সর্বশেষ

  কোম্পানীগঞ্জের শামীমসহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারসহ ৩দফা দাবিতে স্মারকলিপি   নির্বাচনে বিএনপি জোটে থাকবে জামায়াত: ফখরুল   টুকেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের ইন্তেকাল   টিলাকেটে ভরাট চলছে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির আবাসিক জমি!   গ্রেটার ম্যানচেস্টার আ’লীগ সভাপতি ছুরাবুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আমিনুল হক সিলেটে সংবর্ধিত   মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা : এমপি রানার জামিন হাই কোর্টে নাকচ   বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতি আনন্দের : ফখরুল   ওয়ানডেতে ড্যাডসওয়েলের 'ড্যাডলি' ৪৯০ রানের রেকর্ড!   অধ্যাপক ফখরুলের মৃত্যুতে এমপি ইমরান আহমদের শোক   দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ : স্মরণসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা   জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে আহত ১০   শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন: এমপি আবু জাহির   খাদিমপাড়ায় পাহাড় কাটার দায়ে একজনকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা   নগরীর বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন সিসিক মেয়র আরিফ   বালাগঞ্জে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৮ হাজার শিক্ষার্থী   মাধবপুরে নববধূর মৃত্যু   দিরাইয়ে মাধ্যমিক বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন   দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ : স্মরণসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা   সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কর্মসূচি পালিত   আম্বরখানায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও অটোরিক্সা শ্রমিকদের সংঘর্ষ: আহত ৬

সর্বনাশা ইয়াবা ও একজন ঐশী

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৫ ০০:৫৭:১৯

সোহেল বীর : ॥ ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’- প্রবাদটি অনেকেরই জানা। তারপরও কেউ কেউ পরিস্থিতির শিকার হয়ে অসৎ সঙ্গে পড়ে যায়। বখে যায় অসৎ বন্ধুর সঙ্গ পেয়ে। কেইবা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজির মতো বিভিন্ন অপরাধ কর্মে। আর এ কু-প্রভাব পরিবার সমাজ ও দেশের উপর গিয়ে পড়ে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ভয়াবহ ঘটনার একটি- মেয়ের হাতে বাবা-মা খুন! লোমহর্ষক ব্যাপার! গুম-হত্যা-খুন, চাঁদাবাজী, লুণ্ঠন এখন কোনোটাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। পত্রিকা খুললেই নিত্য এসব খবর চোখে এসে পড়ে। কিন্তু নিজের সন্তানের হাতে যখন বাবা-মাকে খুন হতে হয়, তখন বিষয়টি আরও বেশি ভয়াবহভাবে সবাইকে ভাবায়। সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পারি, অতি সুপরিকল্পিতভাবে ঐশী নামের এক কিশোরী তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে। তাকে সহযোগিতা করেছে তার বন্ধুরা। পরে আরও ভালোভাবে জানা যায়, ঐশী ছিলো ইয়াবা আসক্ত।

ইয়াবা এক ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য, যা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। ডিপেন্ডেন্সি তৈরি হয়ে গেলে তখন অন্যান্য নেশাদ্রব্যের মতো বেশি পরিমাণ ইয়াবা সেবন করে নেশা নিবৃত করে ইয়াবা আসক্তরা। আর এই ভয়াবহ ইয়াবা আসক্ত ছিলো ঐশী। সুতরাং, বলা যেতে পারে, ঐশী নামের কোনো কিশোরী তার বাবা-মাকে খুন করেনি, খুন করেছে একজন ইয়াবা আসক্ত কিশোরী যার নাম- এশী।

কিন্তু কেনো কোমলমতি এই কিশোরী আজকের এই ইয়াবা আসক্ত ঐশীতে পরিণত হলো সেটাই ভাবার বিষয়। কোনো পেশাদার খুনিকে টাকার বিনিময়ে তার বাবা-মাকে খুন করতে বলা হলে, সেই খুনি এই নৃশংস কাজটি করতে পারবে কিনা প্রশ্ন থেকে যায়, যেটা খুব সহজে করতে পেরেছে একজন কিশোরী ও তার বন্ধুরা।

ঐশীর বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ঐশীর আনন্দ ফূর্তীর জন্য প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের টাকা খরচ হতো। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগানটা-ই বা কোথা থেকে আসতো প্রশ্ন থেকে যায়! আর এই টাকা দিয়ে ঐশী কিইবা করতো সেটা তার বাবা-মাকে একটু ভেবে দেখা দরকার ছিলো।

ঐশী যখন অতিমাত্রায় বখে যায় তখন পরিবার থেকে তার উপর চাপ আসতে থাকে। কড়া শাসন করার ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকে ঐশীর বাবা-মা। আর এতেই হিতে বিপরীত ঘটে। ইয়াবা আসক্ত ঐশী সে শাসন মানতে পারেনি। ঐশী চেয়েছিলো স্বাধীনভাবে ইয়াবা সেবন করার অনুকূল পরিবেশ। আর এ জন্যই বন্ধুদের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে বাবা-মাকে খুন করে ঐশী। কিন্তু এ ঐশী একা একা সৃষ্টি হয়নি। কি কারনে একজন কোমলমতি কিশোরী আজকের ঐশী হলো, সেগুলো আগে ভাবতে হবে সবাইকে।

পুলিশ দম্পতি খুনের ব্যাপারে অনেকগুলো কারণ দাঁড় করানো যেতে পারে- নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ প্রচলন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার, আকাশ সংস্কৃতির কু-প্রভাব, সঠিক নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং একটা অসৎ সঙ্গ। আজ ঐশী সবার চোখে খারাপ। সবাই তাকে খুনি হিসেবে দেখছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামী ঐশীর এই পরিণতির জন্য তার পরিবার কিংবা সমাজ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

সারা রাত ধরে ফেসবুকে চ্যাট আর ভোর চারটা পর্যন্ত নাইট ক্লাবে ফূর্তী করার জন্য বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীরা বেছে নেয় ইয়াবার মতো মারাত্মক নেশাজাতীয় দ্রব্য। ইয়াবার অনিদ্রা বৈশিষ্টের জন্য রাত জাগা ছেলে মেয়েরা এর দিকে বেশি পরিমাণ ঝুকছে। যা তরুন সমাজের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর এবং সবার জন্য অশনি সংকেত।

ঐশী একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী হয়ে পরিবারের যোগানকৃত বিপুল এই টাকা ব্যয় করতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে নাইট ক্লাবে রাত পার করে কিংবা নেশার পেছনে। মেয়ের এই মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয় আর বন্ধুদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশাটা মেয়েকে আধুনিক বানানো আর কৈশোরের চপলতা ভেবে মাহফুজুর রহমান দম্পতি হয়তো মেয়ের বখে যাওয়াটা টের পাননি। ফলে ঘটে যায় নৃশংস ঘটনা।

আর কোনো বাবা-মাকে যেনো মেয়ের হাতে জীবন দিতে না হয়, সেজন্য প্রত্যেক বাবা মাকে মেয়ের দিকে একটু নজর রাখতে হবে। মেয়ে কোথায় যায়, কি করে, কার সাথে মেলামেশা করে সেটা অবশ্যই মা-বাবাকে জানতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনোমতেই মেয়ে যেনো বখে না যায়।

ঐশী এখন আর একা নয়। ‘ঐশী’ একটি শ্রেণীতে পরিণত হতে চলেছে, একটি সমাজে পরিণত হতে চলেছে। উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরী কিংবা তরুণ-তরুণীরা ইয়াবার মতো নেশাদ্রব্যে আসক্ত হয়ে আজ আপনজন ভুলতে বসেছে। এই সমাজকে এখনই রুখা দরকার, নইলে যুব সমাজকে বাঁচানো যাবে না। আমরা ইয়াবা আসক্ত আর কোনো ঐশীকে চাই না, আমরা ‘ঐশীমুক্ত’ সমাজ চাই। যারা আকাশ ছোঁবে, যাদের চোখে মুখে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন, যারা একদিন দেশ পরিচালনা করবে, জাতিকে নেতৃত্ব দেবে; তারাই প্রমাণ করবে, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুরই অন্তরে।’

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক, ঢাকা।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত