সর্বশেষ

  বাগবাড়িতে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আখড়ার পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন   কলকাতায় সম্মাননা পাচ্ছেন রাজ্জাক   জাকির হোসেনের সহায়তায় ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত রুমা ভারতে : চলতি সপ্তাহে অপারেশন   ভাস্কর্য অপসারণ ও শিক্ষক গ্রেফতারের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ   ভয়াবহ বিস্ফোরণ সাভারের ‘জঙ্গি আস্তানায়’   আর্জেন্টিনার কোচ সাম্পাওলিই   সাভারে ‘জঙ্গি আস্তানা’, পৌঁছেছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল   ডাব দেবে গরমে সতেজ অনুভূতি   কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন ওসি   গর্বিত রুনা লায়লা   হুমকিতে হাকালুকি হাওর এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন   বড়লেখায় চেয়ারম্যান কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা   আবু সাঈদ হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে জাউয়ায় মানববন্ধন   আমাদের পরিচয় ঢাকা পড়ে গেছে বিদেশি পরিচয়ে : এম.এ মান্নান   ইসলামী ব্যাংকের সিলেট জোনের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত   সহায়তার হাতে মলিন মুখে খুশির ঝিলিক   সুতাংয়ের ভূয়া ডা. বেলালকে গ্রেফতারের দাবি   জকিগঞ্জে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা   জগন্নাথপুরে আইডিয়াল ভিলেজ ফোরামের আত্মপ্রকাশ ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ   মৌলভীবাজারে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

জনশূন্য হবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল!

প্রকাশিত : ২০১৫-১০-৩১ ১৪:২৬:৫৭

ফিচার ডেস্ক : শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ॥ আমাদের এই বাস্তুজগতের নানান অনুষঙ্গ নিয়েই সকল প্রাণের জীবনযাপন। বায়ুমণ্ডলে থাকা হরেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পদার্থ থেকে শুরু করে নানান পদার্থ প্রতিদিন আমাদের জীবনযাপনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সেই উপাদানগুলোর মধ্যে পরিবেশগত দিক দিয়ে কার্বন-ডাই অক্সাইডের প্রভাব বেশ উল্লেখযোগ্য। কার্বন-ডাই অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রিন হাউজ গ্যাস যা ভূপৃষ্ঠের বিকীর্ণ তাপ শোষণ করে ভারসাম্য রক্ষা করে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কার্বণভিত্তিক জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তিত হচ্ছে আমাদের জলবায়ু। ধারনা করা হচ্ছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী ২১০০ সালের দিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পরবে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে পারস্যের উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গত হওয়ার পরিমাণ দিন দিন বাড়ার কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গত হওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষের দিকে ওই উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য তাপমাত্রা সহ্য করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। কারণ তখন গরমের পরিমাণ এত বেশি হবে যা মানুষের সহ্য সীমার বাইরে চলে যাবে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমান তাপদাহে বৃদ্ধরা ও অসুস্থরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এই তাপদাহের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুস্থরাও অসুস্থ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তখন সেই দেশগুলোতে সুস্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হবে। উচ্চ তাপের সঙ্গে আর্দ্রতার সংমিশ্রনে তখন ১৬৫ থেকে ১৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে অন্তত টানা ছয় ঘণ্টার জন্য। বেশকিছু নতুন গবেষণা মতে, তখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ ওই তাপ সহ্য করতে পারবে না।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) পরিবেশ প্রকৌশলী অধ্যাপক এলফেইথ এলথায়ার বলেন- ‘আপনি যদি একটি ভেজা স্টিমবাথে যান এবং সেখানকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মত করে দিন তাহলে আপনি তা কেবল কিছুক্ষনের জন্য সহ্য করতে পারবেন। কিন্তু ছয় ঘন্টা বা এরচেয়ে বেশি সময় তা সহ্য করা মোটেও সম্ভব না’।

২০০৩ সালে তাপ ও আর্দ্রতা একইভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে ইউরোপের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। এছাড়া আবুদাবি, দুবাই এবং দোহার মত দেশগুলোতে যদি এয়ার কন্ডিশনিং ব্যাবস্থা না থাকতো তাহলে সে দেশগুলো বসবাসের অনুপযোগি হয়ে যেতো। কিন্তু যারা বাইরে কাজ করে অথবা যাদের এয়ার কন্ডিশন নেই তাদের জন্য তাপের তীব্রতা সহ্য করা অনেক কঠিন। তেমনি আর একটি অঞ্চল মক্কা। সেখানেও তাপমাত্রা এত বেশি থাকে যার কারণে প্রতি বছর হজে অনেক হাজি গরমের কারণে মারা যায়। জলবায়ু বিষয়ক গবেষক চেরিস বলেছেন, যদি আমরা আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে আমাদের বসবাসের জন্য অন্য জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।

ওয়াশিংটনের জনস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড: হাভার্ড ফ্রামকিন বলেছেন- যদি পরিবেষ্টিত তাপমাত্রা অসহনীয় হারে বাড়তে থাকে তাহলে পৃথিবীতে মানুষ মারা যাবে। তার এই মন্তব্যের পর উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ভীতির মধ্যে পরে গেছে। যদি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কার্বন-ডাই অক্সাইডের এই নির্গমন রোধ করা যায় তাহলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করেন প্রকৌশলী এলথায়ার।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এসবি

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত