সর্বশেষ

  কবি শান্ত খুমন আর নেই   কর্মসংস্থান ব্যাংক অফিসার্স এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ রায়কে সংবর্ধনা প্রদান   ৫ পদে ৮ জন লোক নেবে সিলেট মহানগর পুলিশ   নবীগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলের চাপে গ্রাহক, এলাকায় অসন্তোস   বীরপ্রতীক কাকন বিবির শয্যাপাশে মহানগর যুবলীগের নেতৃবৃন্দ   হবিগঞ্জে চার শিশু হত্যা মামলা: ৩ আসামির ফাঁসির রায়   বিয়ের আগে রাজনীতি বুঝতাম না: রিজিয়া নদভী   কলেজছাত্রীকে পেটানো সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার   ওসমানীনগরের বেগমপুর শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল লতিফ আর নেই   মোবাইল কোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে রাখার দাবি ডিসিদের   এবারের এইচএসসির ফলাফলে গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল কলেজ শীর্ষে   বিয়ানীবাজারে জনতার হাতে প্রতারক আটক   রায় শোনার অপেক্ষায় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের নিহত ৪ শিশুর পরিবার   সিলেটের আইকন খেলোয়াড় সাব্বির   ফেসবুকে ‘বিশ্বনাথীকে’ নিয়ে শিক্ষকের কটুক্তি : উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ   জগন্নাথপুরে খুন ও ডাকাতির মামলার আসামি গ্রেফতার   কুলাউড়ার বন্যাকবলিত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইন : দুর্ঘটনার আশঙ্কা   ধর্মপাশায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা   বিয়ানীবাজারে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু   ওসমানী মেডিকেল কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আবিষ্কারের নেশায় সাঙ্গ হলো বর্ণাঢ্য মহাকাশ সপ্তাহ

প্রকাশিত : ২০১৫-১০-১৩ ০১:১৮:৫১

সাইফ সায়েম, শাবি : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৫ ॥ মহাকাশ কিংবা মহাশূন্য নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই। নেই উৎসাহের কোন ঘাটতি। গবেষণার মাধ্যমে অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। দুরন্ত মানবের এ ছুটে চলা মানুষের কল্যাণে সুবিধার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়াসে।

আসমুদ্র-হিমাচল বিজয়ী মানবজাতি যখন পৃথিবীর দিগ্বিদিক জয় করেছে, তখনই মানুষের দৃষ্টি পড়লো ধরাসীমার বাইরে, মহাশূন্যে। সেটা ১৯৫৭ সালের কথা।

ওই বছরের ৪ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’ সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়, যা মহাকাশের অভিযানের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

আর ১৯৬৭ সালের ১০ অক্টোবর মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রসমূহ চুক্তিস্বাক্ষর করে। এই দুইটি দিনকে স্মরণ করেই ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পালিত হয় ‘বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ’।

সেদিক থেকে পিছিয়ে নেই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। প্রযুক্তি শিক্ষার এ তীর্থস্থানে প্রতি বছরই ঘটা করে বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপন করে মহাকাশ ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক একমাত্র সংগঠন ‘ক্যাম সাস্ট’।

মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নেয় ক্যামসাস্ট। ৪ অক্টোবর (রোববার) দুপুর ১২টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শুরু হয়। এবারের মহাকাশ সপ্তাহের মূল থিম ‘আবিষ্কার’কে কেন্দ্র করেই উৎসবের মহাযজ্ঞ। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে বর্ণিল ফানুস উৎসবের আয়োজন করে সংগঠনটি।

পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে বুথ স্থাপন, সাইকেল র‌্যালি, চিত্র প্রদর্শনী, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি শো, বায়োস্কোপ প্রদর্শনী ইত্যাদির মাধ্যমে যেন পরিপূর্ণতা লাভ করেছে তাদের এ আয়োজন।

সোমবার অর্জুনতলায় উৎসবের টেন্ট এবং চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। এছাড়া মঙ্গলবার সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে সাইকেল র‌্যালির আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে মহাকাশ বিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী এবং সন্ধ্যায় তারকা অবলোকনের আয়োজন করা হয়।

উৎসবে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় ডকুমেন্টারি শো। যাতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। এসবের পাশাপাশি ছিল চলচ্চিত্র উৎসব।

উৎসবে চিত্রপ্রদর্শনী ও বায়োস্কোপের আয়োজন দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান দর্শনার্থী আরিফ, হেলাল, নূর, মোহাইমিন, মৌসুমী দে আর তামান্না।

উৎসবের শেষ দিনে, শনিবার মিনি অডিটোরিয়ামে মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে সেমিনার, পুরষ্কার বিতরণী এবং সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ণাঢ্য এ উৎসবের।

ক্যাম সাস্টের সভাপতি সৈয়দ ওমর ফারুক দৈনিক উত্তরপূর্বকে জানান- বিগত পুরো বছর ছিল আবিষ্কার কেন্দ্রীক, সম্প্রতি মহাকাশে নতুন নতুন আবিষ্কার, মঙ্গলে পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাই এবারের উৎসবে মূল থিম নির্ধারণ করা হয় ‘আবিষ্কার’।

বাংলাদেশের মানুষ জ্যোতির্বিদ্যা আর মহাশূন্য নিয়ে মানুষ আরও জানুক, এই উদ্দেশ্যেই কাজ করছে ক্যাম সাস্ট। বিশ্ব দরবারে শাবিপ্রবি তথা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে চায় ক্যামসাস্ট।

আয়োজকরা জানান- গতবছর সারাবিশ্বে প্রায় ২৩০০ স্থানে মহাকাশ সপ্তাহ উদযাপন হলেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ দশম স্থান অর্জন করে। এবার প্রথম হওয়ার লক্ষ্যে ‘ওয়ার্ল্ড স্পেস উইক’ পালন করছে ক্যাম সাস্ট ।
পৃথিবী ও মহাকাশ সম্পর্কে জানতে যারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন- মহাবিশ্বে জীবনের সন্ধান, জ্যোতির্বিদ্যার পরিচয় সম্পর্কে যারা আগ্রহী, মহাবিশ্বের রহস্যভেদে এবং নিজের মানসপটে অঙ্কিত মহাকাশের ধ্রæব রহস্যভেদের জন্যেই এ উদযাপন।

বাঙালিরাও একদিন মহাশূন্যে প্রেরণ করবে মহাকাশযান, পাড়ি দিবে চাঁদে কিংবা মঙ্গলগ্রহে, আর তাতে নেতৃত্ব দিবে শাবিপ্রবির তরুণ তুর্কিরা, এমন স্বপ্নের বাস্তবায়নই সবার কাম্য।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এসএস/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত