সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

বাঁশি আমার সঙ্গে, আমি বাঁশির সঙ্গে : বারী সিদ্দিকী

প্রকাশিত : ২০১৭-১১-২৭ ১২:৪৫:৫৭

বিনোদন ডেস্ক : সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ বারী সিদ্দিকী দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় বংশীবাদক। হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে গান গেয়ে রাতারাতি তিনি পেয়ে যান গায়ক হিসেবে শ্রোতাপ্রিয়তা। কিন্তু বারী সিদ্দিকী বলেন, ‘আগে আমার বাঁশি বাজবে, পরে আমার গান।’ ‘আনন্দ’র জন্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন কবির বকুল। ২০০০ সালের ১০ আগস্ট তা প্রকাশিত হয়। বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাক্ষাৎকারটি আনন্দ থেকে হুবহু তোলে ধরা হলো।

আনন্দ: বাঁশির সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব কত দিনের?
বারী সিদ্দিকী: আমার বয়স যখন ছয় বছর, তখন থেকেই বাঁশির সঙ্গে সম্পর্ক।

আনন্দ: সম্পর্কটা কীভাবে তৈরি হলো?
বারী সিদ্দিকী: আমার বড় দুই ভাই আছেন। দুজনই বাঁশি বাজাতেন, তাঁদের বাঁশি নিয়েই বাজাতাম। পারিবারিকভাবে মানে আমার নানা সন্তুর বাজাতেন আর আমার মা একটু একটু গানবাজনা জানতেন। কোনো প্রফেশনাল না, বাবার কাছে একটু একটু শুনেছেন হয়তো। সত্যিকার অর্থে বাঁশি নিয়ে যে সুরটি আমি শিখতে চেষ্টা করি, সেটা আমার মায়ের কাছ থেকে শোনা। এরপর আমি গান শিখেছি বেশ কয়েক বছর নেত্রকোনার এক ভদ্রলোকের আছে। তাঁর নাম গোপাল ভট্ট।

আনন্দ: আর বাঁশি?
বারী সিদ্দিকী: আমার প্রথম গুরু ছিলেন বাঁশির জনক পান্নালাল ঘোষের শিষ্য ওস্তাদ আমিনুর রহমান। তাঁর মৃত্যুর পর আমিনুর রহমানের গুরুভাই পণ্ডিত ভিজি কারনাডের কাছে শিখছি। তিনি ভারতের পুনায় থাকেন।

আনন্দ: আপনি একক কোনো প্রোগ্রাম করেছেন?
বারী সিদ্দিকী: বহুবার পৃথিবীর বহু দেশে একক প্রোগ্রাম করেছি।

আনন্দ: একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। যখন আপনি ওস্তাদ হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার বাঁশি শোনেন, তখন তাঁর সঙ্গে আপনার পার্থক্যটা কী মনে হয়?
বারী সিদ্দিকী: আমার সঙ্গে একটা জায়গায় পার্থক্য মনে হয়। সেটা হলো আমার চেয়ে তিনি আরও পলিশড বাজান, আমার থেকে একটু এগিয়ে।

আনন্দ: আপনার কি তাঁর বাজনা শুনে মনে হয় না আমরা এখনো কিছুই শিখিনি?
বারী সিদ্দিকী: না, এ রকম মনে হয় না। আমার বরং একটু উল্টো মনে হয়। কমার্শিয়ালিটি একটু বেশি কাজ করে উনার মধ্যে। কারণ বম্বের ফিল্মে কমপক্ষে ৪০ বছর বাজিয়েছেন উনি। ‍কিন্তু ক্লাসিক্যাল মিউজিক আসলে ভিন্ন একটা জিনিস। এটা শাস্ত্রীয় সংগীত। সেখানে কিছু শাস্ত্রের ব্যাপার আছে। সেখানে আমি একটা মিষ্টি জিনিস ফিল্মে বাজিয়ে দিলাম, সেটার যে রকম কদর বা সা রে গা তিনটা নোটই একজন ক্ল্যাসিক্যাল মাস্টার করালেন বিভিন্নভাবে তার ইনার ফিলোসফি দিয়ে। সুরের ভেতরের যে বিষয়টা, সুরের একজন গবেষক বা ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিশিয়ান করেন, সেই দিক থেকে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার বাজনা হালকা।

আনন্দ: আপনি যে কথাটা বললেন, তা নিয়ে যদি তীব্র সমলোচনা হয়?
বারী সিদ্দিকী: আমাদের দেশে হয়তো সমালোচনা হতে পারে। সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রসঙ্গক্রমে আরেকটা কথা বলব, কিছুদিন আগে আমি একটা সাক্ষাৎকারে বলেছি, আমাদের দেশে হারমোনিয়াম বাজিয়ে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক করা হয়। এটা হারাম।

আনন্দ: এটা হারাম কেন?
বারী সিদ্দিকী: এটা হারাম এ জন্য যে, এই বিষয়গুলো আসলে কীভাবে বোঝাব? আমরা আসলে সংগীতে খুব দুর্বল। সংগীতের অনেক পেছনে আছি আমরা। আমি একজন সংগীতের শিক্ষার্থী হিসেবেই বলি, এখন আপনাকে যদি বলি হারমোনিয়ামে মীর হয় না।

আনন্দ: আড়ি তো করা যায়?
বারী সিদ্দিকী: হ্যাঁ, আড়ি করা যায়। কিন্তু আড়ি তো অন্য জিনিস। আড়ি হচ্ছে তালের একটা অংশ, টিউনের না। যা-ই হোক, আমাদের দেশে হারমোনিয়াম বাজিয়ে মালকোষ গাওয়া হয়, এটা অন্যায়। পৃথিবীর অন্য দেশে এ রকম হয় না।

আনন্দ: ভারতে যখন হরিহরণ বা অজয় চক্রবর্তী হারমোনিয়ামে ক্লাসিক্যাল পরিবেশন করেন, তখন?
বারী সিদ্দিকী: তাঁরা হারমোনিয়ামে ক্ল্যাসিকাল গান পরিবেশন করেন, রাগ-রাগিণী পরিবেশন করেন না। এটা শুধু আমাদের দেশে হয়।

আনন্দ: কারা করছেন?
বারী সিদ্দিকী: কারও নাম বলার দরকার নেই। রেডিও-টেলিভিশনে হচ্ছে। নাম বলে অনর্থক কাউকে আঘাত করার দরকার নেই।

আনন্দ: গানে আপনি টার্ন করলেন কেন?
বারী সিদ্দিকী: গান তো আমি ছোটবেলা থেকেই করতাম। নিজের জন্যই আমি গান করতাম। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে কারও ডিরেকশন ফলো করি নাই। যা আমি চিন্তা করি তাই চেষ্টা করেছি করতে। কারণ আমি জানি, এই গানের সুরের ডেভেলপমেন্ট আমার।

আনন্দ: গানগুলো আপনি সংগ্রহ করেছেন? নাকি হুমায়ূন আহমেদ সংগ্রহ করেছেন?
বারী সিদ্দিকী: না, সব আমার সংগ্রহ। হুমায়ূন আহমেদ আমাকে বলেছিলেন, ‘বারী, আমি একটা ছবি বানাচ্ছি শ্রাবণ মেঘের দিন নামে। আমাকে কিছু গান দেন। ছবিতে একটা বাউল চরিত্র আছে।’ তো আমি বললাম, ঠিক আছে। আপনার সিনেমার পাণ্ডুলিপিটা দেন, আমি দেখি। যা-ই হোক, পাণ্ডুলিপি পাইনি কিন্তু কাহিনি শুনলাম। এরপর হুমায়ূন আহমেদ তাঁর জন্মদিনে আমাকে দাওয়াত দিলেন। আমি যাওয়ার পর বললেন, কিছু গেয়ে শোনান। আমি গাইলাম। তারপর একদিন তিনি বললেন, আমার ছবিতে আপনাকেই গান গাইতে হবে। প্রথমে আমি রাজি হই নাই। আসলে আমার কাছে বাঁশি, গান আলাদা কিছু না।

আনন্দ: ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে দু-একটি গানের কিছু কিছু কথা বোঝা যায়নি। এটা কেন হয়েছে?
বারী সিদ্দিকী: আসলে কথা না বোঝার একটা কারণ হলো, মিক্সিংটা ঠিক হয়নি।

আনন্দ: ফোকের যে আবেদন, মানে একটা আধুনিক গানের সঙ্গে ফোক গানের যে তফাত, তা সবার গলায় মানায় না। আর এখন আমাদের দেশে ফোকের যে চর্চা বা অপচর্চা হচ্ছে, সেই সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
বারী সিদ্দিকী: কারও সমালোচনা না করেই বলছি, আমি নিজে ফোক গান করি। ফোক গান হচ্ছে খুবই ক্লাসিক্যাল একটি ফর্ম। আসলে গানের ক্ষেত্রে দুটি জিনিসই প্রতিষ্ঠিত হয়ে রয়েছে। একটি ফোক আর একটি ক্ল্যাসিক্যাল। এই দুটির মাঝখানে কিন্তু আর কিছু নেই। যা আছে সেটা আমরা তৈরি করে নিচ্ছি।

আনন্দ: আচ্ছা ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ যদি ক্লিক না করত, তাহলে আপনি কী করতেন?
বারী সিদ্দিকী: ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ক্লিক করবে কি না এ রকম চিন্তাও আমি করি নাই। স্টুডিওতে গেছি। নিজের ইচ্ছামতো একটা গান গেয়েছি। অনেকে বলেছে, বারী ভাই আর একটা টেক দেবেন? আমি বলেছি, না, যা ভালো বুঝেছি তা-ই করেছি। এটাকে আরও পলিশড করতে গেলেই এটা কিছু হবে না।

আনন্দ: এই যে আপনি এখন একটা আলাদা ক্যাসেটের কাজ করছেন, তাতে বংশীবাদক হিসেবে আপনার যে একটা পরিচিতি আছে, তা কি সমস্যা করবে বলে মনে হয়?
বারী সিদ্দিকী: আমার মনে হয় না। আমি কোনো প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি না। কেউ যদি মনে করে উনি আর বাঁশি বাজাচ্ছেন না, আমি কিছু মনে করব না। কারণ বাঁশি কিন্তু বাজবে।

আনন্দ: তাহলে আপনার প্রথম পছন্দ বাঁশি?
বারী সিদ্দিকী: এটা পছন্দের বিষয় না। বাঁশি আমার সঙ্গে, আমি বাঁশির সঙ্গে। আমার পছন্দ করার কোনো সময় নেই। আমি এর সঙ্গেই মিশে আছি।

আনন্দ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
বারী সিদ্দিকী: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ‘সা’ লাগানো। আর কিছু না।

আনন্দ: যখন দেখেন কোনো বেসুরো গানের ক্যাসেট হিট হয়ে গেল, তখন কেমন লাগে?
বারী সিদ্দিকী: আমার ভালো লাগে।

আনন্দ: কেন?
বারী সিদ্দিকী: ভালো লাগে। কারণ একটা মানুষ গান গাইল, কিন্তু কেউ বুঝল না, শুনল না, কিন্তু সুপারস্টার হয়ে গেল। ব্যাপারটা অনেকটা কার্টুনের মতো।

আনন্দ: আপনার কী মনে হয় না, আমাদের দেশের শ্রোতারা অজ্ঞ?
বারী সিদ্দিকী: আসলে শ্রোতাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ আমরা সেভাবে ভালো কিছু দিতে পারি না। আমি তো লো-রিদমের ক্ল্যাসিক্যাল গান শুনিয়ে দেখেছি। সবাই পছন্দ করেছেন। তার মানে আমরা ভালো জিনিস দিলে অবশ্যই শ্রোতারা তা গ্রহণ করত। (সূত্রঃ- আনন্দ)

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এমএস

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত