সর্বশেষ

  কানাইঘাটে লেগুনার ধাক্কায় নিহত ট্রাক চালকের দাফন সম্পন্ন   মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘হাত বাড়াও’   ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার   মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতকে ভাই-বোনসহ আটক ৩   ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫   বিশ্বভারতীতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত উপহারের ডালি   সুধীজনদের মিলনমেলায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   শাবিতে কর্মচারীকে বেধড়ক পিটুনী   বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু   বিদ্রোহী কমিটি গঠন নিয়ে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবৃতি   মিসবাহ সিরাজকে শুভেচ্ছা জানালেন নবগঠিত সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ   জমির উদ্দিন ভুলাই মেম্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল   বিশ্বনাথের দিঘলীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু   রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটিতে প্রিয়াংকা চোপড়া   ওসমানীতে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১   রাজনগরে ভাইয়ের হামলায় আহত ভাইয়ের মৃত্যু   বনানীতে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে   প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে সংবর্ধনা   ফের সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পেল বিএনপি   কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সালমান শাহর মৃত্যু: তদন্ত অব্যাহত, জানাল পিবিআই

প্রকাশিত : ২০১৭-১১-২০ ২০:০৯:১০

বিনোদন ডেস্ক : সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ ॥ চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের ‘অগ্রগতির’ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হলেও তাতে নতুন কিছু আসেনি।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালতে সোমবার দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, তদন্ত ‘অব্যাহত রয়েছে’।

অপমৃত্যুর ঘটনা ধরে পিবিআইর তদন্ত চললেও সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার বলে দাবি করে আসছেন তার মা নীলা চৌধুরী। ‘আসামি’ রাবেয়া সুলতানা রুবি নামে এক নারীর সাম্প্রতিক এক ‘স্বীকারোক্তি’কে নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তার মধ‌্যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের বাসা থেকে সালমান শাহর (চৌধুরী মো. ইমন) লাশ উদ্ধার করা হয়।

তখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা ধরে অপমৃত্যুর একটি মামলা হলেও তাতে আপত্তি জানায় তার পরিবার। তারপর বিষয়টি আদালতে ঝুলতে ঝুলতে গত বছরের ডিসেম্বরে আদালত পিবিআইকে তদন্ত করতে বলে।

তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে সিরাজুল বলেন, সালমান শাহের মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। সাক্ষী হিসেবে হুমায়ুন কবির, আ. সালাম, দেলোয়ার হোসেন শিকদার, আ. খালেক হাওলাদার, বাদল খন্দকার (চলচ্চিত্র পরিচালক), শাহ আলম কিরণ (চলচ্চিত্র পরিচালক), মুশফিকুর রহমান গুলজার (চলচ্চিত্র পরিচালক), এস এম আলোক সিকদার ও হারুন আর রশিদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তিনি।

“সাক্ষীদের ঠিকানা নির্ণয়ের জন্য কতিপয় সাক্ষীর স্থায়ী ঠিকানায় অনুসন্ধান স্লিপ ইস্যু করি। রুবির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করি। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

সালমান শাহর ‘বিউটিশিয়ান’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রুবি কয়েক মাস আগে ফেইসবুকে এক ভিডিওতে বলেন, আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়েছিলেন সালমান শাহ এবং তা করিয়েছিল তারই স্ত্রী সামিরা হকের পরিবার।

এনিয়ে তুমুল আলোচনা শুরুর পর আবার নিজের ওই বক্তব্য অস্বীকার করেছিলেন এই নারী। তবে সালমান শাহর পরিবার হত্যার কথায় অনড়।

বাদী পক্ষের প্রধান আইনজীবী মাহফুজ মিয়া পিবিআইর তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এ তদন্তে কোনো ফলই পাওয়া যাবে না।

“২১ বছর ধরেই তো তদন্ত হচ্ছে। অপমৃত্যু মামলার তদন্ত হলে তো কিছুই আসবে না। হত্যা হয়েছে বলে ১৬৪ ধারায় কত আগেই তো রিজভী আহমেদ জবানবন্দি দিয়েছে হাকিমের কাছে।

“সম্প্রতি বিদেশে বসে রাবেয়া সুলতানা রুবী তো গণমাধ্যমে হত্যার কথা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। তবে কেন অপমৃত্যুর ফালতু তদন্ত? হত্যার তদন্ত চাই আমি।”

সালমান শাহর মৃত্যুর এক বছর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী হত্যার অভিযোগ তুলে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন।

তখন অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, তারা আত্মহত্যার আলামতই পেয়েছে।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১২ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। এর মধ্যে কমরউদ্দিন মারা গেলে মামলাটি চালিয়ে যান নীলা চৌধুরী, যিনি এখন যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতে অপমৃত্যুর কথাই বলা হয়।

নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে ‘নারাজি আবেদন’ দাখিল করেন।

তখন হত্যাকাণ্ডের আসামি হিসেবে সালমানের স্ত্রী সামিরা, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, রুবি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্যপরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, মোস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগমের নাম উল্লেখ করেন নীলা চৌধুরী।

আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র‌্যাবকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল আদালতে আবেদন করলে তা বাতিল হয়। এরপর পিবিআইকে দেওয়া হয় তদন্তভার।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/এমওআর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত