সর্বশেষ

  উত্তরপূর্ব’র ঈদ শুভেচ্ছা   ইলিয়াস পত্নী তাহসিনা রুশদী লুনা’র ঈদ শুভেচ্ছা   ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুসল্লিরা: সিলেটে ঈদগাহে জামাত আদায় নিয়ে শঙ্কা   হতবাক অপু   সিলেটে ঈদ জামাত কখন কোথায়   ইসকন সিলেটের রথযাত্রা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যন্য ঐতিহ্য : মেয়র আরিফ   চাঁদ দেখা গেছে : কাল প্রতীক্ষার ঈদ উৎসব   ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেলে ঈদ উৎসবের ভিড়ে গাড়ি : আহত ৬   ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রকাশনার বিকল্প নেই : শফিকুর রহমান চৌধুরী   নামতে হবে ব্যাটিংয়ে, মগ্ন তিনি বইয়ের পাতায়   তারেক মাসুদকে উৎসর্গ করে পতুর্গালে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব   ওসমানীনগরে মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে বিড়ম্বনার শিকার শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা   লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুটবলারকে লন্ডন প্রবাসী ও বন্ধু মহলের সাহায্য প্রদান   বিশ্বনাথে ভিক্ষুকদের মধ্যে শফিকুর রহমান চৌধুরীর অর্থ বিতরণ   জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোয়াজ্জিনের মৃত্যু   ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের শুভেচ্ছা   ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি সিসিক মেয়রের শুভেচ্ছা   এসএসসির পর ভর্তি উদ্বেগ   বরমচাল দরিদ্র কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ   পাকিস্তানে তেলের লরিতে আগুন : নিহত ১৪০

কতটা নিরাপদ প্রধানমন্ত্রী?

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-২১ ০১:৪২:৪২

উত্তরপূর্ব ডেস্ক : শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৫ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি নেদারল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তিনি মিলিতও হয়েছিলেন। দেশে ফিরে সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি-জামাত থেকে যারা আমার দলে আসতে চায়, তাদের আমরা নেব না। আওয়ামী লীগের এমন দুর্দিন আসে নাই যে জামায়াত-বিএনপি থেকে লোক এনে দল চালাতে হবে।’
 
তবে প্রধানমন্ত্রীর নেদারল্যান্ড সফরকালীন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে।আর এরপর থেকেই আলোচনার জন্ম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহলে কতটা নিরাপদ?
 
ওই ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যুবদলের এক নেতাকে। বাংলাদেশে থাকা কালীন সময়ে বিএনপির গুম হয়ে যাওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলী সিলেট আসলে ঐ নেতার গাড়িতেই চড়তেন বলে জানা গেছে। যে কিনা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তারা দুই ভাই একসাথে আওয়ামী লীগে সরব হয়েছেন।
 
কিন্তু এই মানুষটি কবে, কিভাবে এবং কার মাধ্যমে আওয়ামী লীগে বা যুবলীগে যোগ দিলেন তা কেউই জানেন না । কার হাত ধরে শেখ হাসিনার এতো কাছে যাওয়ার সুযোগ পেলেন এই নেতা? সম্প্রতি এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক নিবেদিত আওয়ামী লীগকর্মী।  
 
কারণ, দীর্ঘদিন ধরে যারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত , নানা রকম হামলা মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের অনেকেরই সৌভাগ্য হয়নি আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করার। যুবদলের এই নেতা বছর দুয়েক আগেও ব্রিটেনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধ্, আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধ্ রাজপথে মিছিল মিটিং করেছেন। সেই একই ব্যাক্তি কীভাবে রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়ে একদম শেখ হাসিনার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো!
 
এছাড়া সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার সময় নানা ভাবে তাঁদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস যাচাই করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার কাছাকাছি যারা যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁদের ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক ইতিহাস যাচাইয়ের কি কোন ব্যবস্থা আছে? অশুভ চক্র ১৯৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁদের মানুষকে নিয়োগ করেছে। ছোবল দেয়ার সময়ই এরা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে।
প্রধানমন্ত্রী কি নিরাপদ?

১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় সৌভাগ্য ক্রমে বিদেশে থাকায় সেদিন বেচে গিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা। খুনীরা হয়তো ধরে নিয়েছিল এই দুই কন্যা আর বাংলাদেশে কোনদিন ফিরে যাবে না। খুনীদের সেই ধারণা কে মিথ্যে করে দিয়ে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। এর পর একে একে ছোট বড় মিলিয়ে ১৯ বার হত্যার উদ্দ্যেশ্যে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। বারবার তিনি নেতা কর্মীর বুকের রক্তে কখনো ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। এই খুনি চক্র আজ ও হাত পা গুটিয়ে বসে নেই।
 
চলতি বছরের মে মাসে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের ‘নিরাপত্তা হুমকি’  থাকায় ওই পরিবারের সাত সদস্যের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় ১৩টি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ছয় ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বাসভবনের চারপাশে সুউচ্চ ভবনের বাসিন্দাদের ওপর সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি করা হবে। এমনকি আবাসস্থলের আশপাশে কোনো ভবন, স্থাপনা বা অবস্থান থেকে কোনো প্রকার হুমকি সৃষ্টি করার মতো অবস্থা থাকলে ওই স্থাপনা অপসারণ কিংবা পরিবর্তনের মাধ্যমে আবাসস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
 
২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয় জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন-২০০৯’-এর ৪ (৩) ধারা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই ধারায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা ও এই বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
 
কিন্তু এই সব আইনের ফলে কি আসলেই নিরাপদে আছেন শেখ হাসিনা বা তাঁর পরিবার? ১৯৭৫ সালে ও খুনীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল খন্দকার মোশতাক। মুশতাকের রক্ত আওয়ামী লীগ থেকে মুছে যায় নি। সারা জীবন যারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছে, বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে উপহাস করেছে। বঙ্গবন্ধুদের খুনীদের বাহবা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নারী নেতৃত্ব হারাম বলে ফতোয়া জারী করেছে। আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশ ভারত হয়ে যাবে, দেশে কোন মসজিদ থাকবে না। আযানের বদলে উলুধ্বনি শোনা যাবে, সেই সব মানুষ দলে দলে জয়বাংলা বলে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। এদিকে বাস্তবিক প্রধানমন্ত্রীর সে সব বক্তব্য তারাই কেয়ার করছেন দলের আঞ্চলিক নেতা বা এমপিরা।
 
এ সকল বিষয় সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এমন কিছু হয়ে থাকলে বিষয়টি নি:সন্দেহে উদ্বেগের। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু মহল আওয়ামী লীগের দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করতে তৎপর রয়েছে। তবে প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা যেকোন পদক্ষেপ নিতে সদা সচেষ্ঠ। ’
 
বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃস্থাণীয় বেশ কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ করলে কেউই সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতাই বলেছেন, আওয়ামী লীগকর্মীদের সতর্ক থাকা খুবই জরুরি, ছদ্মবেশে আবার না নতুন কোন মোশতাক ঢুকে পরে দলে।
 
সূত্র: ব্রিকলেন ও বিবার্তা২৪ডটনেট

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত