সর্বশেষ

  ছাতকে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১   শ্রীমঙ্গল বিজিবি’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন   মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন জাতির সূর্যসন্তান : শফিক চৌধুরী   বিয়ানীবাজার পৌর মেয়রের বাজেটে বড় চমক : সাড়ে ৪৬ কোটি টাকার বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ৯১ শতাংশের বেশি   দিরাইয়ে যুব নারীদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন   ডিএনএ রিপোর্টে সত্যতা মেলেনি : আতিয়া মহলে নিহতদের মধ্যে নেই জঙ্গি মুসা   বাহুবলে অবৈধ স্পিরিট বিক্রি করায় দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা   ছাতকে ১৬টি বিষধর সাপ আটক   সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের অসহনীয় চাঁদাবাজী   যাকাতের অর্থ আয়বর্ধক কাজে ব্যয় করতে হবে: রাহাত আনোয়ার   বজ্রপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধস   কমলগঞ্জে সংসদ সদস্য’র ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বিতরণ   এপেক্সিয়ান চন্দন দাসের মায়ের মৃত্যুতে সাবেক মেয়র কামরানের শোক   মওদুদের জন্য খাট পাঠাতে চান নাসিম   মসজিদ আল হারামে শবে কদরের রাতে ২০ লাখের বেশি মানুষ মোনাজাতে শরীক   পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের শুভেচ্ছা   জ্যেষ্ঠ সাংসদদের পাশে পাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী   গাজীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ১ জনের মৃত্যু   গ্রামীনফোন’র ঈদ আয়োজনে আয়নাবাজি : ৪টি চ্যানেল, ২০টি নাটক   বৃষ্টির দিনে যেমন পোশাক

‘মাইরা ভালই করল্যান স্যার’

প্রকাশিত : ২০১৫-০৫-২৯ ১৩:৫৬:২১

নিউজ ডেস্ক ॥ “তখন আমরা মনোহরপুকুর রোডে ভাড়াবাড়িতে থাকি। আমার বয়স চার। জেঠিমাকে খুব ভালবাসতাম। জেঠিমাও আমায় চোখে চোখে রাখতো। কত দিন গেছে, ঘুমনোর সময় আমি জেঠিমার বুকের ওপর শুয়ে পড়তাম। আমি ওকে ডাকতাম বমা। বমার কাছে আমি ছিলাম সোনার গোপাল।

শীতের দুপুর। দোতলার বারান্দায় রোদছায়া আলো। বারান্দার মেঝেতে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল জেঠিমা। আমায় হঠাৎ দুষ্টুমিতে পেয়ে বসল।
দেখলাম একটা মিষ্টির ভাঁড়ে বেশ খানিকটা রস পড়ে আছে। ব্যস্, বুদ্ধিটা খেলে গেল। কাত হয়ে ঘুমোচ্ছিল জেঠিমা। ভাঁড়টা নিয়ে ওর কানে পুরো রসটা যত্ন করে ঢেলে দিলাম। রসের সুড়সুড়ি খেয়ে তড়াক করে উঠে বসে কানে হাত দিয়ে জেঠিমা বলে উঠল, ‘কী দিলি রে, কী দিলি রে সোনার গোপাল?’ আর কী দিলি! আমি পালাতে পারলে বাঁচি।
মা ঘর থেকে ছুটে এসে আমাকে এই মারে, তো সেই মারে। জেঠিমা কিন্তু কিচ্ছু বলল না। বরং মায়ের মার থেকে আমাকে বাঁচিয়ে দিল। এর পর থেকে ওই কানে জেঠিমা আর ভাল করে শুনতে পেত না।
মার্কামারা দুষ্টু ছেলে বলতে যা বোঝায়, আমি ছিলাম তাই। স্কুলে, পাড়ায় মারপিট লেগেই থাকত। বড়দের পিটুনি, মাস্টারমশাইয়ের বেতের ঘাঁ কিছুতেই রোখা যেত না।
ময়মনসিংহর মৃত্যুঞ্জয় ইস্কুলের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আমি তখন দশ কী এগারোতে। বাবা বদলি হওয়াতে আমরা তখন ওখানে।
বাড়ির কাছেই ছিল ব্রহ্মপুত্র নদী। ইস্কুলে যাওয়ার আগে ব্রহ্মপুত্রে সাঁতার না কাটলে যেন ভাত হজম হতো না। সেও আবার দু’দশ মিনিট নয়, টানা এক-দেড় ঘণ্টা। কানে জল ঢুকত রোজ। আর সে জল সহজে বেরও হত না। ওই জলভরা কান নিয়েই ইস্কুলে চলে যেতাম। সে দিনও তাই।
তত দিনে সেই ইস্কুলেও দুষ্টুর শিরোমণি বলে নাম করে ফেলেছি। কিন্তু হাজার কুকাজ করলেও মনিটর বোর্ডে আমার নাম লিখতে ভয় পেত। সে দিন ও আর থাকতে পারেনি। ক্লাসেরই একটা ছেলের সঙ্গে এত মারপিট করেছিলাম যে, বেঞ্চ-টেবিল উল্টেপাল্টে একশা। মনিটর সোজা নাম তুলে দিয়েছিল বোর্ডে।
মাস্টারমশাই বাঙাল। খুব রাগী। এসেই আমার নাম দেখে বললেন, ‘ করছিলা, ক?’ আমি সোজা কথার ছেলে। সটান বললাম, ‘এট্টু মারপিট করতাসিলাম।’ এত স্পষ্ট কথা ওর বোধ হয় সহ্য হয়নি। হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে পিঠে বিরাশি সিক্কার থাপ্পড় মেরে বললেন, ‘সইত্যবাদী যুধিষ্ঠির, না!’ গদাম করে থাপ্পড়টা পিঠে পড়তেই হঠাৎ বুঝলাম কান দিয়ে জলটা বেরিয়ে গেল। তখন পিঠের ব্যথার চেয়ে কানের আরামটাই বেশি বোধ হচ্ছিল। কান মুছতে মুছতে মাস্টারের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘মাইরা ভালই করল্যান স্যার, জল ঢুকছিল, বাহির হইয়্যা গ্যালো।’ এ কথা শুনে কোন মাস্টারমশাই চুপ থাকতে পারেন! ফলে এ বার শুরু হল রামধোলাই।”

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত