সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী বললেন কোটারই দরকার নেই

প্রকাশিত : ২০১৮-০৪-১১ ১৯:১৪:৪০

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এমওআর ॥ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি একেবারেই তুলে দেওয়ার কথা বললেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়ার মধ্যে বুধবার বিকালে সংসদে একথা বলেন সরকার প্রধান।

আন্দোলনকারীরা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দুদিন আগে বৈঠক করলেও প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বুধবার সকালে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিকালে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কথা বলবেন।

সংসদে বিষয়টি ওঠার পর বক্তব্যের প্রায় প্রতিটি ছত্রে আন্দোলন নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

তাদের দাবি শুনে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দেওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আন্দোলন যথেষ্ট করেছে, এবার তারা বাড়ি ফিরে যাক।”

আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে এতে জড়িতদের শাস্তির কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা ভাংচুর লুটপাটে জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। লুটের মাল কোথায় আছে, তা ছাত্রদেরই বের করে দিতে হবে।”

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, তারা রাতে বসে এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছে। তারা কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেল মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও জানায়।

আন্দোলনকারী এবং তাদের সমর্থনকারী বিভিন্ন শিক্ষকের ‘অজ্ঞতার’ বিষয়টি তুলে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের যে দাবিনামা, সেটাও স্পষ্ট না। তারা কি এটাও জানে না, কোটায় না পাওয়া গেলে মেধা তালিকা থেকে নেওয়া হয়। এটা তো নেওয়া হচ্ছে।”

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

ওই নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তারপরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।

“আমাদের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাদের সঙ্গে বসল। আমি কেবিনেট সেক্রেটারিকে বল্লাম, আপনি এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তাদের দাবিটায় কী করা যায়। অনেকে মেনে নিল, অনেকে মানল না। সারারাত টিএসসিতে তারা থেকে গেল? কেন, এরপরও এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে?”

তিনি বলেন, “আন্দোলনটা কী, সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে রাস্তায় বসে যাওয়া। হাসপাতালে মানুষ যেতে পারে না। ঢাকার বাইরে সবাই রাস্তায় নেমে গেছে।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরাই গড়ে তুলেছি। সেই কাজ গঠনমূলক কাজে ব্যবহার না করে গুজব ছড়ানোর কাজ..  এমনকি মেয়েরা, রাত ১টার সময় হলের গেইট ভেঙে মেয়েরা বেরিয়ে পড়ল।

“মেয়েরা কীভাবে এত রাতে বেরিয়ে এল? আমি চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারিনি। নানককে (জাহাঙ্গীর কবির নানক) পাঠিয়েছি।”

কোটা সংস্কারের দাবির আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অংয়শগ্রহণ এবং জেলায় জেলায় শিক্ষার্থীদের নেমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “এরাও চায় না, ওরাও চায় না। ঠিক আছে; কোটাই থাকবে না। কোটার দরকারই নাই। বিসিএসে যাবে, পরীক্ষা হলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবে।”

স্বাধীনতার পর কোটা পদ্ধতি চালুর পর বিভিন্ন সময় তা সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বিরক্তিভরে বলেন, “কোটা থাকলেই সংস্কার। না থাকলে সংস্কারের দরকারই নেই। আন্দোলন হলে সময় নষ্ট হবে।”

এই আন্দোলন শুরুর পর সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক জনসভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।

“মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বিধায় তাদের অধিকার সবার আগে। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি সবাই সর্বাগ্রে অধিকার ভোগ করবে। সে কারণে চাকরিতে আমরা কোটার ব্যবস্থা করেছি।”

বুধবার সংসদে বক্তব্যেও কোটা কেন রাখা হয়, সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, পিছিয়ে থাকা জনপদের মানুষদের তুলে আনতে এই কোটা ব্যবস্থা।

কোটা তুলে দেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি তিনি সংস্কারের সুযোগ থাকার কথাও বলেন।
“যদি দরকার হয় কেবিনেট সেক্রেটারি তো আছেই।”

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা গত রোববার শাহবাগে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের পিটিয়ে তুলে দেয়। এই সংঘাতের মধ্যে মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, “সবচেয়ে বড় হল ভিসির বাড়ি আক্রমণ। ওই ছবি দেখে আমার মনে হচ্ছিল, একাত্তরের আমাদের ৩২ নম্বরের  বাড়িতে যেভাবে হামলা হয়েছিল, সেই রকম। একতলা, দোতলা সব তছনছ। সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত ভেঙেছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

উপাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতারা আন্দোলনকারীদের অন্য মতলব রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “এত বড় অন্যায় মেনে নিতে পারি না। গুরুজনকে অপমান করে প্রকৃত শিক্ষা লাভ করা যায় না। সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। ছাত্ররা এরকম ধ্বংসাত্মক কাজ করে কী ভাবে?

“যারা ভাংচুর লুটপাটে জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। লুটের মাল কোথায় আছে, তা ছাত্রদেরই বের করে দিতে হবে।”

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এমওআর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত