সর্বশেষ

  ধর্মপাশায় জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ পালিত   সিসিক’র মোবাইল কোর্ট : ১ হাজার স্কয়ার ফুটের বিলবোর্ডের প্যানাফ্লেক্স জব্ধ ও বাজেয়াপ্ত   জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ উপলক্ষে শায়েস্তাগঞ্জে র‌্যালি ও আলোচনা সভা   ফেঞ্চুগঞ্জে সংখ্যালঘুদের ভূমি দখল এবং হয়রানি বন্ধ করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা   টেকনাফ থেকে দুই জেলেকে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী   আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতির সাথে শুভেচ্ছা বিনিমিয়   সালমান শাহ মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত করবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন   খুলনা টাইটানসকে হারিয়ে ফাইনালে রাজশাহী কিংস   যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগ নেতা ওজি উদ্দিন মারুফকে মহানগর ছাত্রলীগের সংবর্ধনা   পনিটুলাস্থ পল্লবী সমাজ কল্যাণ সংস্থার কার্যালয় উদ্বোধন   বিশ্বনাথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল কর্মীদের হামলা: নগদ টাকাসহ মালামাল লুটপাঠ   কাল থেকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ   রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের মানববন্ধন কাল   সিলেটে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহ পালন   দিরাইয়ে আলোচনার ঝড়: আবারো দল বদলাচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর!   রঞ্জিত সরকারের মাতার মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগের শোক   জৈন্তাপুরে পটকা ট্র্যাজিডি: নিহত ৫ জনের জানাজা সম্পন্ন, রাতে আরো ১ জনের জানাজা   কুলাউড়া প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের উদ্বোধন   ছালিয়ায় মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন   মাধবপুরে কুখ্যাত শাজান্যা ডাকাত গ্রেফতার

৪৩,২০০ বার ধর্ষিত যে নারী!

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১১ ২৩:৩১:৩১

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : বুধবার, ১১ নভেম্বর ২০১৫ ॥ মেক্সিকোর নারী কারলা জাকিন্তো দারিদ্র্যতার খপ্পর থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে পড়েছিল আরো ভয়ানক এক খপ্পরে। মানুষ পাচারকারীরা অর্থের লোভ দেখিয়ে ছলেবলে তাকে আটক করে। তারপর একটানা ৪ বছর তার উপর চালানো হয় অমানুষিক যৌন নির্যাতন। প্রতিদিন ৩০ বার করে তার উপর এই নির্যাতন চালানো হত। কেরালা জাকিন্তো শান্তভাবে সাংবাদিকদের জানিয়েছে, সে গুনে গুনে ৪৩,২০০ বার ধর্ষিত হয়েছে!

মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মানবপাচার বহুদিন থেকেই চলে আসছে কিন্তু কারলা জাকিন্তোর এই নির্মম কাহিনি যেন নতুন করে মানুষ পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা মনে করিয়ে দিচ্ছে সবাইকে।  দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমান্তে এটা এখন এতই লাভজনক এবং প্রভাবশালী ব্যাবসা যে সহজে এটাকে বন্ধ করা যাচ্ছে না।

ইউএস এবং মেক্সিকোর কর্তাব্যাক্তিরা একমত হয়ে বলেছেন যে মেক্সিকোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ছোট শহর তেনাঞ্চিঙ্গ হচ্ছে এই ব্যাবসার মূল কেন্দ্র। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এম্বাসেডর সুসান কপেজ জানিয়েছেন, যদিও শহরটির লোকসংখ্যা মাত্র ১৩ হাজার কিন্তু যৌন ব্যাবসা এবং মানব পাচারে জায়গাটি প্রসিদ্ধ। ওই শহরে এটাই মূলত ব্যাবসা কিন্তু কাজটা করা হয় নিপুনভাবে নিরবে। দালালেরা কৌশলে একটু গ্রামাঞ্চল থেকে অল্পবয়সি মেয়েদের ধরে নিয়ে আসে,  গ্রামের মেয়েরা বুঝতেও পারে না যে তারা কত বড় ফাঁদে পা দিয়েছে।

কারলা জাকিন্তো ছিল ঠিক এইরকমই একটা ফাঁদে পড়া মফস্বলের মেয়ে। তার ছোটবেলার জীবন ছিল খুব কষ্টের। পরিবারে সবসময় কলহ লেগে থাকত এবং পাঁচ বছর বয়স থেকেই তাকে মারধর করত বাড়ির লোক। তার নিজের মা পর্যন্ত তাকে দেখতে পারতো না। সে শৈশব থেকেই আত্মীয়স্বজন বিভিন্নভাবে তার উপর যৌন নির্যাতন করতো। কারলা জাকিন্তো বড় হয়ে উঠেছে এইরকম করুন অবস্থার মধ্যে। সে তখনো জানতো না তার জন্য আরও বড় দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছিল।

মাত্র ১২ বছর বয়েসে মানুষ পাচারকারীদের নজরে পড়ল কারলা জাকিন্তো। তার নিজের ভাষ্যমতে, সে একদিন মেক্সিকো শহরের একটি সাবওয়ে স্টেশানে তার বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছিল ঠিক এমনসময় একটা বাচ্চা ছেলে মিষ্টি বিক্রি করতে করতে তার দিকে এগিয়ে আসে এবং তাকে একটা মিষ্টি দিয়ে বলে একজন কেউ তাকে মিষ্টিটি দিয়েছে উপহার হিসাবে।

তার পাঁচ মিনিট পরে এক লোক তার সাথে এসে কথা বলতে শুরু করে। লোকটা তাকে পরিচয় দেয় পুরনো গাড়ির ব্যাবসায়ি বলে। প্রথম দিকে কথা বলতে কারলা একটু ইতস্তত বোধ করেছিল কিন্তু লোকটি যখন তাকে বলল যে সেও নাকি ছোটবেলায় কারলার মত এমন নির্যাতিত হয়েছিল তখন কারলা তার প্রতি সহানুভূতি বোধ করে। কারলা এমনকি তাকে তার ফোন নম্বর পর্যন্ত দিয়ে দেয়।

এক সপ্তাহ পরে যখন লোকটি তাকে ফোন করে একজায়গায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তখন স্বাভাবিকভাবেই সে খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ে। লোকটি তাকে তুলে নিতে আসে খুব দামি গাড়ি নিয়ে। এতে সে এতই অভিভুত হয়ে পড়েছিল যে কল্পনাও করতে পারেনি কি ভয়ানক বিপদে সে পড়তে যাচ্ছে।

নিজের বাড়িতে কারলা ছিল বহিরাগত একজন। তার মা সবসময় তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করত, এমনকি অনেক সময় তাকে ঘর থেকে বের করে দিতে চাইত। এই অবস্থায় কারলাকে ঘর থেকে পালানোর জন্য রাজি করাতে একটুও বেগ পেতে হয়নি লোকটাকে।

একদিন সে ঠিকই লোকটার সাথে বেরিয়ে পড়লো। লোকটা তাকে নিয়ে তুললো এক বাড়িতে, সেখানে দুইজনের একসাথে কাটলো প্রায় তিন মাস। এই সময়ে লোকটা কখনোই তার সাথে খারাপ আচরন করেনি। তাকে জামা, জুতো, কাপরচোপড় সব কিনে দিত। শুধু তাইনা লোকটা তাকে মাঝে মাঝে ফুল কিনে দিত।

অভিজ্ঞতাটা কারলা জাকিন্তোর জন্য ছিল আনন্দের। কিন্তু একইসাথে লোকটার অনেক সন্দেহজনক জিনিসও তার চোখে পড়েছে। যেমন লোকটা মাঝে মাঝেই তাকে ফেলে এক সপ্তাহের জন্য বাইরে চলে যেত। তখন বিভিন্ন মেয়েদেরকে নিয়ে তার ঘরে আসতো লোকটার পরিচিত বন্ধুরা।

এক পর্যায় কারলা যখন লোকটাকে সাহস করে ঘটনা জানতে চাইলো তখন লোকটা তাকে তার আসল পরিচয় দিল। লোকটা হচ্ছে বেশ্যাদের দালাল। আস্তে আস্তে কেরালা বুঝতে পারলো তাকে ঠিক কি করতে হবে। কিভাবে তাকে খদ্দেরদের সন্তুষ্ট করতে হবে, কত টাঁকা নিতে হবে, কতক্ষন সময় দিতে হবে ইত্যাদি সবকিছু পরিস্কার হয়ে গেল এইবার কারলার কাছে।

কারলার ভাষ্যমতে, এটা ছিল চার বছরের নরক যন্ত্রণার শুরুমাত্র। প্রথম কাজের জন্য আমাকে নিয়ে যাওয়া হল মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শহর গুয়াদালাজারাতে। আমি সকাল দশটায় শুরু করতাম, শেষ করতাম মধ্যরাতে। প্রতিদিন ৩০ বার করে। এই অত্যাচারের একপর্যায়ে আমি কাঁদতে শুরু করতাম এবং এটা দেখে অনেক পুরুষই মজা পেয়ে হাসত। শেষদিকে আমার কোন অনুভূতি থাকতো না। এইভাবে চলতো দিনের পর দিন।

এইভাবে চার বছর কাটিয়েছে কারলা জাকিন্তো। তাকে এক শহরে বেশিদিন রাখতোনা দালালেরা। অনেকগুলো শহর ঘুরে ঘুরে তাকে দিয়ে জোর করে করানো হতো এই কাজ। এইসব কাজে অনেক ঝামেলা হতো অনেকসময়ই, কারালা কোন ভুল করলে তখন তার উপর চড়াও হত দালাল। তাকে লোহার চেইন দিয়ে মারা হত আর কিল-ঘুষি-লাথির কথাতো এখানে মামুলি ব্যাপার। 

এরপর একদিন ঘটলো এক চমকপ্রদ ঘটনা। কারলা এবং আরও অনেক মেয়েরা যখন একটা হোটেলে কাজ করছিল তখন সেখানে অতর্কিত হামলা করলো পুলিশ। কারলা ভেবেছিল এবার হয়তো সে মুক্তি পাবে কিন্তু তার কপাল বরাবরই খারাপ। পুলিশরা তাদেরকে মুক্তিতো দিলোই না বরং নিজেরাই তাদেরকে রুমে আটকে বিভিন্ন কুৎসিত ভঙ্গিতে তাদের ভিডিওচিত্র ধারন করল। কারলার ভাষ্যমতে, সেখানে প্রায় ৩০ জন পুলিশ ছিল এবং তারা তাদেরকে দিয়ে কাজ হাসিলের জন্য অনেক হুমকি ধামকি দিয়েছে।

এই চার বছরে বিপদের উপর বিপদ তাড়া করে বেড়িয়েছে কারলাকে, কারণ এরমধ্যে সে আবার গর্ভবতীও হয়ে পড়েছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সে একটা কন্যা সন্তান প্রসব করে। সেই সন্তানের বাবা ছিল এক দালাল। কিন্তু জন্মের পরপরই তাকে কেঁড়ে নেয়া হয় কারালার কাছ থেকে, কারণ মেয়ে সাথে থাকলে ব্যাবসা বন্ধ। মেয়ের বয়স এক বৎসর হওয়ার আগ পর্যন্ত কারলা তার মেয়েকে দেখতে পায়নি।

অবশেষে ২০০৬ সালে মেক্সিকোতে মানুষ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এক অভিযান চলাকালে মুক্তি পায় কারলা জাকিন্তো। তার বয়স এখন ২৩ বছর। আর দশটা সাধারণ মেক্সিকান নির্যাতিত মেয়েদের মত জীবন কাঁটিয়েও কারলা জাকিন্তো থেকে যেতে পারতো মানুষের অগোচরে। কিন্তু না, জীবন থেকে সে যে কষ্ট পেয়েছে সেটা যাতে আর কোন নারী না পায় তার জন্য মুখ খুলেছে কারলা জাকিন্তো। তার কণ্ঠ এখন মানুষ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার। সে সারা বিশ্বের মানুষকে বলতে চায় কি নির্মম জীবন তাকে যাপন করতে হয়েছে কিছু নিষ্ঠুর মানুষের পাল্লায় পড়ে। কারলা জাকিন্তো তার এই নির্যাতিত গল্পের কথা বলতে একটুও ভয় পায় না, একটুও লজ্জাও পায়না।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআেই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত