সর্বশেষ

  প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপন্নতাই এখন সিলেটের প্রধান সমস্যা   রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে প্রত্যাশা নেই : শেখ হাসিনা   সিলেট থেকে ৪ সাবরেজিস্ট্রার 'আউট', 'ইন' ৩ জন   যে অতীত সু চি মুছে ফেলতে চান   বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার প্রসার বাড়াবো : রাইসা সালসাবিল   জাতির উদ্দেশে ভাষণে যা বললেন সু চি   ট্রাম্পের সাথে হাসিনার কয়েক মিনিট কী কথা হয়েছিল?   রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে রাজার গাঁও মাদরাসা ও হাটখোলা ইউপি তালামীযের মানববন্ধন   মাদক, ইভটিজিং, বাল্য বিয়ে গোয়াইনঘাটে থাকবে না : মনিরুজ্জামান   রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মুসল্ল­ী পরিষদের মানববন্ধন   মাধবপুরে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি : শিক্ষার্থীদের টাকা গচ্ছা   ‘যাচাই করে’ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে রাজি সু চি   বাসর হলো না তাহিরপুরে সোয়েবের : হাত, পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার   কমলগঞ্জের জালালীয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি : গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫   দু-সপ্তাহেও চালু হয়নি শাবির ডাইনিং : প্রভোস্টদের গাফিলতির অভিযোগ   শেখ হাসিনার সাথে ট্রাম্পসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আলোচনা : প্রশংসিত বাংলাদেশ   মিয়ানমার ভীত নয়, অভিযান চলবে : সু চি   যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ নবীগঞ্জের হেলাল চৌধুরী মারা গেছেন   ৩ নভেম্বর সিলেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী খেলা: মুখোমুখি সিলেট সিক্সার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস   বাহুবলে হাওরবাসীর মনে আনন্দ দিতে ‘উপজেলা চেয়ারম্যান নৌকা বাইচ’ অনুষ্ঠিত

টাকার অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চয়তায় সুনামগঞ্জের সাজিদা

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২২ ১৩:০১:৪১

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : রোববার, ২২ নভেম্বর ২০১৫ ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর মেধাক্রম ১৩৮১। ভর্তির হওয়ার শেষ তারিখ ১ ডিসেম্বর। কিন্তু টাকার অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সাজিদা আক্তারের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটি এবার ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তির জন্য তাঁর প্রয়োজন ১১ হাজার টাকা। কিন্তু সাজিদার পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় সাজিদাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সহায়সম্বল বলতে ভিটেটুকুই আছে। একটি টিনের ছাপরাঘর সেটি। ঘরের বেড়া দেওয়া রয়েছে পাটকাঠি দিয়ে। দুটি চৌকি ঘরের ভেতরে। তার একটিতে বইপত্র সাজানো। ওই ঘরের এক কোণে বসে এত দিন পড়াশোনা করেছেন সাজিদা।

সাজিদার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সাজিদা পঞ্চম। বাবা আবু তাহের পেশায় দিনমজুর। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর কাজে যেতে পারেন না। মা রাজিয়া খাতুন গৃহিণী। বড় ভাই পাঁচ বছর আগে বিয়ে করে আলাদা সংসার করেছেন। মেজো ভাই মো. আজিজুলের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আয়ে এখন টেনেটুনে চলছে ওদের সংসার। আর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন জনতা মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।

টাকা না থাকায় বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাড়ি থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে সদরে হেঁটে যাওয়া-আসা করতে হতো সাজিদাকে। টিফিনে খেত এক গ্লাস পানি। এভাবে পড়াশোনা করেই ২০১৩ সালে এসএসসিতে সদর উপজেলার জনতা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পায় সে। এরপর ভর্তি হয় ধরমপাশা ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পান সাজিদা।

সাজিদার বাবা আবু তাহের বলেন, ‘আমরা নিজেরাই তো ভালা কইর্যাচ খাইতামই হারি না। হেরে আর ঢাকা ভার্সিটিত ভর্তি করাইয়াম ক্যামনে? হুনছি অহন ভর্তি অইতেই ১১ হাজার টেহা লাগে। অত টেহা আমরা কই ফাইয়াম।’

সাজিদার স্বপ্ন একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার। সাজিদা বলেন, ‘দুই চোখে অন্ধকার দেখছি। দরিদ্র মা-বাবার পক্ষে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। কীভাবে যে কী হবে!’

ধরমপাশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল করিম বলেন, সাজিদা অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে সে ভালো করবে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত