সর্বশেষ

  একটি শিশুকে ঘিরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও উৎসুক জনতা   বাবুল আখতার স্মরণে আরামবাগ ব্লক আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল   ‘অভিযাত্রী’ শায়েস্তাগঞ্জ শাখার আত্মপ্রকাশে শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষাউপকরণ বিতরণ   প্রবাসীরা অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন   মলাটের যাত্রা শুরু   আজ সুনামগঞ্জে দু’দিনের সফরে আসছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান   শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আওয়ামী লীগ সরকার পূরণ করবে : কামরান   ছাতক পৌরসভায় ২৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে   দীর্ঘ ১৫ বছর পর আসছে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি   মেয়াদ পূর্ণ করে বিদায়, উপাচার্যবিহীন শাবি   ‘সরকারের পাশাপাশি, বিত্তশালী ও প্রবাসীরা বন্যার্তদের পাশে দাড়িয়ে মহত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন’   দক্ষিণ সুরমায় ছাত্রলীগ নেতা ‘ফাহিম স্মৃতি পরিষদ’র অনুষ্ঠানে গোলাগুলি: আহত ২   সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে: আশফাক আহমদ   সরকার হাওর-দুর্যোগ মোকাবেলা ও কৃষকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : ড. জয়া সেনগুপ্তা   সিলেট জেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে অসুস্থ শফিউলকে অনুদান প্রদান   ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসনে মানিকোনা উন্নয়ন সংস্থা ইউকে’র অনুদান প্রদান   চুনারুঘাটে সাপের কামড়ে যুবতীর মৃত্যু   বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন   মাধবপুরে জাপার উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন   সিলেটে ‘দ্যা সামিট অফ মেলোডি’ কনসার্টে মঞ্চ মাতালো অরফিয়াস ও ব্যান্ড 'লালন'

সর্বনাশা ইয়াবা ও একজন ঐশী

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৫ ০০:৫৭:১৯

সোহেল বীর : ॥ ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’- প্রবাদটি অনেকেরই জানা। তারপরও কেউ কেউ পরিস্থিতির শিকার হয়ে অসৎ সঙ্গে পড়ে যায়। বখে যায় অসৎ বন্ধুর সঙ্গ পেয়ে। কেইবা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজির মতো বিভিন্ন অপরাধ কর্মে। আর এ কু-প্রভাব পরিবার সমাজ ও দেশের উপর গিয়ে পড়ে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ভয়াবহ ঘটনার একটি- মেয়ের হাতে বাবা-মা খুন! লোমহর্ষক ব্যাপার! গুম-হত্যা-খুন, চাঁদাবাজী, লুণ্ঠন এখন কোনোটাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। পত্রিকা খুললেই নিত্য এসব খবর চোখে এসে পড়ে। কিন্তু নিজের সন্তানের হাতে যখন বাবা-মাকে খুন হতে হয়, তখন বিষয়টি আরও বেশি ভয়াবহভাবে সবাইকে ভাবায়। সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পারি, অতি সুপরিকল্পিতভাবে ঐশী নামের এক কিশোরী তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে। তাকে সহযোগিতা করেছে তার বন্ধুরা। পরে আরও ভালোভাবে জানা যায়, ঐশী ছিলো ইয়াবা আসক্ত।

ইয়াবা এক ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য, যা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। ডিপেন্ডেন্সি তৈরি হয়ে গেলে তখন অন্যান্য নেশাদ্রব্যের মতো বেশি পরিমাণ ইয়াবা সেবন করে নেশা নিবৃত করে ইয়াবা আসক্তরা। আর এই ভয়াবহ ইয়াবা আসক্ত ছিলো ঐশী। সুতরাং, বলা যেতে পারে, ঐশী নামের কোনো কিশোরী তার বাবা-মাকে খুন করেনি, খুন করেছে একজন ইয়াবা আসক্ত কিশোরী যার নাম- এশী।

কিন্তু কেনো কোমলমতি এই কিশোরী আজকের এই ইয়াবা আসক্ত ঐশীতে পরিণত হলো সেটাই ভাবার বিষয়। কোনো পেশাদার খুনিকে টাকার বিনিময়ে তার বাবা-মাকে খুন করতে বলা হলে, সেই খুনি এই নৃশংস কাজটি করতে পারবে কিনা প্রশ্ন থেকে যায়, যেটা খুব সহজে করতে পেরেছে একজন কিশোরী ও তার বন্ধুরা।

ঐশীর বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ঐশীর আনন্দ ফূর্তীর জন্য প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের টাকা খরচ হতো। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগানটা-ই বা কোথা থেকে আসতো প্রশ্ন থেকে যায়! আর এই টাকা দিয়ে ঐশী কিইবা করতো সেটা তার বাবা-মাকে একটু ভেবে দেখা দরকার ছিলো।

ঐশী যখন অতিমাত্রায় বখে যায় তখন পরিবার থেকে তার উপর চাপ আসতে থাকে। কড়া শাসন করার ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকে ঐশীর বাবা-মা। আর এতেই হিতে বিপরীত ঘটে। ইয়াবা আসক্ত ঐশী সে শাসন মানতে পারেনি। ঐশী চেয়েছিলো স্বাধীনভাবে ইয়াবা সেবন করার অনুকূল পরিবেশ। আর এ জন্যই বন্ধুদের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে বাবা-মাকে খুন করে ঐশী। কিন্তু এ ঐশী একা একা সৃষ্টি হয়নি। কি কারনে একজন কোমলমতি কিশোরী আজকের ঐশী হলো, সেগুলো আগে ভাবতে হবে সবাইকে।

পুলিশ দম্পতি খুনের ব্যাপারে অনেকগুলো কারণ দাঁড় করানো যেতে পারে- নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ প্রচলন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার, আকাশ সংস্কৃতির কু-প্রভাব, সঠিক নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং একটা অসৎ সঙ্গ। আজ ঐশী সবার চোখে খারাপ। সবাই তাকে খুনি হিসেবে দেখছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামী ঐশীর এই পরিণতির জন্য তার পরিবার কিংবা সমাজ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

সারা রাত ধরে ফেসবুকে চ্যাট আর ভোর চারটা পর্যন্ত নাইট ক্লাবে ফূর্তী করার জন্য বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীরা বেছে নেয় ইয়াবার মতো মারাত্মক নেশাজাতীয় দ্রব্য। ইয়াবার অনিদ্রা বৈশিষ্টের জন্য রাত জাগা ছেলে মেয়েরা এর দিকে বেশি পরিমাণ ঝুকছে। যা তরুন সমাজের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর এবং সবার জন্য অশনি সংকেত।

ঐশী একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী হয়ে পরিবারের যোগানকৃত বিপুল এই টাকা ব্যয় করতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে নাইট ক্লাবে রাত পার করে কিংবা নেশার পেছনে। মেয়ের এই মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয় আর বন্ধুদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশাটা মেয়েকে আধুনিক বানানো আর কৈশোরের চপলতা ভেবে মাহফুজুর রহমান দম্পতি হয়তো মেয়ের বখে যাওয়াটা টের পাননি। ফলে ঘটে যায় নৃশংস ঘটনা।

আর কোনো বাবা-মাকে যেনো মেয়ের হাতে জীবন দিতে না হয়, সেজন্য প্রত্যেক বাবা মাকে মেয়ের দিকে একটু নজর রাখতে হবে। মেয়ে কোথায় যায়, কি করে, কার সাথে মেলামেশা করে সেটা অবশ্যই মা-বাবাকে জানতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনোমতেই মেয়ে যেনো বখে না যায়।

ঐশী এখন আর একা নয়। ‘ঐশী’ একটি শ্রেণীতে পরিণত হতে চলেছে, একটি সমাজে পরিণত হতে চলেছে। উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরী কিংবা তরুণ-তরুণীরা ইয়াবার মতো নেশাদ্রব্যে আসক্ত হয়ে আজ আপনজন ভুলতে বসেছে। এই সমাজকে এখনই রুখা দরকার, নইলে যুব সমাজকে বাঁচানো যাবে না। আমরা ইয়াবা আসক্ত আর কোনো ঐশীকে চাই না, আমরা ‘ঐশীমুক্ত’ সমাজ চাই। যারা আকাশ ছোঁবে, যাদের চোখে মুখে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন, যারা একদিন দেশ পরিচালনা করবে, জাতিকে নেতৃত্ব দেবে; তারাই প্রমাণ করবে, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুরই অন্তরে।’

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক, ঢাকা।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/ডেস্ক/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত