সর্বশেষ

  কানাইঘাটে লেগুনার ধাক্কায় নিহত ট্রাক চালকের দাফন সম্পন্ন   মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘হাত বাড়াও’   ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার   মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতকে ভাই-বোনসহ আটক ৩   ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫   বিশ্বভারতীতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত উপহারের ডালি   সুধীজনদের মিলনমেলায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   শাবিতে কর্মচারীকে বেধড়ক পিটুনী   বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু   বিদ্রোহী কমিটি গঠন নিয়ে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবৃতি   মিসবাহ সিরাজকে শুভেচ্ছা জানালেন নবগঠিত সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ   জমির উদ্দিন ভুলাই মেম্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল   বিশ্বনাথের দিঘলীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু   রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটিতে প্রিয়াংকা চোপড়া   ওসমানীতে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১   রাজনগরে ভাইয়ের হামলায় আহত ভাইয়ের মৃত্যু   বনানীতে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে   প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে সংবর্ধনা   ফের সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পেল বিএনপি   কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বৈরী আবহাওয়ায় কমেছে কমলার উৎপাদন

প্রকাশিত : ২০১৭-১০-২৭ ০১:৩৪:২০

সাইদুল হাসান সিপন, মৌলভীবাজার : শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭ ॥ বাগানের সবুজ গাছে দোল খাচ্ছে কমলালেবু। হেমন্তের হিমেল বাতাসে ছড়াচ্ছে কমলালেবুর সুবাস। দূর থেকে ব্যবসায়ীরা আসছেন চাষীদের বাড়ীতে কমলা কিনতে। কৃষকরাও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাগানে ব্যস্ত ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী বাগান থেকে কমলা সরবরাহ করতে।

বৃহত্তর সিলেটের কমলা স্বাদে, মানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিন দিন। এই কমলার বড় একটি অংশের উৎপাদন হয় মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায়। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা এ উপজেলার টিলাঞ্চলে কমলার ভালো উৎপন্ন হয়। জুড়ীর উৎপাদিত কমলার চাহিদা রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-বালাই, বিভিন্ন পোকার আক্রমণ, চোরের উপদ্রব, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ভাল চারা ও কীটনাশকের অভাব, বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতার কারণে কমলার চাষ ও উৎপাদন এখন কমতির দিকে।  তবে হতাশ নয় কৃষকরা-রঙিন স্বপ্ন বুনছেন তারা। জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন কমলাবাগান ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

সরকার উদ্যোগে ২০০১ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলায় কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা হয়। “কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন” নামক বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে শুরু করে কমলা চাষ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনের পর দিন বৃদ্ধি পায় এর পরিধি। বিদেশে যাবার প্রবণতা বাদ দিয়ে অনেকেই কমলা চাষে মনোযোগী হন। পাহাড়ী অঞ্চলের পাশাপাশি বস্তি এলাকার অনেকে বাড়ীর আঙিনায় সুযোগমত কমলার গাছ লাগিয়েছেন। কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষীরা কমলা চাষে মনোযোগী হন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চাষিদের বিনামূল্যে চারা ও সার দেওয়া হলে তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত জুড়ী উপজেলায় ৯১ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮৫ টি কমলা বাগান  হয়েছে। প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত চাষিরা নতুন নতুন বাগান সৃষ্টি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বেশী কমলা চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়। জুড়ী উপজেলার ছয় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাষ হচ্ছে কমলা। উপজেলার ৯১ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় ৮৫ টি কমলা বাগান রয়েছে। তন্মধ্যে গোয়ালবাড়ি শতকরা ৮০ ভাগ এবং বাকি ২০ ভাগ বাগান অন্যান্য ইউনিয়নে। গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ভারতের সীমান্তবর্তী হায়াছড়া, শুকনাছড়া, লালছড়া, কছুরগুল, লাটিঠিলা, লাটিছড়া, দিলকুশ গ্রামগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলা চাষ হচ্ছে।

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাটিছড়ার হোমিওপ্যাথি ডা. আব্দুল মান্নান ও সায়েব আলীর দুই একর জমিত প্রায় আড়াই শত কমলা গাছ রয়েছে। তারা জানান, এ বছর অতিবৃষ্টি, ঝড়-তুফান ও সময়মত শীতের কুয়াশা না পড়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে।

কচুরগুল গ্রামের কমলা ব্যবসায়ী মো. এনামুল হকে জানান, কমলা চাষীরা অধিকাংশই দরিদ্র থাকায় কমলাগাছে মুকুল আসার সাথে সাথে অগ্রিম বিক্রি করে দেন। আমি লাটিছড়া ও লালছড়া পাহাড়ে ৪টি কমলা বাগান ১ লক্ষ ২০ হাজার অগ্রিম দিয়ে ক্রয় করেছি। কিন্তু কমলার মুকুল আসার সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিবৃষ্টি ও কমলার উপর কুয়াশা না পড়ার কারনে কমলা ফলন ভালো হয়নি। বাগানগুলোর কমলা বিক্রি শুরু করেছি। কমলাগুলো সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা বিক্রয় করতে পারবো।

রুপাছড়ার মো. বাবুল মিয়া, লালছড়ার মো. অজু মিয়া, ডা. জালাল আহমদ, মো. বাহের আহমদ, মায়ারুন নেছা, শুকনাছাড়ার আব্দুস সহিদ, আজির উদ্দিন, মছব্বির আলী, মো. ইয়াকুব আলী, রেদওয়ান আহমদ শুভ, আল মাহমুদ জিলানসহ অনেক চাষীরাই জানান, এই এলাকায় কমলা চাষের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। সরকারের একটু সহযোগিতা পেলেই শুধুমাত্র জুড়ীর কমলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে বহু বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে। চাষীরা সরকারের কাছে দাবি করছেন, কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ, সার-ঔষধ ও ভালো মানের বীজের পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়ার।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জনান, এ বছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। কমলার জন্য জুড়ী একটি উর্বর এলাকা। বর্তমানে কমলা চাষের জন্য সরকারের “কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন” নামক বিশেষ প্রকল্পটির মেয়াদবৃদ্ধি না করায় কৃষকদের ঠিকমতো সুযোগ-সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সরকারে কাছে প্রকল্পটি চালু করার জন্য কয়েকবার আবেদনও করেছি। যদি প্রকল্পটি ফের চালু হয় তাহলে এ অঞ্চলে কমলা চাষের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এসএইচএস/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত