সর্বশেষ

  মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি আরবে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা   বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ   শাবি থিয়েটার সাস্টের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন   লাউয়াছড়া উদ্যানে ট্রেনে কাটা পড়ে হরিণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উল্লুকের মৃত্যু   জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া   সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ   মোগলগাঁও ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক, অতঃপর....   ধর্মপাশা মুক্ত দিবস পালিত   মাধবপুরে গোপনে জয়িতা তালিকা!   শ্রীমঙ্গলে ৪ বছরের মাথায় দুটি শাবকের জন্ম দিলো মেছো বাঘ   ভারতে বাংলাদেশী শ্রমিক হত্যায় তাহিরপুর উত্তাল: বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বাতিল   অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা আটক   ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৬ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৫ আসামির বিচার শুরু   মায়ানমারকে মালয়েশিয়ার সেনা প্রধানের হুমকি!   আজই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মুশফিকরা   দুর্নীতি মামলায় জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের জামিন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার   আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস   চট্টগ্রামে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‌্যাবের অভিযানে আটক ৩

‘সাহসী’ বাজেট নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২০১৫-০৬-০৪ ১২:১২:৪৮

উত্তরপূর্ব ডেস্ক: ৪ জুন, ২০১৫ ॥ ৩ লাখ কোটি টাকার ব্যয়ের ফর্দ ধরে তার দুই-তৃতীয়াংশই রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বিশ্ব বাজারে সস্তা জ্বালানি তেল, কয়েক মাসের ঝড়ের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির মধ্যে দেশবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বড় ব্যয় পরিকল্পনা করে নিজেকে সাহসী ভাবছেন ৮৩ বছর বয়সী মুহিত।
সব উপজেলায় কর অফিস স্থাপন, কর কর্মকর্তাদের ‘পুরোনো স্টাইল’ থেকে বেরিয়ে আসার সতর্কবার্তা এবং জরিপ করে পাওয়া নতুন ৫ লাখ করদাতাকে করজালে নিয়ে আসা রাজস্ব আদায়ে উচ্চাভিলাষী হতে আশাবাদী করছে তাকে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতার মধ্য দিয়ে টানা ৭ম বারের মতো বাংলাদেশের বাজেট উপস্থাপনের মতো বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হতে যাচ্ছেন মুহিত।  
শেখ হাসিনার সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এর আগে ছয় বার বাজেট দিয়েছেন তিনি। আর ব্যক্তিগতভাবে এটা হতে যাচ্ছে তার নবম বাজেট।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের আগের দিন বুধবার অর্থমন্ত্রী বলেন- “বড় বাজেট দিতে দিতে আমার সাহস হয়ে গেছে, আশাবাদী করেছে আমাকে। সেই সাহস-আশাবাদ থেকেই এবার আমি ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছি।”
এই ‘বড়’ বাজেট বাস্তবায়নের জন্যই ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে, বলেন তিনি। নিজেই বলেন, অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটই তাকে সাহসী করে তুলেছে।
“সত্যিই একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থার মধ্যে বাজেট দিতে যাচ্ছি এবার…। এমন ফুরফুরে মেজাজে আগে কখনও বাজেট দিইনি। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। হরতাল-অবরোধ চিরবিদায় নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে।”
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে আসাকে বিনিয়োগের জন্য সেরা সুযোগ বলে মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তারাও। তবে তাদের হতাশা রয়েছে গ্যাস-বিদ্যুৎ না পাওয়ার।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক বছরে অর্ধেকে নেমে এসেছে। খাদ্যপণ্যের দামও এখন কম। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।
বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড গড়ে ২৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়ছে। আমদানি বাড়ার সঙ্গে রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক ধারা।
“সব মিলিয়েই আমাকে সাহস দিয়েছে বড় বাজেট দিতে,” বলেন মুহিত।

গত কয়েক বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের ৫ বছরে সরকারের আয় অর্থাৎ রাজস্ব আদায় বেড়েছে গড়ে ১১ শতাংশ হারে। একবার ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়ে।
পাল্লা দিয়ে ব্যয়ও বাড়িয়েছে সরকার। তবে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি কোনোবারই ৫ শতাংশের বেশি হতে দেননি অর্থমন্ত্রী।এমনকি এবার মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা মেটাতে গিয়ে গত ১৪ মে এনইসির সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা এডিপির বাড়তি বরাদ্দের অনুরোধও মেটানোর সাহস দেখাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
যে কারণে রাজস্ব আয়ের প্রাথমিক প্রাক্কলন ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটির বদলে এনবিআরকে আদায় করতে হবে এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত আয় ধরলে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা।
তবে এই বিশাল অর্থ আদায়ে নতুন করের বোঝা চাপাবেন না বলে জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন মুহিত।
সেক্ষেত্রে দুই লাখ কোটি টাকা কোত্থেকে আসবে?
“করজালের বাইরে থাকা সক্ষম খানাকে করের আওতায় এনেই এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে,” উত্তর অর্থমন্ত্রীর।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন- “সব উপজেলায় আয়কর অফিস করব আমরা। এনবিআরের লোকজনকে বলা হয়েছে- ওই লোকের কাছ থেকে ১০ টাকা পাও, তার থেকে ১২ টাকা নিতে হবে; নট দ্যাট। ওই লোকের কাছ থেকে ১০ টাকা পাও নাও..। তার সঙ্গে আরো ১০টা লোককে নিয়ে আসতে হবে..।
“আমি আশা করি এভাবেই ১১ লাখ থেকে করদাতার সংখ্যা ২০ লাখ, ৩০ লাখ, ৪০ লাখ পেরিয়ে যাবে। বাড়বে রাজস্ব।”
তবে অর্থমন্ত্রীর জন্য সতর্ক বার্তা হতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের বক্তব্য।

“৪ বছর ধরে দেখতে পাচ্ছি, বাজেটে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় সেগুলো অর্জিত হয় না। রাজস্ব আহরণ, এডিপি বাস্তবায়ন, সার্বিক ব্যয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি সব মিলিয়েই লক্ষ্য অর্জিত হয় না।”
নতুন অর্থবছরের বাজেটকে তাই ‘বাস্তবসম্মত’ করার পরামর্শ দিয়েছেন মির্জ্জা আজিজ।
চার দশক আগে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তিনটি বাজেট দেওয়া জিয়াউর রহমানের শেষ বাজেটও ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকার মধ্যে।
৪ হাজার ১০০ কোটি দিয়ে শুরু করে সবচেয়ে বেশি বার বাজেট দেওয়া প্রয়াত সাইফুর রহমানের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকার।

মাঝে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে বাজেটের আকার বাড়াতে অতটা উদার দেখা যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসনামলে মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের বাজেটও ছিল ১ লাখ কোটির মধ্যে।মধ্য আয়ের দেশে বাংলাদেশকে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মুহিত সাহস দেখাচ্ছেন বড় বাজেট দেওয়ার।
‘দিনবদলের স্বপ্ন’ দেখানোর দর্শন নিয়ে ক্ষমতায় আসা শেখ হাসিনার সরকার বা তার দল আওয়ামী লীগ কতটুকু সফল সে স্বপ্নপূরণে?

উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন- “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯-১০ অর্থবছরে আমি যে বাজেট দিয়েছিলাম তার আকার ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। সাত বছরের মাথায় ৩ লাখ কোটি টাকার যে বাজেট দিচ্ছি, সেটা দিনবদলের স্বপ্ন পূরণেরই বাজেট।
“সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে…। ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ে দেশে পরিণত হব।”

এবার জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৭.১%
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধির (মোট দেশজ উৎপাদন) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যে তথ্য প্রকাশ করেছে; তাতে বলা হয়েছে- এবার ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন বাজেটে গতবারের চেয়ে কম ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণাও দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ৮৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি হবে বলে জানিয়েছেন বাজেট প্রণয়নে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/বিডি/এসবি

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত