সর্বশেষ

  নব্য জেএমবি’র সমন্বয়ক জঙ্গি মুসা সিলেটের আতিয়া মহলে!   আতিয়া মহলের পাশের ভবন থেকে নারী ও শিশুসহ উদ্ধার ৬   শিববাড়িতে আবারও সকাল থেকে গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ   মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত   বিবিআইএস’র স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ   আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা আর দিনভর পটাস-পটাস, ধিড়িম-ধাড়িম   রশিদিয়া দাখিল মাদরাসায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   শাবিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন   আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সভাপতিকে সংবর্ধনা   পশ্চিম সদর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন   শহরতলীর ‘দি সান মুন মেরিট হোম’র উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা দেশকে নিয়ে এখনো গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: শফিকুর রহমান চৌধুরী   শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট টিম বাসে হামলায় জড়িত জঙ্গি নিহত   মাধবপুরে ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার   স্বাধীনতা দিবসে মহানগর আওয়ামী লীগের পুষ্পস্তবক অর্পণ   আতিয়া মহলে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’: ২ জঙ্গি নিহত, অভিযান চলবে   মাধবপুরে নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস পালন   মহান স্বাধীনতা দিবসে কমলগঞ্জে ছাত্রলীগের পুস্পস্তবক অর্পন   মহান স্বাধীনতা দিবসে প্লাটুন টুয়েলভ এর শ্রদ্ধাঞ্জলী

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও কমলগঞ্জ : ৪৪ বছরেও যে ভুলের সমাধান হয়নি

প্রকাশিত : ২০১৫-১০-২৮ ০১:১০:২৯

আপডেট : ২০১৫-১০-২৮ ০১:১৬:১৭

কমলগঞ্জ : ধলই সীমান্ত চৌকির পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ।

শাহীন আহমেদ, কমলগঞ্জ : ॥ মুক্ত বাতাসে উড়বে স্বাধীন বাংলার পতাকা। পরাধীন বাঙ্গালী ভোগ করবে স্বাধীনতার স্বাদ। বিশ্ব মানচিত্রে উঠবে বাংলাদেশের নাম। প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত করার দীপ্ত শপথ গ্রহণকারী, দেশের জন্য লড়াই করতে মায়ের দোয়া নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী, মাঝারি গঠনের সুঠাম দেহের অধিকারী, অসীম সাহসী, দেশ প্রেমিক, প্রথম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে শহীদ হন কমলগঞ্জের ধলই সীমান্তে। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপেক্স। আজ তার ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী।

নির্জন পরিবেশ, ভারতের একেবারে সীমান্ত ঘেষা স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্মৃতি কমপ্লেক্স। আকর্ষনীয় পর্যটন স্থানে পরিনত করতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। পর্যায় ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সকল পরিকল্পনা। সবুজ চা-বাগানের মাঝ দিয়ে আঁকা বাঁকা পথ ফাঁড়ি দিয়ে যেতে হয় হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্সে।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বিরল স্থান ধলই সীমান্ত। যেখানে যুদ্ধ করে শহীদ হওয়া সিপাহী হামিদুর রহমান পেয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব। কমলগঞ্জকে পরিনত করেছেন ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে। কিন্তু স্বাধীন বাংলার বাতাসে যখন উড়ছে তার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা তখনও সুরাহা হয়নি তাঁর শেষ রনাঙ্গনের তথ্য বিভ্রাট।

৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বাঙালি জাতি যখন তাঁকে শ্রদ্ধাভবে স্মরণ করছে তখনও শেষ রনাঙ্গন নিয়ে রয়ে গেলো তথ্য বিভ্রাট। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামের আক্কাছ আলী মন্ডল ও কায়ছুন্নেছার সাহসী সন্তান হামিদুর রহমান ভারতের ত্রিপুরার কমলপুর সাবসেক্টর ক্যাম্প থেকে সকল প্রস্তুতি নিয়ে ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর ভোরে মেজর (অবঃ) কাইয়ুমের নেতৃত্বে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারে সাথে ধলই চৌকিতে থাকা পাক সেনাদের উপর সাঁড়াশি আক্রমন করেন।

সীমান্ত চৌকি দখলের উদ্দেশ্যে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে হালকা একটি মেশিনগান নিয়ে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে শত্রুপক্ষের ৫০ গজের মধ্যে ঢুকে পড়েন। গর্জে উঠে তাঁর হাতের মেশিনগান। শত্রু দলের অধিনায়কসহ বেশ কয়েকজন সৈন্য এতে প্রাণ হারায়। এমন সময় শত্রু পক্ষের একটি বুলেট তার কপালে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সামীন্তবর্তী ছড়ার পারে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন তিনি।

১৯৯২ সালে তৎকালীন বিডিআর বর্তমান বিজিবির উদ্যোগে ধলই সীমান্ত চৌকির পাশে নির্মাণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মরনী।

২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১০ শতাংশ জায়গার উপর সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগ নির্মাণ করে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ। এছাড়া কমলগঞ্জের ভানুগাছ-মাধবপুর সড়কটির নামকরন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান সড়ক হিসেবে। ২০০৭ সালে ধলই বিওপির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান সীমান্ত ফাঁড়ি।

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে শ্রীমঙ্গস্থ ১৪ বিজিবির সাবেক অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল হুদার উদ্যোগে ধলই সীমন্ত চৌকি এলাকায় গড়ে তোলা হয় আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। নির্মান করা হয় একটি বড় পুকুর। প্রস্তাবিত মনুমেন্টে রাখা হয় গাড়ী পার্কিং এরিয়া, টয়লেট, ওয়েটিং রুম, রিসোর্ট, কেফিটরিয়া, গলঘর। নির্মান করা হয় সীমান্ত স্মৃতি কুঞ্জ দুতলা ঘর, সীমান্ত অবকাশ যাপন কেন্দ্র। যা পর্যটকদের জন্য এখন আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হয়েছে।

অথচ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুমোদিত চতুর্থ শ্রেণীর ‘আমার বাংলা বই’ এর ৭১নং পৃষ্ঠায় রচিত “বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান” পাঠের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয় “সিলেটের সীমান্ত এলাকা। শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ মাইল দক্ষিনে ধলই সীমান্ত ঘাটি”। যাহা তথ্যগত ভাবে সম্পূর্ণ ভূল। বাস্তবে এই ধলই সীমান্ত কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত। আগষ্ট ২০১২ থেকে নতুন করে প্রকাশিত চতুর্থ শ্রেনীর বাংলা বইয়ে ‘‘বীরশ্রেষ্ঠর বীরগাথা’’ পাঠে শ্রীমঙ্গল থানার ধলাই  সীমান্ত ফাঁড়ি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সরকারি গনমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদে বরাবরই হামিদুর রহমানের শেষ বিদায়ের স্থান ধলাই সীমান্তকে বলা হয় শ্রীমঙ্গলের ধলই। ১০ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ ভারত থেকে বাংলাদেশে এনে ১১ ডিসেম্বর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শেষ সম্মান জানানোর সময় তাঁর জীবন বৃত্তান্ত পাঠ কালে উল্লেখ করা হয় তিনি শ্রীমঙ্গল থানার সীমান্তবর্তী ধলই সীমান্তে শাহাদাৎ বরন করেন।

এ তথ্য বিভ্রাটের পরিসমাপ্তির জন্য উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভায় প্রতিবছরই তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এছাড়া ২০০৮ সালে লেখক তথ্য বিভ্রাটের পরিসমাপ্তির দাবী করে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত একটি আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে লেখকের সাথে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব সফিউন নাহার বেগম যোগাযোগ করে কমলগঞ্জের ম্যাপ নেন। তার পরের বছর ৪র্থ শ্রেণির বাংলা বিষয়ে হামিদুর রহমান পাঠে কিছু কিছু বইয়ে শ্রীমঙ্গলের স্থলে কমলগঞ্জ উলেখ করা হয়। কিন্তু পরের বছর থেকে আবারও সেই শ্রীমঙ্গল উলেখ রয়েছে।

একটি স্বাধীন বাংলার স্বপ্নের পরিসমাপ্তির অংশীদার যিনি বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে সুগম করেছিলেন স্বাধীনতার পথ। সেই মানুষের স্মরনে কমলগঞ্জবাসী চায় অবিলম্বে তথ্য বিভ্রাটের অবসান হউক। যে কমলগঞ্জে তিনি শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন সেই কমলগঞ্জের কথা স্বাধীন বাংলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কি উল্লেক হবে না? অথচ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে কমলগঞ্জ উপজেলার সাথে।

এ উপজেলার মাটি ও মানুষের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক, এখানে রয়েছে তার যুদ্ধকালীন জীবনের বেদনাগাঁথা কাহিনী। তাইতো কমলগঞ্জবাসী বাংলার সেই শ্রেষ্ঠ বীর সেনানীর প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত থাকবে চিরদিন।
লেখক: কলাম লেখক, সাংবাদিক।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত