সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

আমার কবিতা আমার সমাজ আমার সময়

প্রকাশিত : ২০১৭-১১-০১ ১৯:৩৪:৩৮

শরতচান্দ থিয়াম ( শরতচান্দ থিয়ামের জন্ম ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১ সনে ইম্ফাল, মনিপুরে। ছাত্রাবস্থাতেই কবিতায় হাতেখড়ি। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তেঙ্গালি কারবা পোদোন’ যখন বেরোয় বয়স তখন সবেমাত্র উনিশ। সে থেকে আজ অব্দি লিখে যাচ্ছেন নিরন্তর। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা মোট ১৪টি। এরমধ্যে ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘নুংশিবী গ্রীস’ ( প্রিয়তমা গ্রীস ) গ্রন্থের জন্য দিল্লী সাহিত্য একাডেমি এওয়ার্ড পেয়েছেন ২০০৬ সালে। কবি শরতচান্দ থিয়ামের মুল প্রবন্ধটি বাংলায় অনূবাদ করেছে কবি মাইবম সাধন )

অর্ন্তজালের এই দুনিয়ায় মনুষ্যপৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে পড়েছে। সেকেন্ডেই যেকোন প্রান্তে যোগাযোগ করা যায়। পুরো পৃথিবীই এখন আমাদের মুঠোয়। অনতিদূরে, আমরা একটি বৈশ্বিক পরিবারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি ক্রমাগত। সমাজ, যেখানে আমি বাস করছি- এই বৈশ্বিক পরিবারেরই একটি অংশ যা নানামুখি প্রতিকুল- প্রতিবন্ধকতায় বিচুর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।
তবে, ‘পৃথিবী’ নামের এই বিরল গ্রহে জন্মে আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান। একই সাথে আশাহত হই- ওমন বৈশ্বিক পরিবারের ভগ্নাংশে যখন নিজেকে আবিষ্কার করি। এই পরিবারগুলো নিজেদের সামান্য ‘সমৃদ্ধি’ আর ‘উন্নয়ন’ এর জন্য জীবনভর ক্ষত বয়ে চলে। ক্রমাগত পরিবর্তন, বিশ্বের বয়সের পরিবর্তনের সাথে মানুষকে চারিত্র্যহীন করে তুলেছে। এই দু:খী রাষ্ট্রকে ব্যাখ্যা করার উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নাই। এই সমাজকে কীভাবে আমি আমার কবিতার জানালা দিয়ে দেখবো? সাধারণ জনগণের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তো কোন কবিতা লিখিনি! আমার কবিতা, একটি মগ্ন চৈতন্য যা নিজের অসঙ্গতির ফল। এটিই আমার আরোপিত সময় যা সূদুরের জন্য শুধুই অনাগত নির্যাস। সময়, যার কোন আদি ও অন্ত নেই- কেবলই চলমান।
আমার কবিতা, আমার সমাজ, আমার সময় এবং আমি; সবকিছুই যেন বিমূর্ত। পৃথিবীও বিমূর্তে পূর্ণ। সমাজ এখানে স্তুপাকৃত একটি পিন্ডের মতো। মানুষ, সৃষ্টির নীতি উপেক্ষা করে নিজেদের মধ্যেই বৈরিতা জাগিয়ে তুলছে। মানবসৃষ্ট এই অপচারগুলো আমার সাময়িক কাব্যগুলোতেও সুস্পষ্ট। প্রাণহীন জীবন, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রথা বিরুদ্ধ জীবন ও সংস্কৃতিই এসব নির্জীবতার কারণ। সহকর্মী, সহযাত্রী হিসেবে পৃথিবী নামক গ্রহে আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি এই গ্রহ ভালোবাসি, আর এই প্রাণের অস্তিত্ব। কোন একদিন যখন মানবজাতি বিলুপ্ত হবে- যেরকম ডাইনোসররা জুরাসিক যুগে হয়েছে। তখন আমার কবিতা সূদুরে, পরাহত থাকবে। প্রতিটি শব্দ মানবজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য সৈনিকের বেশে কাজ করবে।
আমার জন্য, সত্যি বলতে এটা একটা খুব কঠিন কাজ। যে সমাজে আমি বাস করি তার সাপেক্ষে কাব্যিক চরিত্র বর্ণনা। যাই হোক, আমি আসলে ফ্রয়েড দ্বারা প্রভাবিত এবং তার রহস্যময় অহমবোধ আমার কাছে কেবলই অবচেতন অর্চনা। একথা সর্বজনবিদীত, ফ্রয়েড ও তার অনুসারীরা সামাজিক ফ্যাক্টরগুলোকে উপেক্ষা করে যেমন: ব্যক্তিত্ব, মানবিক ব্যবহার এবং মনো:স্তাত্বিকতার। আমি মনে করি, অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পের মতই কবিতার উপজীব্যতা- যা প্রমাণত কবি’র আত্মকথনের বহি:প্রকাশ ও অবচেতন গোলকের স্বরূপ। এভাবেই সে মানুষের গভীরতা আবিষ্কার করে, যেখানে সে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলে। কবি যেন দন্ডপ্রাপ্ত সাজাভোগী এবং স্পষ্টত নিঃসঙ্গ। যেহেতু মানব অস্তিত্ব ক্রমশ অযৌক্তিক, ভয় ও মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।
ইদানিংকালে কবিরা এবং পূর্বতন লেখকেরা এ বিষয়ে আরো কেন্দ্রীভুত হয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদই পশ্চিমা শিল্পকলার নেতৃত্বে। তবে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেয়া আধুনিক কবিদের প্রয়াস কেবল শিল্পভাঙা নয়। আমেরিকান পন্ডিত চার্লস গ্লিকসবার্গ লেখক ও কবি’র মধ্যকার সহজাত অসঙ্গতি তুলে ধরেন যার আধেয় মানুষের ক্রম বিচ্ছিন্নতা-
“এই অপরিচিত ও প্রতিকূল বিশ্বে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ আজ নিজের মধ্যেই নিজেকে বন্দী করে নিয়েছে। একসময় বুঝতে পারে যে, সে নিজেকেই বুঝতে পারছে না। এক দীর্ঘ স্বগতোক্তির মধ্যে ডুবে গিয়ে সে নিজের এমন এক স্তরের আত্মদর্শন গড়ে তোলে যে, সে তখন সম্পূর্ণ একা হয়ে যায়। চারপাশের সমাজের অন্য সকল সদস্যদের কাছ থেকে সে নিজেকে পৃথক করে ফেলে। আধুনিক সাহিত্যের বুদ্ধিমান নায়ক হিসেবে সে প্রায়শঃই নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠে আর পরিণামে সে নিজের উপলব্ধি ও চিন্তাধারার ওপর, যে ভাষা সে ব্যবহার করে তার ওপর আর যে বিশ্বাস সে একসময় হৃদয়ে লালন করতো তার ওপরও অবিশ্বস্ত হয়ে ওঠে! কোন কিছুই তার কাছে আর সত্য হয়ে ধরা দেয় না, এমনকি নিজেকেও না।”
তাহলে আমি কি সত্যিই নিঃসঙ্গ? আমার কবিতা পাঠকরা কি গূঢ়? প্রায়শই নিজেকে জিজ্ঞেস করি- আমার কবিতা পাঠকরা হয়তো সেসব অনুভব করে জনসম্মুখে উপস্থাপিত অনুবন্ধ, বিধেয়-আধেয়গুলো যার মাধ্যমে বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীভূত হয়, আমি এ ব্যাপারে অবচেতন। আমার কবিতা আমার সমাজ কাঠামোর এবং আমার সময় বাস্তবতার অনুকরণ নয়। কিন্তু আমি সর্বদা একটি নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা করেছি। আমার কথা আমার ভেতরের স্বআত্মার প্রকাশ, যা নিঠুর সমাজ ও সময়ে পদদলিত হয়েও মৃত্যুহীন আত্মার প্রতীক।


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত