সর্বশেষ

  ছাতকের চেলা নদী নৌকা বাইচ অনুষ্টিত   মিয়ানমারের রাখাইনে হিন্দু গণকবর : ২৮ মরদেহ উদ্ধারের দাবি সেনাবাহিনীর!   'শিক্ষার ভীত মজবুত করতে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে'   শাবিপ্রবিতে কারিকুলাম উন্নয়ন বিষয়ে সেমিনার   বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অনাথ কিশোরী ধর্ষণ : ২০ হাজারে মিটমাটের চেষ্টা   রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারের দাবীতে ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরীর বিক্ষোভ   'শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্ঠায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার'   রিয়ালকে জয়ে ফেরালেন নবীন সেবায়োস   কমেছে চালের দাম, কমবে আরও   লন্ডনে আবারো এসিড হামলা, আহত ৬   তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল   মহিউদ্দিন শীরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৫ সেপ্টেম্বর   ধর্ম যার যার, উৎসব সবার : কামরান   ওসমানীনগরে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর, প্রশাসন নিরব   জগন্নাথপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু   ফেঞ্চুগঞ্জে সড়ক মেরামতের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা   মৌলভীবাজারে ‘শিক্ষা দিবস’ পালিত   হত্যা মামলার আসামী টিটু ও সুলেমান এখনও অধরা   ফেঞ্চুগঞ্জে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সাথে প্রশাসনের সভা   রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

‘বাবা চালাও, এখানে থামা্ও’

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১২ ০১:৪০:৪৬

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৫ ॥ ‘বাবা চালাও, এখানে থামা্ও’ এভাবেই রিকশার ক্রসবারে বসে অন্ধ রিকশাচালক বাবা মনির হোসেনকে নির্দেশনা দিচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুলছাত্রী আফরোজা ফারিয়া। আর এভাবেই বাবা-মেয়ের যৌথ পরিশ্রমে তাদের সংসার চলে।দুই বছর বয়স থেকে মনির অন্ধ, এখন রিকশা চালানোই তার পেশা।আর ছোট মেয়েটিই তার অন্ধ বাবার চোখ হিসেবে ভুমিকা রাখছে।

মনির হোসেন বলেন, ‘ফারিয়ার নির্দেশনাতেই আমি রাস্তায় রিকশা চালাই।যেখানে যে রকম ব্রেক করার প্রয়োজন সেভাবেই ফারিয়া আমাকে নির্দেশনা দেয়।আর সেভাবেই আমি কাজ করি।’ ফারিয়া ফেনির সুন্দরপুরের স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তবে রিকশা ভাড়া লেনদেনের ক্ষেত্রে সে খুবই সতর্ক। স্কুল ছুটির পর ফারিয়া রিকশার ক্রসবারে বসে এবং বাবাকে নির্দেশনা দেয়। আর ওখানে বসেই সে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে। ৫ বছর বয়স থেকেই ফারিয়া এ কাজ করে।

মনির জানান, দিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আয় করি, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। কেননা, মাগরিবের নামাজের পর আর রিকশা চালাতে পারি না। ছোট ফারিয়ার আগে মনিরকে এভাবেই সহায়তা করতো তার ছেলে শরীফ।শরীফ এখন বড় হয়ে গেছে, তার বয়স প্রায় ১৮ বছর। তাই সে এখন সিএনসি অটোরিকশা চালক।

কিছুদিন আগে মনির একটি টিভি প্রোগামে অংশ নিয়ে এক লাখ টাকা পেয়েছিলেন।সেই টাকা থেকেই কিছু টাকা ছেলের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য দেন।বাকী টাকার কিছু অংশ নিজের চোখের চিকিৎসায় খরচ করেন।তার এখনো বিশ্বাস তিনি হয়তো আবারো দেখতে পাবেন।যদিও এই মুহূর্তে চোখে দেখার চিন্তা মনিরের উচ্চভিলাস। মনির জানান, তার দ্বিতীয় সন্তান স্বর্ণা আক্তারের (১৬) বিয়ে হয়েছে। তাই রিকশা চালানো বন্ধ করার জন্য তার উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ২৮ বছর ধরে সন্তানের নির্দেশনায় রিকশা চালাচ্ছেন মনির হোসেন।

দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মনির বললেন ‘ আমি তো রিকশা চালানোর চাইতে অন্য কোনো কাজ ভাল করতে পারবো না। তাই এভাবেই কেটে যাবে আমার জীবন।’

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত