সর্বশেষ

  মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি আরবে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা   বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ   শাবি থিয়েটার সাস্টের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন   লাউয়াছড়া উদ্যানে ট্রেনে কাটা পড়ে হরিণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উল্লুকের মৃত্যু   জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া   সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ   মোগলগাঁও ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক, অতঃপর....   ধর্মপাশা মুক্ত দিবস পালিত   মাধবপুরে গোপনে জয়িতা তালিকা!   শ্রীমঙ্গলে ৪ বছরের মাথায় দুটি শাবকের জন্ম দিলো মেছো বাঘ   ভারতে বাংলাদেশী শ্রমিক হত্যায় তাহিরপুর উত্তাল: বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বাতিল   অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা আটক   ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৬ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৫ আসামির বিচার শুরু   মায়ানমারকে মালয়েশিয়ার সেনা প্রধানের হুমকি!   আজই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মুশফিকরা   দুর্নীতি মামলায় জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের জামিন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার   আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস   চট্টগ্রামে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‌্যাবের অভিযানে আটক ৩

‘মাইরা ভালই করল্যান স্যার’

প্রকাশিত : ২০১৫-০৫-২৯ ১৩:৫৬:২১

নিউজ ডেস্ক ॥ “তখন আমরা মনোহরপুকুর রোডে ভাড়াবাড়িতে থাকি। আমার বয়স চার। জেঠিমাকে খুব ভালবাসতাম। জেঠিমাও আমায় চোখে চোখে রাখতো। কত দিন গেছে, ঘুমনোর সময় আমি জেঠিমার বুকের ওপর শুয়ে পড়তাম। আমি ওকে ডাকতাম বমা। বমার কাছে আমি ছিলাম সোনার গোপাল।

শীতের দুপুর। দোতলার বারান্দায় রোদছায়া আলো। বারান্দার মেঝেতে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল জেঠিমা। আমায় হঠাৎ দুষ্টুমিতে পেয়ে বসল।
দেখলাম একটা মিষ্টির ভাঁড়ে বেশ খানিকটা রস পড়ে আছে। ব্যস্, বুদ্ধিটা খেলে গেল। কাত হয়ে ঘুমোচ্ছিল জেঠিমা। ভাঁড়টা নিয়ে ওর কানে পুরো রসটা যত্ন করে ঢেলে দিলাম। রসের সুড়সুড়ি খেয়ে তড়াক করে উঠে বসে কানে হাত দিয়ে জেঠিমা বলে উঠল, ‘কী দিলি রে, কী দিলি রে সোনার গোপাল?’ আর কী দিলি! আমি পালাতে পারলে বাঁচি।
মা ঘর থেকে ছুটে এসে আমাকে এই মারে, তো সেই মারে। জেঠিমা কিন্তু কিচ্ছু বলল না। বরং মায়ের মার থেকে আমাকে বাঁচিয়ে দিল। এর পর থেকে ওই কানে জেঠিমা আর ভাল করে শুনতে পেত না।
মার্কামারা দুষ্টু ছেলে বলতে যা বোঝায়, আমি ছিলাম তাই। স্কুলে, পাড়ায় মারপিট লেগেই থাকত। বড়দের পিটুনি, মাস্টারমশাইয়ের বেতের ঘাঁ কিছুতেই রোখা যেত না।
ময়মনসিংহর মৃত্যুঞ্জয় ইস্কুলের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আমি তখন দশ কী এগারোতে। বাবা বদলি হওয়াতে আমরা তখন ওখানে।
বাড়ির কাছেই ছিল ব্রহ্মপুত্র নদী। ইস্কুলে যাওয়ার আগে ব্রহ্মপুত্রে সাঁতার না কাটলে যেন ভাত হজম হতো না। সেও আবার দু’দশ মিনিট নয়, টানা এক-দেড় ঘণ্টা। কানে জল ঢুকত রোজ। আর সে জল সহজে বেরও হত না। ওই জলভরা কান নিয়েই ইস্কুলে চলে যেতাম। সে দিনও তাই।
তত দিনে সেই ইস্কুলেও দুষ্টুর শিরোমণি বলে নাম করে ফেলেছি। কিন্তু হাজার কুকাজ করলেও মনিটর বোর্ডে আমার নাম লিখতে ভয় পেত। সে দিন ও আর থাকতে পারেনি। ক্লাসেরই একটা ছেলের সঙ্গে এত মারপিট করেছিলাম যে, বেঞ্চ-টেবিল উল্টেপাল্টে একশা। মনিটর সোজা নাম তুলে দিয়েছিল বোর্ডে।
মাস্টারমশাই বাঙাল। খুব রাগী। এসেই আমার নাম দেখে বললেন, ‘ করছিলা, ক?’ আমি সোজা কথার ছেলে। সটান বললাম, ‘এট্টু মারপিট করতাসিলাম।’ এত স্পষ্ট কথা ওর বোধ হয় সহ্য হয়নি। হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে পিঠে বিরাশি সিক্কার থাপ্পড় মেরে বললেন, ‘সইত্যবাদী যুধিষ্ঠির, না!’ গদাম করে থাপ্পড়টা পিঠে পড়তেই হঠাৎ বুঝলাম কান দিয়ে জলটা বেরিয়ে গেল। তখন পিঠের ব্যথার চেয়ে কানের আরামটাই বেশি বোধ হচ্ছিল। কান মুছতে মুছতে মাস্টারের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘মাইরা ভালই করল্যান স্যার, জল ঢুকছিল, বাহির হইয়্যা গ্যালো।’ এ কথা শুনে কোন মাস্টারমশাই চুপ থাকতে পারেন! ফলে এ বার শুরু হল রামধোলাই।”

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত