সর্বশেষ

  হাওরবাসীর দুর্যোগ নিয়ে তামাশা করবেন না   “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমার কোন চাওয়া পাওয়া নেই”   গোলাপগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু   রশিদিয়া দাখিল মাদরাসায় বিশ্ব বই দিবস উদযাপন   এনইইউবিতে ‘ক্যারিয়ার ক্লাব’র যাত্রা শুরু   ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের বাজেট ঘোষণা   জামালগঞ্জে এক কিশোরীর দুই জন্ম নিবন্ধন: বাল্যবিবাহ সম্পন্ন, এলাকায় তোলপাড়   বিশ্বনাথে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালী   কাউন্সিলর আফতাবকে ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সংর্বধনা   সব চেষ্টা ব্যর্থ, তলিয়ে গেল শনি: হাওরপাড়ে চলছে কৃষকের আহাজারি   হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে মাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ অর্থ   মহাজনী ও এনজিও ঋনের চাপ: সব হারিয়ে দিশেহারা হাওরবাসী   বাবাকে ছাপিয়ে যেতে চান টাইগার শ্রফ   বাজারে আসুসের তিন জেনফোন   সুনামগঞ্জে শনির হাওরের বাঁধে ৩টি স্থানে ভাঙন   মহামতি লেনিনের জন্মবার্ষিকীতে সিলেটে লাল পতাকা মিছিল   ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে   লাখাইয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেফতার   আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তারেকের শাশুড়ি সিলেটের সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু   শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে : সিলেটে খাদ্যমন্ত্রী

‘বাবা চালাও, এখানে থামা্ও’

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১২ ০১:৪০:৪৬

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৫ ॥ ‘বাবা চালাও, এখানে থামা্ও’ এভাবেই রিকশার ক্রসবারে বসে অন্ধ রিকশাচালক বাবা মনির হোসেনকে নির্দেশনা দিচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুলছাত্রী আফরোজা ফারিয়া। আর এভাবেই বাবা-মেয়ের যৌথ পরিশ্রমে তাদের সংসার চলে।দুই বছর বয়স থেকে মনির অন্ধ, এখন রিকশা চালানোই তার পেশা।আর ছোট মেয়েটিই তার অন্ধ বাবার চোখ হিসেবে ভুমিকা রাখছে।

মনির হোসেন বলেন, ‘ফারিয়ার নির্দেশনাতেই আমি রাস্তায় রিকশা চালাই।যেখানে যে রকম ব্রেক করার প্রয়োজন সেভাবেই ফারিয়া আমাকে নির্দেশনা দেয়।আর সেভাবেই আমি কাজ করি।’ ফারিয়া ফেনির সুন্দরপুরের স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তবে রিকশা ভাড়া লেনদেনের ক্ষেত্রে সে খুবই সতর্ক। স্কুল ছুটির পর ফারিয়া রিকশার ক্রসবারে বসে এবং বাবাকে নির্দেশনা দেয়। আর ওখানে বসেই সে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে। ৫ বছর বয়স থেকেই ফারিয়া এ কাজ করে।

মনির জানান, দিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আয় করি, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। কেননা, মাগরিবের নামাজের পর আর রিকশা চালাতে পারি না। ছোট ফারিয়ার আগে মনিরকে এভাবেই সহায়তা করতো তার ছেলে শরীফ।শরীফ এখন বড় হয়ে গেছে, তার বয়স প্রায় ১৮ বছর। তাই সে এখন সিএনসি অটোরিকশা চালক।

কিছুদিন আগে মনির একটি টিভি প্রোগামে অংশ নিয়ে এক লাখ টাকা পেয়েছিলেন।সেই টাকা থেকেই কিছু টাকা ছেলের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য দেন।বাকী টাকার কিছু অংশ নিজের চোখের চিকিৎসায় খরচ করেন।তার এখনো বিশ্বাস তিনি হয়তো আবারো দেখতে পাবেন।যদিও এই মুহূর্তে চোখে দেখার চিন্তা মনিরের উচ্চভিলাস। মনির জানান, তার দ্বিতীয় সন্তান স্বর্ণা আক্তারের (১৬) বিয়ে হয়েছে। তাই রিকশা চালানো বন্ধ করার জন্য তার উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ২৮ বছর ধরে সন্তানের নির্দেশনায় রিকশা চালাচ্ছেন মনির হোসেন।

দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মনির বললেন ‘ আমি তো রিকশা চালানোর চাইতে অন্য কোনো কাজ ভাল করতে পারবো না। তাই এভাবেই কেটে যাবে আমার জীবন।’

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত