সর্বশেষ

  মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘হাত বাড়াও’   ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার   মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতকে ভাই-বোনসহ আটক ৩   ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫   বিশ্বভারতীতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত উপহারের ডালি   সুধীজনদের মিলনমেলায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   শাবিতে কর্মচারীকে বেধড়ক পিটুনী   বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু   বিদ্রোহী কমিটি গঠন নিয়ে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবৃতি   মিসবাহ সিরাজকে শুভেচ্ছা জানালেন নবগঠিত সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ   জমির উদ্দিন ভুলাই মেম্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল   বিশ্বনাথের দিঘলীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু   রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটিতে প্রিয়াংকা চোপড়া   ওসমানীতে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১   রাজনগরে ভাইয়ের হামলায় আহত ভাইয়ের মৃত্যু   বনানীতে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে   প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে সংবর্ধনা   ফের সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পেল বিএনপি   কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি   ‘ঈদের আগে জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করতে হবে’

বিরল উল্লুকের বাস নৈসর্গিক লাউয়াছড়ায়

প্রকাশিত : ২০১৭-০৮-০১ ০০:০৮:৩৯

জালাল আহমদ, মৌলভীবাজার : মঙ্গলবার, ০১ আগস্ট ২০১৭ ॥ মৌলভীবাজারের পর্যটনসমৃদ্ধ উপজেলা শ্রীমঙ্গল। দৃষ্টিজুড়ে সবুজ, উটের পিঠের মতোন টিলা আর মনোরম চা বাগান। কোনো কোনো স্থান ভ্রমণপিপাসুদের কাছে মেলে ধরার জন্যই যথেষ্ট। এ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া বনটি অনবদ্য।

রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত এই বনে রয়েছে হরেক প্রজাতির বন্যপ্রাণি আর নানা প্রজাতির বৃক্ষ। লাউয়াছড়ায় ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ আছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানটি শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা  থেকে ১৯৬ কিলোমিটার। এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।

বিরল প্রজাতির উল্লুকের বাস লাউয়াছড়ায়। মোট ১৬টি উল্লুক পরিবার হাজারও পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। লেজবিহীন বন্যপ্রাণি উল্লুক দেখতে অনেকটা বানরের মতো। ভারত, চায়না, মায়ানমার এবং বাংলাদেশসহ ৪টি দেশে ওদের প্রজাতি সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। আর কোনো দেশে উল্লুকের বসবাসের তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লুক সাধারণত পরিবারবদ্ধ হয়ে কমপক্ষে দুই থেকে পাঁচ সদস্য মিলে বাস করে। সাধারণত পুরুষ উল্লুক কালো রঙের ও নারী উল্লুক হয়ে থাকে সাদা আর বাদামি মিশ্রিত। উল্লুক পাহাড়ের উঁচু ও বড় বড় গাছের ডালে বাস করে।
 
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে উল্লুকের হৈ-হুল্লা ডাক। অনেক দূর থেকে শোনা যায় উল্লুকের ডাকাডাকি, পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এছাড়াও এই বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণির মধ্যে রয়েছে বানর, চশমাবানর, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মায়াহরিণ, বন্য শুকর ইত্যাদি। ২৪৬ প্রজাতির পাখিও রয়েছে সেখানে। এর মধ্যে ৮ প্রজাতির সুচক পাখিও আছে। সুচক পাখির মধ্যে ভিমরাজ, পাহাড়ি ময়না, কাওধনেশ, বনমোরগ, ফোঁটা কন্টি সাতভায়লা ও শ্যামা। লাউয়াছড়ার নৈসর্গিক দৃশ্য আর একটানা ঝিঁ ঝিঁ পোকার গুঞ্জন সত্যিই অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেয় পর্যটকের মন-প্রাণ।

শুধু কি তাই? বিভিন্ন ধরণের হরিণ হয়তো অনেকেই দেখেছেন, কিন্তু মায়াহরিণ! হ্যা, মায়াহরিণ অবলোকন করতে হলেও লাউয়াছড়ায় চোখ রাখতে পারেন ভ্রমণে। ভোরে লাউয়াছড়ার ফুট ট্রেইলে হাঁটতে থাকুন। চারদিকে নিঝুম আর নির্জনতা ভেদ করে পাহাড়ের মধ্য থেকে ভেসে আসবে মায়াহরিণের ডাক। তবে ভয়ের কিছু নেই। শব্দগুলো পাহাড়ের গায়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে পর্যটকদের কর্ণকুহরে মায়াময়ী ইন্দ্রজালের সৃষ্টি করবে। হয়তো শরীরটা খানিকটা ছমছম করতে পারে, লাগতে পারে রোমাঞ্চও।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গা ঘেঁষে রয়েছে ৩টি আদিবাসী পল্লী। আদিবাসী পল্লী ২টি খাসিয়া (মাগুরছড়া ও লাউয়াছড়া) ও অন্যটি ত্রিপুরাদের পাড়া। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সাধারণত পাহাড়ি কৃষ্টি-কালচারের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে, যা সাধারণের থেকে অনেক আলাদা। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ইত্যাদি দেখতে পারেন সেখানে। এগুলো অবশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা।

লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য : মাত্র ২৭৪০ হেক্টরের আয়তন হলেও জঙ্গলটির জীববৈচিত্র্য বিস্ময়কর রকমের সমৃদ্ধ। এখানে প্রায় ১৫৯ রকমের গাছ-গাছড়া পাওয়া যায়। আরও পাওয়া যায় ধনেশ, বনমোরগ, হরিয়ালসহ ১২০ রকমের পাখি।

স্তন্যপায়ীদের মধ্যে আছে লজ্জাবতী বানর, আসামী বানর, শূকরলেজি বানরসহ মোট ৬ প্রজাতির বানর, কমলা পেট কাঠবিড়ালি, খাটাশ, বনবিড়াল, সোনালী শেয়াল, শূকর, মায়াহরিণ, নানান জাতের সরীসৃপ ও সাপ। তবে এখানকার সেরা আকর্ষণ হতে পারে উল্লুক। মাত্র ৭০টির মতো আছে এই জঙ্গলে। উপমহাদেশে উল্লুকের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা এটি। বিপন্ন এই প্রাণিটির দেখা পাওয়া অবশ্য ভাগ্যের ব্যাপার। পূর্বে এই জঙ্গলে বাঘ, চিতাবাঘ, শম্বরহরিণ প্রভৃতি দেখা যেতো। ৭০ এর দশকের শুরুতেই এরা সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

যেভাবে যাবেন :
উদ্যানটি সিলেট বিভাগের জেলার শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৯৬ কিলোমিটার। সিলেট শহর থেকে দূরত্ব হবে প্রায় ৬০ কিলোমিটার। প্রথমে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল। শ্যামলী, হানিফের বাসভাড়া ৩২০ টাকা। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে অটোরিক্সায় যেতে পারেন। যাওয়া-আসায় ঘণ্টাখানিক সময় লাগবে। হোটেলে থাকতে হলে ৬০০ টাকার কম হবে না। জিপে গেলে ভাড়া বেশি। বাসে যেতে হলে রিক্সায় চলে যান ভানুগাছ রোড বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে বাসভাড়া ১০ টাকা হবে।

সতর্কতা :
> জঙ্গলের ভেতরে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না। এই উদ্যান দেশের জাতীয় সম্পত্তি। এর রক্ষণাবেক্ষণ করা নৈতিক দায়িত্ব।

উচ্চস্বরে গান বাজনা করবেন না কিংবা উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। জঙ্গলের পশুপাখিদের নিজস্ব জগত আছে, আপনার সরব উপস্থিতি দিয়ে নিশ্চয়ই তাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।

> শীতকাল ছাড়া অন্য সময় গেলে খুব সাবধানে থাকবেন, এই জঙ্গলে বেশ জোঁকের উৎপাত আছে। জুতা পরে জঙ্গলে প্রবেশ করুন। ঘাড়, হাত, পায়ের দিকে সতর্ক নজর রাখবেন। বিশেষ করে ছড়ার আশেপাশে জোঁক বেশি থাকে। জোঁক কামড়ালে টেনে ছাড়াতে যাবেন না। লবণ সাথে রাখবেন, লবণ ছিটিয়ে দিলেই কাজ হবে। লবণ না থাকলে সিগারেটের তামাকেও কাজ চালাতে পারেন।

> সাপ এড়িয়ে চলুন।

> জঙ্গলে দুর্বৃত্ত শ্রেণীর কিছু লোকের ঘোরাফেরা থাকে। এরা বন্যপ্রাণি দেখানোর কথা বলে জঙ্গলের  ভেতরে নিয়ে গিয়ে ছিনতাই করে। এদের ডাকে সাড়া দেবেন না।

>  বনের গভীরে যেতে চাইলে গ্রুপ হয়ে প্রবেশ করুন। একা না যাওয়াই ভালো।

> জঙ্গলের ভেতরের রেললাইন ধরে হাঁটাহাঁটি না করাই ভালো। কিছুক্ষণ পর পর ট্রেন যাতায়াত করে এই রেলপথ দিয়ে। অসতর্ক থাকলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/জেএ/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত