সর্বশেষ

  জকিগঞ্জে এম. জাকির হুসেইন হিফজুল ক্বোরআন প্রতিযোগীতা বাস্তবায়ন কমিটির সভা   ছাতকে পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ, জিরাসহ ৪জন আটক   পাক প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত নওয়াজ শরিফ   ‘মরহুম মনফর আলী এন্ড মরহুম হালিমা বিবি ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র উদ্যোগে বিশ্বনাথে ফ্রি খৎনা অনুষ্ঠান   দক্ষিণ সুরমার গ্যাস বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ ১, ৩টি গাড়ি ভস্মীভূত   সিলেটে ‘অলিম্পিক ডে- ২০১৭’ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি অনুষ্ঠিত   কমলগঞ্জে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান   দেশে প্রতি মিনিটে ১৩৮৯ পিস ইয়াবা গ্রহণ করে তরুণ-তরুণীরা   অনেক আসামি পলাতক, কিছু করার নেই তদন্ত সংস্থার   গুলশান হামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ রাশেদ গ্রেফতার   ‘সেরা বাঙালি’র পুরস্কার নিতে আজ কোলকাতা যাচ্ছেন মাশরাফি   ‘১৮ হাজার হাজির হজ অনিশ্চিত’ : ৯১ টি হজ্জ এজেন্সির সংবাদ সম্মেলন   রড ছাড়াই কলেজের ভবন নির্মাণের ঘটনায় তদন্ত শুরু   ‘নিরাপত্তার কারণে সম্মেলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি ইউনূস সেন্টারকে’ : ‘অনিবার্য কারণবশত’ সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন বাতিল   সভাপতি পার্থকে অব্যাহতি, শাবি ছাত্রলীগের নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন রুহুল আমিন   শ্রীমঙ্গলে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা   মৌলভীবাজার পৌরসভায় ৮৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা   প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে : তাহমিনা খাতুন   দোয়ারাবাজারে শহিদ মিনারের উদ্বোধন করলেন এমপি মানিক   সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

‘মাইরা ভালই করল্যান স্যার’

প্রকাশিত : ২০১৫-০৫-২৯ ১৩:৫৬:২১

নিউজ ডেস্ক ॥ “তখন আমরা মনোহরপুকুর রোডে ভাড়াবাড়িতে থাকি। আমার বয়স চার। জেঠিমাকে খুব ভালবাসতাম। জেঠিমাও আমায় চোখে চোখে রাখতো। কত দিন গেছে, ঘুমনোর সময় আমি জেঠিমার বুকের ওপর শুয়ে পড়তাম। আমি ওকে ডাকতাম বমা। বমার কাছে আমি ছিলাম সোনার গোপাল।

শীতের দুপুর। দোতলার বারান্দায় রোদছায়া আলো। বারান্দার মেঝেতে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল জেঠিমা। আমায় হঠাৎ দুষ্টুমিতে পেয়ে বসল।
দেখলাম একটা মিষ্টির ভাঁড়ে বেশ খানিকটা রস পড়ে আছে। ব্যস্, বুদ্ধিটা খেলে গেল। কাত হয়ে ঘুমোচ্ছিল জেঠিমা। ভাঁড়টা নিয়ে ওর কানে পুরো রসটা যত্ন করে ঢেলে দিলাম। রসের সুড়সুড়ি খেয়ে তড়াক করে উঠে বসে কানে হাত দিয়ে জেঠিমা বলে উঠল, ‘কী দিলি রে, কী দিলি রে সোনার গোপাল?’ আর কী দিলি! আমি পালাতে পারলে বাঁচি।
মা ঘর থেকে ছুটে এসে আমাকে এই মারে, তো সেই মারে। জেঠিমা কিন্তু কিচ্ছু বলল না। বরং মায়ের মার থেকে আমাকে বাঁচিয়ে দিল। এর পর থেকে ওই কানে জেঠিমা আর ভাল করে শুনতে পেত না।
মার্কামারা দুষ্টু ছেলে বলতে যা বোঝায়, আমি ছিলাম তাই। স্কুলে, পাড়ায় মারপিট লেগেই থাকত। বড়দের পিটুনি, মাস্টারমশাইয়ের বেতের ঘাঁ কিছুতেই রোখা যেত না।
ময়মনসিংহর মৃত্যুঞ্জয় ইস্কুলের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আমি তখন দশ কী এগারোতে। বাবা বদলি হওয়াতে আমরা তখন ওখানে।
বাড়ির কাছেই ছিল ব্রহ্মপুত্র নদী। ইস্কুলে যাওয়ার আগে ব্রহ্মপুত্রে সাঁতার না কাটলে যেন ভাত হজম হতো না। সেও আবার দু’দশ মিনিট নয়, টানা এক-দেড় ঘণ্টা। কানে জল ঢুকত রোজ। আর সে জল সহজে বেরও হত না। ওই জলভরা কান নিয়েই ইস্কুলে চলে যেতাম। সে দিনও তাই।
তত দিনে সেই ইস্কুলেও দুষ্টুর শিরোমণি বলে নাম করে ফেলেছি। কিন্তু হাজার কুকাজ করলেও মনিটর বোর্ডে আমার নাম লিখতে ভয় পেত। সে দিন ও আর থাকতে পারেনি। ক্লাসেরই একটা ছেলের সঙ্গে এত মারপিট করেছিলাম যে, বেঞ্চ-টেবিল উল্টেপাল্টে একশা। মনিটর সোজা নাম তুলে দিয়েছিল বোর্ডে।
মাস্টারমশাই বাঙাল। খুব রাগী। এসেই আমার নাম দেখে বললেন, ‘ করছিলা, ক?’ আমি সোজা কথার ছেলে। সটান বললাম, ‘এট্টু মারপিট করতাসিলাম।’ এত স্পষ্ট কথা ওর বোধ হয় সহ্য হয়নি। হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে পিঠে বিরাশি সিক্কার থাপ্পড় মেরে বললেন, ‘সইত্যবাদী যুধিষ্ঠির, না!’ গদাম করে থাপ্পড়টা পিঠে পড়তেই হঠাৎ বুঝলাম কান দিয়ে জলটা বেরিয়ে গেল। তখন পিঠের ব্যথার চেয়ে কানের আরামটাই বেশি বোধ হচ্ছিল। কান মুছতে মুছতে মাস্টারের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘মাইরা ভালই করল্যান স্যার, জল ঢুকছিল, বাহির হইয়্যা গ্যালো।’ এ কথা শুনে কোন মাস্টারমশাই চুপ থাকতে পারেন! ফলে এ বার শুরু হল রামধোলাই।”

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত