সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

মৌলভীবাজারে হলুদে সেজেছে প্রকৃতি, কদমের মৌ মৌ গন্ধ

প্রকাশিত : ২০১৭-০৫-২৮ ০০:০৫:৩৫

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ ॥ ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’। কিন্তু এখন কি বর্ষাকাল? বাংলা ক্যালেন্ডার খুঁজে দেখলাম, জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে।

কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। প্রতিবছরই কদম ফুল বর্ষার আগাম বার্তা বয়ে আনে প্রকৃতির বুকে। বর্ষাঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়েই ফুটে কদম ফুল। আর এটাই আবহমান বাংলার চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু চলতি বছরের রূপ একটু ভিন্ন। আষাঢ়ের দুই মাস আগে থেকেই প্রায়ই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি বা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

প্রকৃতিও যেনো বর্ষার এই আগাম আগমনে বিভ্রান্ত, তাইতো জ্যৈষ্ঠ মাসেই পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার অলি-গলিতে এখন হলুদে সেজেছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন মোড়ে দেখা মিলছে কদম ফুলের। এই বিরামহীন বর্ষনে গাছের শাখে শাখে সবুজ পাতার আঁড়ালে ফুটেছে অসংখ্য কদম ফুল। এছাড়াও জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কদম ফুল ফুটতে দেখা গেছে।

কদম নামটি এসেছে সংস্কৃত নাম কদম্ব থেকে। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে কদম ফুলের আধিপত্য। মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যেও কদম ফুলের সৌরভমাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাঁথা রয়েছে। ভগবত গীতাতেও রয়েছে কদম ফুলের সরব উপস্থিতি।

আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসটি হলো বর্ষাকাল। বাঙালির প্রিয় ঋতুর একটি। আর এই বর্ষাতেই কদম ফুলের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ যুগে যুগে শহর কিংবা গ্রামবাসীদের মুগ্ধ করে। বর্ষা এলেই কদম ফুটে, চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ফুলপ্রেমীদের।

খাল-বিলের উপচেপড়া পানি যেমন শাপলাকে সাজায়, তেমনি চারপাশের পরিবেশকে মাতিয়ে রাখে বর্ষার কদম ফুল। বর্ষা মানেই হলুদ-সাদা মিশ্র রঙের কদম ফুলে গাছ ছেয়ে যাওয়া। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাস। বর্ষা মানেই কদম ফুলের মতো তুলতুলে নরম বৃষ্টির রিনিঝিনি ধ্বনি।

কদম ফুলের আরেক নাম হল নীপ। ফুলের সৌন্দর্য্যের মতো আরও কয়েকটি সুন্দর নাম রয়েছে-  যেমন বৃত্তপু®প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি, সিন্ধুপু®প ইত্যাদি। কদম বর্ণে, গন্ধে ও সৌন্দর্যে এদেশের ফুল গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ফুলের বাহার যতোই থাক, কদমের কাঠমূল্য তেমন নেই। দ্রুত বেড়ে উঠলেও এর কাঠ নরম। এ কাঠ দিয়ে মূল্যবান আসবাব হয় না। কদম ফুলের রয়েছে নানা উপকারিতা। তথ্যমতে জানা যায়, কদম গাছের বাকল জ্বরে উপকারী, পাতার রস কৃমিতে ব্যবহার্য। বাকল ও পাতা ব্যথানাশক। মুখের ঘায়েও পাতার রস কার্যকরী। কদম গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয় দিয়াশলাই।

কদম ফুলকে বলা হয় ঋতুর বাহক, প্রকৃতির হাসি। প্রকৃতির এই সাজ ও হাসিকে অব্যাহত রাখার জন্যই ঋতুতে ঋতুতে দেখা যায় চেনা-অচেনা অসংখ্য ফুলের সমারোহ। এমনই একটি ঐতিহ্যবাহী বন ফুল হচ্ছে কদম।

মোহনীয় গন্ধে ভরপুর এই কদম ফুলকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যে রচিত হয়েছে অসংখ্য ছড়া, কবিতা গান ও উপন্যাস। বাঙালি ও কদম ফুল একই সূত্রে গাঁথা। বর্তমানে এই ফুল প্রকৃতি থেকে একরকম বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। আগের মতো সর্বত্র দেখা যায় না কদম ফুল গাছ।

যান্ত্রিক সভ্যতা ও নগরায়ণের যুগে মানুষ সামান্য প্রয়োজনেই কদমকে তুচ্ছ গাছ মনে করে কেটে ফেলছে। অন্যান্য গাছের মতো যত্ন করে এখন আর কেউ এ গাছ রোপণ করে না। কোথাও অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে উঠে দু’একটি গাছ। শোভা বর্ধনের পাশাপাশি এই ফুলের রয়েছে অনেক ভেষজ এবং অর্থনৈতিক গুনাগুণ।

কদম ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম: Anthocephalus indicus. আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। কদম গাছের পাতা লম্বা, উজ্জ্বল সবুজ ও চকচকে। বসন্তের শুরুতে গাছে নতুন পাতা গজায় এবং শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়। কদম ফুল গোলাকার। পুরো ফুলটিকে একটি ফুল মনে হলেও এটি আসলে অসংখ্য ফুলের গুচ্ছ।

এ ফুলের ভেতরে রয়েছে মাংসল পুষ্পাধার, যাতে হলুদ রঙের ফানেলের মতো পাঁপড়িগুলো আটকে থাকে। পাঁপড়ির মাথায় থাকে সাদা রঙের পরাগদণ্ড। ফল মাংসল, টক এবং বাঁদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয়খাদ্য। ওরাই বীজ ছড়ানোর বাহন।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/জেএ/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত