সর্বশেষ

  ক্যাপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ   কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সিলেটের ৮ জন   সিলেটে ঘুড়ি উৎসব ২৮ জানুয়ারি   দিরাইয়ে জলমহাল দখল প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের : ৩২ ঘণ্টায়ও হয়নি মামলা   গোলাপগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ আটক ১   দক্ষিণ সুরমা থেকে অপরাধ নির্মূল করা হবে : এসএমপি কমিশনার   বাহুবলে ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড   ‘প্রধানমন্ত্রী দিন বদলের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৮ বছরে তার অনেকটাই পূরণ হয়েছে’   দক্ষিণ সুরমা থেকে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার   নেপালের রাজধানী কাঠমুণ্ডুতে বাংলাদেশী পণ্যের একক বাণিজ্য মেলা   চারুমেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত   জগন্নাথপুরে চাঁদাবাজির মামলায় সংবাদকর্মী লাল মিয়া গ্রেফতার   ‘ছাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে’   জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান   জৈন্তাপুরের শ্রীপুর পাথর কোয়ারীর জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া   শাবিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ক্রীড়া সপ্তাহ শুরু   জকিগঞ্জে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার মাদক জব্দ   শাবির অধ্যাপক পদে বাছাই বোর্ড সম্পন্ন করতে হাইকোর্টের রুল   চণ্ডিছড়া চা বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ   শহরতলির শাহ্ খুররম কলেজ গেটে আমেরিকা প্রবাসীর বাসায় দুঃসাহসিক চুরি

আজ পহেল অগ্রহায়ন, নবান্ন উৎসব

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৫ ১২:০৮:০৬

আপডেট : ২০১৫-১১-১৫ ২২:২৩:০৭

ফাইল ছবি

উত্তরপূর্ব প্রতিবেদন : রোববার, ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ॥ গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এখন নতুন ধানের ঘ্রাণ আর নবান্নের বার্তা। সেই ধানের ঘ্রাণে নেচে-গেয়ে উঠছে কৃষাণ-কৃষাণীর মন। আজ রোববার, পহেলা অগ্রহায়ণ।

ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যময় বাংলার প্রকৃতি। প্রতিটি ঋতুই নিজ নিজ সাজে সজ্জিত করে তোলে প্রকৃতিকে। গ্রীষ্মের তাপদাহে রুদ্ররূপ, বর্ষায় বিরহিনী, শরতে স্নিগ্ধময়ী আর হেমন্তে কুয়াশার অবগুণ্ঠনে ঢাকা হৈমন্তিকা বয়ে নিয়ে আসে এক শুভবার্তা। সেই বার্তাই নবান্নের বার্তা। সারাটি বছর মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়ে কৃষকের সোনালী ফসল ঘরে তোলার বার্তা। প্রায় ৪০ হাজার বছরের পুরনো উৎসবের বার্তা। সেই উৎসবের নাম মাটির সঙ্গে চিরবন্ধনযুক্ত নবান্ন উৎসব।

‘নবান্ন’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ ‘নতুন অন্ন’। এর অন্য অর্থ ‘দুধ, গুড়, নারিকেল ও কলা প্রভৃতির সঙ্গে নতুন আতপ চাল খাবার উৎসব’ বিশেষ। সে উৎসবেরও একটি আভিধানিক ব্যাখা রয়েছে। তা হলো হৈমন্তিক ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ মাসে অনুষ্ঠিত একটি উৎসব। সেই অনাদিকাল থেকে কৃষি সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম বাংলায় পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব।

আজ থেকে আগামী এক মাস শুধু তাদের, যারা খাদ্যশস্য উৎপাদন করে এ দেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রাখছেন, সেই কৃষকদের। স্বপ্নভরা দৃষ্টিতে তারা চেয়ে আছেন আমন ধানের মৌ মৌ গন্ধ মাখানো ফসলের দিকে। ‘গোয়ালভরা গরু, গোলাভরা ধান’- আগের দিনে আভিজাত্য প্রকাশের জন্য একথা বলা হতো। এখন গোয়ালভরা গরু না থাকলেও কৃষকের গোলাভরা ধান ঠিকই রয়েছে। বর্তমানে সেই ধান কাটা আর তা মাড়াই করে গোলায় আনতে দিন-রাত খাটছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই দিনটিকে বরণ করেছেন এভাবেথ ‘নবীন ধানের মঞ্জরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা’।

বিভিন্ন তথ্য কোষ থেকে জানা যায়- অগ্রহায়ণ বা অঘ্রাণ বাংলা সালের অষ্টম এবং শকাব্দের নবম মাস। এই মাস ‘মার্গশীর্ষ’ নামেও সমাদৃত। প্রাচীন বাংলা ভাষায় এই মাসটিকে ‘আঘন’ নামে চিহ্নিত করা হতো। এটি হেমন্ত ঋতুর প্রথম মাস। ‘অগ্রহায়ণ’ শব্দের অর্থথ বছরের যে সময় শ্রেষ্ঠ ব্রীহি (ধান) উৎপন্ন হয়। অতীতে এই সময় প্রচুর ধান উৎপাদিত হতো বলে এই মাসটিকেই বছরের প্রথম মাস ধরা হতো।

ইতিহাস থেকে জানা যায়- এক সময় অগ্রহায়ণই ছিল বাংলা বছরের প্রথম মাস। ফসল তোলার উৎসব ও নবর্বষের উৎসবথ এই দুই উৎসব ধারণ করে অগ্রহায়ণ বিশাল বাংলার জনজীবনে প্রতিষ্ঠিত ছিল দীর্ঘকাল। ইতিহাসের পাতা থেকে আরো জানা যায়- অগ্রহায়ণ মাসকে বর্ষগুরু মাসের মর্যাদা ছাড়তে হয় মোঘল সম্রাটদের হিসাবনিকাশের কারণে। খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বর্ষ শুরু মাসের মর্যাদা দেয়া হয় রুদ্ররূপী বৈশাখকে। সম্রাটের খাজনা আদায়ের হিসাবের পাল্লা ভারি হোক বা না হোক, আবহাওয়া ও পরিবেশের বিচারে বৈশাখ কিন্তু এদেশে উৎসব অনুষ্ঠানের উপযোগী মাস নয়। কড়া রোদ, গুমট গরম, মাঝেমধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের তা-ব নিয়ে সময়টা মোটেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অনুকূল নয়, উপভোগ্য তো নয়ই। সেই তুলনায় অগ্রহায়ণের শীতের আমেজমাখা রোদ, আকাশে গাঢ় নীলের বিস্তার, বাতাসের গরম ছোঁয়া সবকিছুই যেন নববর্ষ বা যেকোনো অনুষ্ঠানের অনুকূল।

অগ্রহায়ণ মাসের শুরু মানেই পিঠা-পুলির গন্ধে মাতোয়ারা থাকে চারপাশ। নতুন চালের ভাত আর সেই চাল ভাঙিয়ে পিঠা তৈরি এসব মনে পড়তেই জিবে জল আসতে এক প্রকার বাধ্যই। গ্রামীণ জীবনে আমন ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় উৎসবের ধূম। বাড়ি বাড়ি তৈরি হয় শত রকমের নবান্নের পিঠা। মেয়ে জামাই থেকে শুরু করে নিকট আত্মীয়স্বজনের আগমনে মুখরিত হয় পুরো বাড়ি। খাওয়া হয় বিভিন্ন রকম পিঠাপুলি, যেমন- দুধপুলি, তিলপুলি, নারিকেলপুলি, দুধের পিঠা, তেলের পিঠা, হাতে তৈরি সেমাই পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, মুঠি পিঠা ও পাটিসাপটা ইত্যাদি। ঋতুচক্রে এই সময় শীতের আগমন ঘটে বলে খেজুরগাছে শুরু হয়ে যায় গাছিদের হাঁড়িপাতা। একদিকে নতুন ধানের আতপ চাল, অন্যদিকে খেজুরের রস। এই দুয়ের রসায়নে তৈরি হয় মুখরোচক পায়েস। মুড়ি তৈরির জন্যও কৃষাণীরা প্রয়োজন মতো আমন ধান তুলে রাখেন এই সময়েই। শত ব্যস্ততার মাঝেও তৈরি করেন নতুন ধানের মুড়ি।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত