সর্বশেষ

  সাংবাদিক অমলকৃষ্ণ’র শাশুড়ির মৃতুতে বামাসাক’র শোক   মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি আরবে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা   বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ   শাবি থিয়েটার সাস্টের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন   লাউয়াছড়া উদ্যানে ট্রেনে কাটা পড়ে হরিণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উল্লুকের মৃত্যু   জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া   সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ   মোগলগাঁও ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক, অতঃপর....   ধর্মপাশা মুক্ত দিবস পালিত   মাধবপুরে গোপনে জয়িতা তালিকা!   শ্রীমঙ্গলে ৪ বছরের মাথায় দুটি শাবকের জন্ম দিলো মেছো বাঘ   ভারতে বাংলাদেশী শ্রমিক হত্যায় তাহিরপুর উত্তাল: বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বাতিল   অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা আটক   ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৬ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৫ আসামির বিচার শুরু   মায়ানমারকে মালয়েশিয়ার সেনা প্রধানের হুমকি!   আজই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মুশফিকরা   দুর্নীতি মামলায় জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের জামিন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার   আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

কোরবানীর ঐতিহাসিক পটভূমি

প্রকাশিত : ২০১৫-০৯-২২ ১৭:০৭:০০

আখতার হোসাইন জাহেদ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ॥ কোরবানী শব্দের অর্থ হল ত্যাগ, উৎসর্গ, বিসর্জন, নৈকট্যলাভ ইত্যাদি। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে নির্দিষ্ট পশু যবেহ করাকে কোরবানী বলা হয়। কোরবানী একটি মকবুল ইবাদত। কোরবানী পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কবুল হয়ে যায়। এই কোরবানী শুরু কোন সময় থেকে আজকের নিবন্ধে তাই আলোচনার প্রয়াস।

মূলত হযরত আদম আ. এর সময় থেকেই কোরবানীর সূচনা। সর্বপ্রথম  কোরবানী হচ্ছে আদম আ. এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল এর কোরবানী। যা কুরআনুল কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইরশাদ থেকে পাওয়া যায়। যেমন, “আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথ ভাবে শুনান। যখন তারা উভয়ে কোরবানী করেছিল তখন একজনের কোরবানী কবুল হল এবং অন্য জনের কবুল হলনা। সে বলল, আমি তোমাকে হত্যা করবই। অপরজন বলল , অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকীদের কোরবানী কবুল করে থাকেন।” (সুরা মায়িদাহ-২৭) ঘটনাটি হচ্ছে হযরত আদম ও হাওয়া আ. যখন পৃথিবীতে আগমন করে সন্তান প্রজনন ও বংশ বিস্তার শুরু করলেন  তখন হাওয়া আ. এর গর্ভে প্রত্যেক প্রসবে দু’টি যমজ সন্তান জন্ম গ্রহন করত। তাদের একটি ছেলে ও আরেকটি হত মেয়ে । এ সময় এদের ভাই বোন ছাড়া আদম আ. এর আর কোন সন্তান ছিলনা। অথচ ভাই বোন পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেনা। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উপস্থিত সমস্যার সমাধান কল্পে আদম আ. এর শরীয়তে এ নির্দেশ জারি করলেন যে, একই গর্ভ থেকে যে যমজ ভাই বোন জন্ম গ্রহন করবে তারা হবে সহোদর ভাই বোন। তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধন হারাম হবে। কিন্তু পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া পুত্র প্রথম গর্ভের কন্যার সাথে এবং প্রথম গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া পুত্র পরবর্তী গর্ভের কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তারা একে অপরের সহোদর হবেনা। এ পরম্পরায় আদম আ. এর দুটি পুত্র ভুমিষ্ট হল। একজনের নাম রাখা হল হাবীল আর অন্য জনের নাম রাখা হল কাবীল। উভয়ের সংঙ্গে তাদের এক এক জন বোনও জন্মেছিল। সে সময়ের বিধান অনুযায়ী হাবীলের বিবাহ কাবীলের বোনের সাথে এবং কাবীলের বিবাহ হাবীলের বোনের সাথে নির্ধারিত হল।
কাবীলের সহজাত বোনটি ছিল অপেক্ষাকৃত পরমাসুন্দরী এবং হাবীলের বোনটি ছিল কুশ্রি ও কদাকার। অতএব কাবীল নিজেই তার বোনের বিবাহের প্রার্থী হল। এতে হাবীল রাজী না হওয়ায় কাবীল অসন্তুষ্ট হয়ে হাবীলের শত্রু হয়ে গেল। সে জেদ ধরল যে, আমার সহজাত বোনকে আমার সংঙ্গেই বিবাহ দিতে হবে। আদম আ. কাবীলকে বহু বুঝালেন কিন্তু সে মানলনা। অবশেষে আদম আ. তার শরীয়তের আইনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবীলের আব্দার প্রত্যাখ্যান করলেন। অতঃপর তিনি কাবীলের মুখ বন্ধ করে হাবীল ও কাবীলের মতভেদ দুর করার উদ্দেশ্যে এ মিমাংশা করলেন যে, তোমরা উভয়েই আল্লাহর জন্য নিজ নিজ কোরবানী (মান্নত) পেশ কর। যার কোরবানী আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে সেই এ কন্যাকে বিবাহ করতে পারবে। আদম আ. এর নিশ্চিত বিশ্বাস যে, যে সত্য পথে আছে তার কুরবানীই গৃহীত হবে।

তৎকালে কোরবানী গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল এমন যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে কোরবানীকে পোড়িয়ে দিত, যে কোরবানীকে অগ্নি পোড়িয়ে দিতনা তাকে প্রত্যাখ্যাত মনে করা হত। মোট কথা উভয়েই স্ব স্ব কোরবানী (মান্নত) উপস্থিত করল। হাবীল ভেড়া দুম্বা ইত্যাদি পশু পালন করত তাই সে একটি উৎকৃষ্ট দুম্বা কোরবানী জন্য উপস্থিত করল। কাবীল কৃষি কাজ করত সে কিছু শস্য গম পেশ করল। অতঃপর আকাশ থেকে অগ্নিশিখা অবতরণ করে হাবীলের কোরবানীকে পোড়িয়ে দিল এবং কাবীলের কোরবানী যেমন ছিল তেমনি পড়ে রইল। কিন্তু কাবীল তা মানলনা সে হাবীলকে হত্যা করল।
এরপর থেকে আল্লাহ তায়ালার নাজিলকৃত সকল শরীয়তেই কোরবানীর বিধান জারি ছিল। যেমন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ ফরমান, “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানীর বিধান দিয়েছি। তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ, সুতরাং তারই নিকট আত্মসমর্পণ কর এবং সুসংবাদ দাও বিনীতগণকে।” (সূরা হজ্জ-৩৪)

এভাবে পর্যায়ক্রমে হযরত ইবরাহীম আ. এর শরীয়তে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোরবানীর হুকুম চলে আসে। প্রতি বছর জিলহজ্জ মাসের দশ, এগারো ও বারো তারিখে বিশ্বের মুসলমানগণ যে কোরবানী করে থাকেন তা হযরত ইবরাহীম আ. এর কোরবানীরই স্মৃতিচারণ। যার বর্ণনা কুরআনুল কারীমে সুস্পষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন- “এরপর সে যখন তার পিতার সঙ্গে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হলো তখন ইবরাহীম বলল, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে তোমাকে আমি যবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কি বল ? সে বলল হে আমার পিতা আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই করুন। আল্লাহর ইচ্চায় আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীলদের তালিকায় পাবেন। যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহীম পুত্রকে কাত করে শায়িত করল, তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, হে ইবরাহীম, তুমি স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে। এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় এ ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম এক কোরবানীর বিনিময়ে। আমি একে পরবর্তীদের জন্য স্বরণীয় করে রেখেছি। ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এভাবে আমি সৎকর্মপরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।” ( সুরা সাফফাত-১০২-১১১)

সহীহ হাদিস ও তাফসিরের বিভিন্ন কিতাবে ঐতিহাসিক এ ঘটনার বিবরণ এ ভাবে পাওয়া যায়। একবার হযরত ইবরাহীম আ. জিলহজ্বের অষ্টম রাতে স্বপ্ন দেখেন যে, একমাত্র পুত্র ইসমাঈলকে নিজ হাতে যবেহ করছেন। স্বপ্নটি দেখার পর ঐ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এই চিন্তায় বিভোর থাকেন যে, এটা আল্লাহর তরফ থেকে সুস্বপ্ন, না দুঃস্বপ্ন। অতঃপর নবম রাতে তিনি আবার ঐ স্বপ্ন দেখেন। ফলে ঐ দিন তিনি জানতে ও বুঝতে পারেন যে, এটা স্বপ্ন। তারপর দশম রাতে তিনি আবার ঐ স্বপ্ন দেখেন৷ এই স্বপ্ন দেখার পর ইবরাহীম আ. পুত্রকে কোরবানী করার জন্য তৈরী হলেন এবং স্বীয় বিবি হাজেরাকে বললেন, ছেলেটাকে মুখহাত ধুইয়ে কাপড় পরিয়ে দাও। ওকে একটা কাজে নিয়ে যাব৷ একটি রেওয়ায়াত রয়েছে যে, যখন ইব্রাহীমকে কোরবানীর স্বপ্ন দেখানো হয় তখন শয়তান মনে মনে বলল যে, এই সময় যদি আমি তাদেরকে ফেৎনায় না ফেলতে পারি তাহলে আর কখনো পারবো না। অতঃপর পিতা যখন ছেলেকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন তখন শয়তান বিবি হাজেরার নিকটে গিয়ে হাযির হল এবং বলল, তোমার ছেলেকে ইবরাহীম কোথায় নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, হয়ত কোন কাজে নিয়ে গেছেন৷ এবার শয়তান বলল, না না৷ তিনি তাকে কোন দরকারে নিয়ে যাননি বরং তাকে যবেহ করতে নিয়ে গেছেন।

হাজেরা জিজ্ঞেস করলেন, তিনি তাকে যবেহ করবেন কেন? শয়তান বললো- ইবরাহীমের ধারনা যে, তার রব নাকি তাকে এই কাজের হুকুম দিয়েছেন৷ এ কথা শুনে হাজেরা বললেন, তাহলে তো তিনি তার পরওয়ারদেগারের হুকুম মানার জন্য খুব ভাল কাজ করেছেন৷ তার নিকট থেকে শয়তান নিরাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হল। এখানে শয়তান নিরাশ হয়ে তাদের দুজনের পেছনে ছুটল এবং তাদের কাছেও সে পরাস্ত হল।

অতপর ইবরাহীম আ. ইসমাঈল আ. কে বললেন হে প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে যবেহ করছি। অতএব এ ব্যাপারে তোমার মতামত কি? ইসমাঈল আ. বললেন বাবা! আপনি তাই করুন আপনাকে যা হুকুম দেয়া হয়েছে৷ এ ব্যাপারে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন (সূরা সাফফাত ১০২ আয়াত)। এভাবে পিতা এবং পুত্রের সওয়াল জওয়াবের পর ইসমাঈল যখন রাজি হয়ে গেলেন তখন দুজনই আল্লাহর কাছে নিজেদের সঁপে দিলেন। তারপর ইসমাঈল তার পিতাকে বললেন, আপনি আমাকে চোখে দেখা অবস্থায় যবেহ করতে পারবেন না৷ কারণ, আপনার হয়তো ছেলের মায়া উথলে উঠতে পারে৷ ফলে আপনার ছুরি নাও চলতে পারে? কিংবা আমি হয়তো অধৈর্য হয়ে ছটফট করতে পারি এবং আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে দিতে পারি? সেজন্য আপনি আমার হাত পা বেঁধে দিন৷ তারপর আমাকে উপুড় করে শুইয়ে দিন৷ ইসমাঈল আরো বললেন, বাবা! আপনি নিজের কাপড়টা সামলে নিন এবং আমাকে ভাল করে বেঁধে দিন। যাতে আমার রক্তের ছিটে আপনার গায় না লাগে এবং আমার নেকী কমে না যায়। আর যবেহের পর আপনি যখন আমার মায়ের কাছে যাবেন তখন তাঁকে আমার সালাম দেবেন। আর আপনি যদি আমার জামাটা মায়ের কাছে নিয়ে যেতে চান তাহলে নিয়ে যাবেন৷ যাতে তিনি কিছুটা স্বান্তনা পাবেন। কলিজার টুকরা একমাত্র কচি বাচ্চার মুখ দিয়ে এরূপ কথা শুনে হযরত ইবরাহীমের মনে কি প্রতিক্রিয়াই না হতে পারে! তথাপি তিনি ধৈর্যের অটল পাহাড় হয়ে জওয়াব দিচ্ছেন, বাবা! তুমি আল্লাহর হুকুম পালনার্থে আমার কি উত্তম সাহায্যকারী! কথাটি বলে তিনি পুত্রকে চুমু খেলেন এবং ছলছল চোখে তাকে বাঁধলেন। অতঃপর ইবরাহীম তাকে উপুড় করে শুইয়ে দিলেন। ইসমাঈলের গলায় ছুরি চালাবার পালা। ইলাহী হুমুকের কাছে আত্মসমর্পণের মূর্ত প্রতীক ইবরাহীমের হাত যখন পুত্রের ঘাড়ে ছুরি চালিয়ে দিল ত্রিভুবন তখন কেঁপে উঠলো। সে কি অভিনব দৃশ্য। পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতে ঘটবে কিনা তাও কে বলতে পারে৷ একদিকে জনমানবহীন পশুপক্ষী ও প্রাণীহীন মক্কা শহর।

অন্যদিকে ধূ-ধূ বালির মধ্যে খাঁ খাঁ করছে মিনার ঐতিহাসিক প্রান্তর। আর তারই মাঝে একটি বুড়ো পিতা এবং তার ছুরির নিচে পড়ে রয়েছে তের বছরের ফুটন্ত কুসুমিত এক শিশুপুত্র। এই অকল্পনীয় দৃশ্য দেখে আকাশ যেন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে এবং আদমের জন্মের সময় প্রবল আপত্তিকারী ফেরেশতারাও যেন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। গাছপালা কেউ আর নড়ছে না এবং পশু-পক্ষীরাও যেন চলাফেরা করতে পারছে না৷ বাতাসের গতিও যেন স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পাহাড় ও পর্বতেও যেন একটা নিঝুমভাব ফুটে উঠলো৷ সবাই যখন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখছে ইবরাহীম (আ.) এর হাত তখন ইসমাইলের গলায় অনবরত চলছে। কিন্তু খোদার লীলা বুঝা বড় ভার৷ এদিকে আল্লাহ ইবরাহীম আ. কে হুকুম দিয়েছেন নিজহাতে ছেলে জবেহ কর, আর ওদিকে তিনি ছুরিকে নির্দেশ দিয়েছেন, তুমি মোটেই কেটোনা। ফলে ছুরি এবং তার গলার মাঝখানে আল্লাহর কুদরতে একটি পিতলের পাত আড় সৃষ্টি করে। সেজন্য ইবরাহীম বারবার ছুরি চালালেও কোন কাজ হচ্ছিল না।
 
এই অচিন্তনীয় পরিস্থিতিতে ত্রিভুবনের সবাই যখন হতভম্ব এবং হতবাক ও শ্বাসরুদ্ধ তখন আল্লাহ তার রহস্য ফাঁস করে দিয়ে জান্নাত থেকে জিবরাঈলের মাধ্যমে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দিলেন এবং ইসমাইলকে বাঁচিয়ে নিয়ে ইবরাহীমের অজান্তে সেই দুম্বাটিকে তার দ্বারা জবেহ করিয়ে নিয়ে জলদগম্ভীর স্বরে ঘোষণা করলেন-
“হে ইব্রাহিম! তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছো। আমি এভাবে (পরীক্ষার মাধ্যমে) নেক ও সৎ লোকদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিঃসন্দেহে এটাও একটা বিরাট পরীক্ষা। তাই আমি এক বিরাট কোরবানীর বদলে তাকে (অর্থাৎ তোমার ছেলে ইসমাইলকে) বাঁচিয়ে নিয়েছি”।

হযরত ইবরাহীম আ. কর্তৃক স্বীয় পুত্র ইসমাঈল আ. কে কোরবানী করার এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে জীবন্ত করে রাখতে  মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদীর উপর কোরবানী ওয়াজিব করে দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন “ ফাসাল্লিলি রাব্বিকা ওয়ানহার” অর্থাৎ আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্যেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কোরবানী করুন।

কোরবানী একটি উত্তম আমল। আল্লাহর নিকট অত্যধিক মকবুল এ আমলটি পালন করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব।

লেখকঃ আখতার হোসাইন জাহেদ
সংগঠক,কামিল হাদিস (এম.এ)



এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত