সদস্যরা। রাত রাড়ে ৯টার দিকে মূল ফটক দিয়ে তাদের কারাগারে প্রবেশ করানো হয়। শেষ দেখার পর রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এ সরকার যেহেতু বাবাকে নির্বাচনে হারাতে পারেনি তাই একটু পরে হয়তো তার জানটা কেড়ে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাণভিক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাবা (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) আমাদের বলেছেন- এই বাজে কথা (প্রাণভিক্ষা) তোমাদেরকে কে বলেছে?’

উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাকার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে মোট ১ হাজার ৩২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্রে বিভিন্ন ডকুমেন্টসহ ২৭টি গ্রাউন্ড ছিল। 

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে চারটিতে (অভিযোগ নং- ৩, ৫, ৬ ও ৮) তাকে ওই শাস্তি দেয়া হয়। এছাড়া তিনটি (অভিযোগ নং- ২, ৪ ও ৭) অভিযোগে তাকে ২০ বছরের ও দুটি (অভিযোগ নং- ১৭ ও ১৮) অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর ওই অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ২৩টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত