সর্বশেষ

  বাংলাদেশ বনপ্রহরী কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সভাপতি আব্দুল হাই ও সম্পাদক আহমদ আলী   হাওরে ত্রাণ তৎপরতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ   হাওরে মরেছে ৪১ কোটি টাকার ১২৭৬ টন মাছ   দিনাজপুরে দুই ‘জেএমবি সদস্য’ গ্রেপ্তার   এসআইইউ’তে ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্মদিন উদযাপন   সিলেট জেলা কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত   মৌলভীবাজারে ‘হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’র মানববন্ধন ও সমাবেশ   বুধবার আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে   ৫শ’ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মেসি   জামালগঞ্জে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে পাকনার হাওরের বোরো ধান   বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন কাল : লড়াই হবে ত্রিমুখি   হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত   হবিগঞ্জে গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত   ছাতকে হেলেন রানী চৌধুরী ছাত্রী ট্রাস্টের বৃত্তি প্রদান   ছাতকের ঝিগলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ প্রবাসীকে সংবর্ধনা   শিবির সন্দেহে ৩ জনকে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ   জগন্নাথপুরে বিদ্যুতের ভেলকিবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ   কমলগঞ্জে জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী বাইসাইকেল র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত   মুফিজুর রহমান বাদশার শয্যাপাশে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ   বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন মঙ্গলবার

টাকার অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চয়তায় সুনামগঞ্জের সাজিদা

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২২ ১৩:০১:৪১

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : রোববার, ২২ নভেম্বর ২০১৫ ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর মেধাক্রম ১৩৮১। ভর্তির হওয়ার শেষ তারিখ ১ ডিসেম্বর। কিন্তু টাকার অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সাজিদা আক্তারের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটি এবার ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তির জন্য তাঁর প্রয়োজন ১১ হাজার টাকা। কিন্তু সাজিদার পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় সাজিদাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সহায়সম্বল বলতে ভিটেটুকুই আছে। একটি টিনের ছাপরাঘর সেটি। ঘরের বেড়া দেওয়া রয়েছে পাটকাঠি দিয়ে। দুটি চৌকি ঘরের ভেতরে। তার একটিতে বইপত্র সাজানো। ওই ঘরের এক কোণে বসে এত দিন পড়াশোনা করেছেন সাজিদা।

সাজিদার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সাজিদা পঞ্চম। বাবা আবু তাহের পেশায় দিনমজুর। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর কাজে যেতে পারেন না। মা রাজিয়া খাতুন গৃহিণী। বড় ভাই পাঁচ বছর আগে বিয়ে করে আলাদা সংসার করেছেন। মেজো ভাই মো. আজিজুলের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আয়ে এখন টেনেটুনে চলছে ওদের সংসার। আর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন জনতা মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।

টাকা না থাকায় বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাড়ি থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে সদরে হেঁটে যাওয়া-আসা করতে হতো সাজিদাকে। টিফিনে খেত এক গ্লাস পানি। এভাবে পড়াশোনা করেই ২০১৩ সালে এসএসসিতে সদর উপজেলার জনতা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পায় সে। এরপর ভর্তি হয় ধরমপাশা ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পান সাজিদা।

সাজিদার বাবা আবু তাহের বলেন, ‘আমরা নিজেরাই তো ভালা কইর্যাচ খাইতামই হারি না। হেরে আর ঢাকা ভার্সিটিত ভর্তি করাইয়াম ক্যামনে? হুনছি অহন ভর্তি অইতেই ১১ হাজার টেহা লাগে। অত টেহা আমরা কই ফাইয়াম।’

সাজিদার স্বপ্ন একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার। সাজিদা বলেন, ‘দুই চোখে অন্ধকার দেখছি। দরিদ্র মা-বাবার পক্ষে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। কীভাবে যে কী হবে!’

ধরমপাশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল করিম বলেন, সাজিদা অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে সে ভালো করবে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত