সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

কোটা নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী যা বললেন

প্রকাশিত : ২০১৮-০৪-১১ ১৯:৫০:১৭

আপডেট : ২০১৮-০৪-১১ ২২:০১:৪৫

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : বুধবার, ১১ এপ্রিল ২০১৮ ॥ কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এ নিয়ে কথা বলেছেন। সরকারদলীয় সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা হলো, একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ দিল, কেবিনেট সেক্রেটারিকে আমি দায়িত্ব দিলাম। তারা সে সময়টা দিল না। মানি না, মানব না বলে তারা যখন বসে গেল, আস্তে আস্তে সব তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো। খুব ভালো কথা, সংস্কার সংস্কার বলে...সংস্কার করতে গেলে আরেক দল এসে বলবে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই সংস্কার। আর কোটা না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই। আর যদি দরকার হয় আমাদের কেবিনেট সেক্রেটারি তো আছেন। আমি তো তাঁকে বলেই দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বসে তাঁরা কাজ করবেন। সেটা তাঁরা দেখবেন। আমি মনে করি, এ রকম আন্দোলন বারবার হবে। বারবার শিক্ষার সময় নষ্ট হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ইউনিভার্সিটিগুলোতে ক্লাস বন্ধ। পড়াশোনা বন্ধ। এরপর আবার ভিসির বাড়ি আক্রমণ। রাস্তাঘাটে যানজট। মানুষের কষ্ট। সাধারণ মানুষের কষ্ট। সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট পাবে কেন? এই বারবার কষ্ট বন্ধ করার জন্য, আর বারবার এই আন্দোলনের ঝামেলা মেটাবার জন্য কোটাপদ্ধতি বাতিল। পরিষ্কার কথা। আমি এটাই মনে করি, সেটা হলো বাতিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুব দুঃখ লাগে যখন দেখলাম, হঠাৎ কোটা চাই না। কোট সংস্কারের আন্দোলন। আন্দোলনটা কী? লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়ে রাস্তায় বসে থাকা। রাস্তায় চলাচল বন্ধ করা। এমনকি হাসপাতালে রোগী যেতে পারছে না। কর্মস্থলে মানুষ যেতে পারছে না। লেখাপড়া-পরীক্ষা বন্ধ করে বসে আছে। এ ঘটনা যেন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমিই গড়ে তুলেছিলাম। আজকে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব, যা কিছুই ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো তো আমাদেরই করা। আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দেব, সে শিক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু গঠনমূলক কাজে ব্যবহৃত না হয়ে সেটা গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটা ছেলের মাথায় আঘাত লেগেছে। হঠাৎ একজন স্ট্যাটাস দিয়ে দিল যে সে মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়ে সব বেরিয়ে গেল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাত একটার সময় হলের গেট ভেঙে মেয়েরা বেরিয়ে এল। শুধু একটি গুজবের ওপর। সে ছেলে যখন বলল আমি মরি নাই, বেঁচে আছে, তখন তাদের মুখটা থাকে কোথায়। এই স্ট্যাটাসটা কে দিল? কেন দেওয়া হলো। এই যে মেয়েরা বেরিয়ে এসেছে, অঘটন ঘটলে কে দায় নিত। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হলো ভিসির বাড়িতে আক্রমণ। আমরা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সব আন্দোলনে সেখানে ছিলাম। স্কুল–কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি আন্দোলন করতে। কখনো ভিসির বাড়িতে গিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ভাঙচুর করতে পারে, সে ভাঙচুরটা কী? ছবি দেখে মনে পড়ছিল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে আমাদের ৩২ নম্বরে ভাঙচুর করেছিল, ঠিক একই কায়দায়। এমনকি লকার ভেঙে গয়নাগাটি চুরি করা, টাকাপয়সা চুরি করা থেকে শুরু করে বাথরুমের কমোড খুলে রাখা, ভেঙে চুরমার করে দেওয়া। ভিসি তাঁর স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও ভিসির ওপর আঘাত পর্যন্ত করতে গিয়েছিল। যদিও অন্য ছেলেরা তাঁকে বাঁচিয়েছে। ছেলেমেয়েদের ভয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। একতলা–দোতলা সব তছনছ। শুধু তা–ই নয়, তারা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সিসি ক্যামের ভেঙেছে। রেকর্ডিং বক্সটা পর্যন্ত সরিয়ে নিয়ে গেছে। কত পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না বা ছাত্র বলে আমি মনে করি না। কারণ কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে এভাবে অপমান করতে পারে না, আঘাত করতে পারে না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সব থেকে জঘন্য ঘটন ঘটিয়েছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটা কী ধরনের কথা।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘তারা দাবি করেছে, খুব ভালো কথা। আমরাতো বসে নেই। সোমবারে কেবিনেটে বসে এ বিষয়টা আলোচনা করলাম। আমাদের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের সঙ্গে বসবে, এবং বসল। সে সঙ্গে আমি কেবিনেট সেক্রেটারিকে যার কাজ এটা, নির্দেশ দিলাম এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন। যাকে যাকে দরকার তাদের নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন। যে দাবিটা করেছে তা কতটুকু কী করা যায়। আর মন্ত্রী গেল তাদের সঙ্গে বসল। সমঝোতা হলো। অনেকে মেনে নিল, অনেকে মানল না। সারা রাত বেশ অনেক ছাত্রছাত্রী টিএসসিতে থেকে গেল। কেন? আলোচনা হচ্ছে, আন্দোলন চালানোর কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে। তা ছাড়া ভিসির বাড়ি ভাঙা, রাস্তায় আগুন দেওয়া। এমনকি মঙ্গল শোভাযাত্রার জিনিস পুড়িয়ে তছনছ।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েরা যে এত রাতে হল থেকে বেরিয়ে আসল। মাননীয় স্পিকার আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমি বারবার ফোন করেছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে নানককে পাঠিয়েছি।সে ওখানে গেল। প্রেসকে বলল। আলোচনা করল। তারপরও তারা কোনো কিছু মানল না। এমনকি ঢাকার বাইরে সবাই রাস্তায় নেমে গেল। কী কোটা সংস্কার। এ দাবি একবার না আরও অনেকবার এসেছে। আমরা একটি নীতি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। আমাদের ছেলে মেয়ে যারা করছে আমাদের ছেলে মেয়ে কেন অনেকে আমার নাতির বয়সী। তাদের কীসে মঙ্গল হবে না হবে আমরা কি বুঝি না? ১৯৭২ সাল থেকে এ কোটা পদ্ধতি চলছে। সময়-সময় সংস্কার করা হয়েছে। কোটা যাই থাক, আমরা সব সময় যে কোটা পূরণ না হয়, যে তালিকা থাকে সেখান থেকে তাদের চাকরি দিয়ে দিই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩৩ তম বিসিএসে মেধার ভিত্তিতে ৭৭.৪০ নিয়োগ পেয়েছে। ৩৫তম ৬৭.৪৯, ৩৬ তম ৭০. ৩৮ ভাগ। মেধাবীরা বাদ যায়নি। চলছে। মানছে। কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধার থেকে পূরণ করা হচ্ছে। সবাই মেধাবী। রিটেনে পাশ করতে হয়। বিসিএস যারা দেয় তারা সবাই মেধাবী। কোটায় যারা তারাও একসঙ্গে পরীক্ষা দেয়। রিটেনে তাদের পাশ করতে হয়। সেখানে কোথায় সংস্কার একটা দাবিতে বলা আছে, যেখানে কোটায় পাওয়া যাবে না মেধা থেকে দেওয়া হবে। এটাতো হচ্ছে। আমার দু:খ লাগে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো প্রফেসর, বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তারা আবার একই সুরে কথা বলছেন। তারা দেখেনই নাই আমরা মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দিচ্ছি। না হলে ৭৭ ভাগ কোথা থেকে। কোটায় যারা পাচ্ছে তারাও মেধাবী। তার মানে শতভাগ মেধাবী। তারপরও আন্দোলন। তাহলে ঠিক আছে আজকে সকালে আমার কাছে যখন ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক আসল, আমরা তিন দিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। এই চৈত্রের রোদের মধ্যে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় বসে আছে, এই রোদে বসে থাকলেতো তাদের অসুখ বিসুখ হবে। রাস্তা বন্ধ করে রাখছে। এমনি তীব্র যানজট, রোগী যেতে পারছে না হাসপাতালে, গাড়িতেই মারা যাচ্ছে। কেউ অফিস আদলতে যেতে পারছে না। জেলা কোটা আছে। জেলায় জেলায় যে ইউনিভার্সিটি সেখানেও তারা রাস্তায় নেমে গেছে। জেলায় যারা তারাও চায় না। এরাও চায় না। তাহলে আমি বলে দিয়েছি বলো, কোনো কোটাই থাকবে না। কোনো কোটার দরকার নাই। ঠিক আছে বিসিএস যেভাবে পরীক্ষা হবে মেধার মাধ্যমে সব নিয়োগ হবে। এতে তো আপত্তি থাকার কথা না। আমরা কোনো শ্রেণি যাতে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের সংবিধানে আছে সেদিকে লক্ষ্য রেখে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারীরা, এখন দেখি মেয়েরাও নেমে নেমে গেছে রাস্তায়। ধরে নেব তরা কোটা চায় না। যখন আলোচনা হয়েছে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে লে দিয়েছে তারা কটা চায় না। আমি খুব খুশি। আমি নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা চায় না, তাহলে দরকারটা কী। কোটা পদ্ধতিরই দরকার নই। যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী তাদের অন্যভাবে চাকরি ব্যবস্থা করে দিতে পারব। এই আন্দোলন যারা করেছে যথেষ্ট, এখন তারা ক্লাসে ফিরে যাক। ভিসির বাড়ি যারা ভেঙেছে, লুটপাট করেছে, লুটের মাল কোথায় আছে, কার কাছে আছে ছাত্রদেরই তো বের করে দিতে হবে। যারা ভাঙচুরে জড়িত তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। ছাত্র শিক্ষকের সহযোগিতা চাই। এত বড় অন্যায় আমরা মেনে নিতে পারি না। এখনো শিক্ষক যারা বেচে আছি তাদের সম্মান করি। গুরুজনকে অপমান করে প্রকৃত শিক্ষা হয় না।

নানক জানতে চান সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সুযোগ নিয়ে কিছু তথাকথিত সুবিধাবাদী ও স্বাধীনতা বিরোধী গণধিক্কৃত গোষ্ঠী ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে রাতের আঁধারে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর নারকিয়তাকেও হার মানিয়েছে। এই কোটা পদ্ধতি নিয়ে ওবায়দুল কাদের আপনার মনোভাব জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীরাও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারপরও লক্ষ্য করছি অতীতের মতো পরাজিত, মতলববাজ, দুষ্ট চক্র অর্থপাচারকারী দল গুজব উসকানি ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে চাইছি। ছড়ানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে চান।’
উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এমওআর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত