সর্বশেষ

  রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারের দাবীতে ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরীর বিক্ষোভ   'শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্ঠায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার'   রিয়ালকে জয়ে ফেরালেন নবীন সেবায়োস   কমেছে চালের দাম, কমবে আরও   লন্ডনে আবারো এসিড হামলা, আহত ৬   তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল   মহিউদ্দিন শীরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৫ সেপ্টেম্বর   ধর্ম যার যার, উৎসব সবার : কামরান   ওসমানীনগরে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর, প্রশাসন নিরব   জগন্নাথপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু   ফেঞ্চুগঞ্জে সড়ক মেরামতের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা   মৌলভীবাজারে ‘শিক্ষা দিবস’ পালিত   হত্যা মামলার আসামী টিটু ও সুলেমান এখনও অধরা   ফেঞ্চুগঞ্জে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সাথে প্রশাসনের সভা   রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত   দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট মহানগর পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি   নগরী থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ   বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষাখাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে : এমপি আবু জাহির   সিলেটে ছিনতাইকারী বাবলু ও শরীফ আটক   সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন

‘ঐশীকে বিয়ে করতে চাই’

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৫ ১২:৩৩:০৭

জব্বার আল নাঈম : ॥ ‘আমি ঐশীকে বিয়ে করতে চাই’ এই শিরোনামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর পক্ষ-বিপক্ষ বক্তব্য শুনিয়ে অনেকের ইনবক্স, কমেন্টস এবং ফোন পাচ্ছি।
 
ঐশী এ সমাজের ক্ষত বা কীট নয়। ঐশী হলো ক্ষতের একটা মাধ্যম। ঐশীর সুষ্ঠু পরিচর্যা করলে সে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।
 
বেশিরভাগ মানুষ ঐশীর ফাঁসির রায়ে খুশি হয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে। বুদ্ধিজীবী এবং প্রাজ্ঞজনরা আলাদা আলাদা মত দাঁড় করাচ্ছেন- ঐশীর রায় কার্যকরের মাধ্যমে সমাজে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। সমাজ হয়ে যাবে পবিত্র।
 
শুনেছি ঐশীর মামলার রায়ে তার দাদি এবং চাচা অসন্তুষ্ট। ঐশীর ফাঁসি হোক তারা তা চান না। তাদের অসন্তুষ্টির মানে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল। আপিলে ঐশীর জামিনের (অ)সম্ভাবনা আছে। কোনো সম্ভাবনাকে আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না। এ সমাজ এবং সমাজের মানুষ তখন ঐশীকে স্নেহ-ভালোবাসা দেবে না। বন্ধুরা তাকে খুনি হিসেবে জানবে। দূরে সরিয়ে দেবে। পরিচিত-অপরিচিত সবাই ধিক্কার জানাবে। রাষ্ট্রকে জানাতে চাই, প্রত্যেকটি মানুষের যে অধিকার আছে, তার কতটুকু আপনারা পালন করছেন? এ খুনের পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কারো ইন্ধন থাকতে পারে। ঐশীর ইয়াবা সেবনকারী বন্ধুদের সাজা জাতি জেনেছে।
 
দ্বিতীয় জবানবন্দিতে ঐশী বলেছে,‘আমি বাবা-মাকে খুন করিনি। সেটা আমি করতে পারি না। আমার বন্ধু জনি ও জনির এক পরিচিত তাদের খুন করেছে। আমি শুধু কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিলাম।’ তাহলে খুন করল কারা? তা তদন্তে এখনো জানা যায়নি। এই জনি এবং জনির বন্ধুর পরিবার খুব প্রভাবশালী পরিবারের কেউ? এই বন্ধুরাই কেন ঐশীর পিতা-মাতাকে হত্যা করবে? কারণ হতে পারে, নেশা করতে বাধা দেওয়া অথবা ঠিকমতো অর্থের যোগান না দেওয়া। বন্ধুরা ঐশীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছিল নিশ্চয়। বন্ধুদের বিচারে কেন আপেক্ষিকতা? এই মুহূর্তে ঐশীর পক্ষে কেউ নেই বলে? পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক নিহত মাহফুজুর রহমান সরকারি আমলা বলে দ্রুত রায়? দেশে অনেক শীর্ষ অপরাধী গোষ্ঠি আছে, যাদের অপরাধের মাত্রা সীমানা অতিক্রম করেছে অনেক আগে। তারা আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের ধরে আইনের আশ্রয়ে সুষ্ঠু বিচার করলে অপরাধ প্রবণতা অনেক গুণ কমে যাবে। মাদকদ্রব্যের লাইসেন্স যারা দেয়, তারাও কম অপরাধী না। অপরাধের মূল উপড়ে দিলে ছোট-বড় অপরাধ অনেক কমে যাবে, তা যেমন সত্য, তেমনি সত্য আইন আদালতে সুষম বিচারব্যবস্থার ভিত তৈরি করা।
 
ঐশীর সুইসাইড নোট সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমাদের জানা সম্ভব হয়েছে। সেখানে ঐশীর পিতা-মাতাকে দোষমুক্ত বলা যাবে না। একজন পুলিশ অফিসার হয়ে টিনএজ সন্তানদের দিকে বেখেয়ালি হলে সমাজে এমন অধঃপতন নেমে আসাটা অস্বাভাবিক নয়। সন্তানদের যেমন শাসন করার দরকার পড়ে, তেমনি আদর-ভালোবাসাও লাগে। সন্তান কোথায় কখন কী করে, তার খোঁজ খবর রাখতে হয়। খবর রাখতে হয়, সঙ্গী-সাথী কারা? জনি এবং জনির বন্ধুর রায়ে জাতি অসন্তুষ্ট। আমি চাই ঐশীর জামিনে হোক। ঐশী মুক্তি পাক। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হবে। ঐশীকে দিয়ে অসুস্থ সমাজের ট্রিটমেন্ট করতে হবে। সে হবে গোটা বিশ্বের মডেল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সে কাজ করবে। ভুল পথে পরিচালিত ছেলে-মেয়েদের সঠিক পথে ফেরানোর জন্য কাজ করে ভেঙেপড়া সমাজে পানি ঢালবে পুনরায় বেঁচে ওঠার জন্য। জাগিয়ে তুলবে আমাদের বোধ-বিবেক।
 
মেরি কালভার্ট নামের ৬৩ বছরের এক নারী তার যৌনজীবনের অভিজ্ঞাতার কথা বর্ণনা দিয়েছেন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার কাছে। মেরি কালভার্ট জীবনে ৩ হাজার পুরুষের সঙ্গে ইনকামের জন্য ঘুমানোর অভিজ্ঞতা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুরুষরা তাদের যৌন চাহিদা পূরণের জন্য আমাকে ব্যবহার করেছে। আর আমি ব্যবহার হয়েছি আমার অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের জন্য। তবে তাদের (পুরুষের) আচরণ ছিল হিংস্র। বাদাম বা কোনো ফল জাতীয় খাবার শেষে তার খোসা ডাস্টবিনে যেমন ছুড়ে মারি, পুরুষরাও প্রয়োজন শেষে আমাকে ছুড়ে মারত।’ এভাবে প্রতিবছর গড়ে ২০০ পুরুষের সঙ্গে মেরি কালভার্টের শারিরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একজন পুরুষ পতিতার মামলার কারণে মেরির পরবর্তী জীবনে অনেক কষ্ট নেমে আসে। মামলায় মেরির সাজা হয়। ম্যারি বন্ডে সই দিয়ে মুক্তি পায়। শর্ত ছিল- সে সমাজ উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া এবং পথভ্রষ্ট পতিতাদের সৎ পথে নিয়ে আসার জন্য বাকি জীবন কাজ করবে। মেরি তার কথা রেখেছে। ভুল করেও পূর্বের পেশায় ফিরে যায়নি। একটা সুযোগ মেরির জীবনের সঙ্গে আমেরিকার অনেক নারীর ভাগ্য বদলে গেছে।
 
মেরি কালভার্ট যেমন অপরাধী, তেমনি অপরাধী ঐশী। অপরাধ ছোট হোক, বড় হোক, তা অপরাধ। ঐশী সেই অপরাধের সাজা পাবে। দায় থেকে তাকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি দেওয়া যাবে না। কিন্তু একটা সিস্টেমের মধ্যে রেখে মেরি কালভার্টের মতো ভূমিকায় নিয়ে আসার জন্য পিতা-মাতা হত্যাকারী ফাঁসির আসামি ঐশীকে আমি বিয়ে করতে চাই।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক

উত্তরপূর্ব২৪ডকম/ডেস্ক/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত