সর্বশেষ

  সাংবাদিক অমলকৃষ্ণ’র শাশুড়ির মৃতুতে বামাসাক’র শোক   মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সৌদি আরবে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা   বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার নকল নবিসদের চাকুরী স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ   শাবি থিয়েটার সাস্টের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন   লাউয়াছড়া উদ্যানে ট্রেনে কাটা পড়ে হরিণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উল্লুকের মৃত্যু   জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস আলীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া   সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ   মোগলগাঁও ইউনিয়নে ট্রান্সফরমার চুরির সময় জনতার হাতে চোর আটক, অতঃপর....   ধর্মপাশা মুক্ত দিবস পালিত   মাধবপুরে গোপনে জয়িতা তালিকা!   শ্রীমঙ্গলে ৪ বছরের মাথায় দুটি শাবকের জন্ম দিলো মেছো বাঘ   ভারতে বাংলাদেশী শ্রমিক হত্যায় তাহিরপুর উত্তাল: বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক বাতিল   অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা আটক   ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৬ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৫ আসামির বিচার শুরু   মায়ানমারকে মালয়েশিয়ার সেনা প্রধানের হুমকি!   আজই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন মুশফিকরা   দুর্নীতি মামলায় জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের জামিন   ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার   আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

শেখ হাসিনার আবু সুফিয়ান

প্রকাশিত : ২০১৫-০৯-১১ ০০:২৪:৩১

আপডেট : ২০১৫-০৯-১১ ০০:২৫:০৩

সৈয়দ তাহমীম : শুক্রবর, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ : ॥ (এক)
আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ভাই কবে থেকে আবু সুফিয়ান হয়েছেন এটার একটা মজার স্টোরি আছে। ৯১-তে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। সুফিয়ান ভাইয়ের মন খারাপ। দেওয়ান ফরিদ গাজীর আত্মীয় সে সুবাদে সামাদ (আবদুস সামাদ আজাদ) সাহেবের পুরোপুরি আস্থায় আসেননি তিনি। অথচ তিনি পুরোপুরি সামাদ গ্রুপ সমর্থক। রাতে দেখা করতে গেছি সুফিয়ান ভাইয়ের বাগবাড়ির বাসায় সামাদ সাহেব সমেত।

সামাদ সাহেব তাকে ধৈর্য্য ধরতে বললেন। এর কয়দিন পরে সাজেদা চৌধুরী তার বাসায় থাকতে এসেছেন পরিবারসহ। সাজেদা চৌধুরী হাসতে হাসতে আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ভাইকে আবু সুফিয়ান বলে ডাকলেন। শেখ হাসিনা নাকি তাকে আবু সুফিয়ান বলেই ডাকেন।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়েছে ঢাকায়। তোফায়েল আহমেদ ৮০% কাউন্সিলরের সমর্থন  নিয়েও সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। পরদিন ইত্তেফাকে  সম্মেলনের বিস্তারিত এবং কমিটি ঘোষিত হলো। আমরা উৎসাহ নিয়ে কমিটি দেখছি। কাদের সিদ্দিকী এক নম্বর নির্বাহী সদস্য। আবু সুফিয়ান সিলেট থেকে নির্বাহী সদস্য হয়েছেন।

শোরগোল শুরু হলো- কে এই আবু সুফিয়ান? পরে রহস্য উন্মোচন হলো। শেখ হাসিনাই জানালেন এই আবু সুফিয়ান হচ্ছেন আমাদের আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান। সেই থেকে আবদুজ জহির চৌধুরী নামটা পিছনে চলে গেল।

(দুই)
সুফিয়ান ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়ের সূত্রটা বলি। ১৯৮৭ সালে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর তখন ছাত্রলীগের সভাপতি। সিলেটে কাজী কয়েছ ভাই সভাপতি এবং এটিএম ফয়েজ ভাই সেক্রেটারি। যুবলীগের  তৎকালীন সভাপতি নজরুল ভাই তখন জেলা আওয়ামী লীগের কিং মেকার।

শফিউল আলম নাদেলকে সভাপতি এবং আমি সৈয়দ তাহমীমকে সাধারণ সম্পাদক করে শহর স্কুল ছাত্রলীগ গঠিত হয়। সুলতান মনসুর এই কমিটি গঠনে উপস্থিত ছিলেন। আমাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে সোলেমান হলে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বেশীরভাগ নেতা তখন মামলায় পলাতক।

নজরুল ভাইকে বললাম, কাকে প্রধান অতিথি করা যায়। নজরুল ভাই বললেন, কাদের ভাই (ওবায়েদুল কাদের)কে দাওয়াত দাও বা আমি ফোন করবো। বললেন ব্যাক্তিগত জীবনে হতাশ, দলেও ভালো অবস্থানে নেই ডাক দিলেই আসবেন। বক্তাও অসাধারণ।

নজরুল ভাইকে বললাম, আমাদের টাকা পয়াসা নেই। মিটিং এর জন্য কিছু ফান্ডিং এর দরকার আছে। জেলা আওয়ামী লীগের কেউ কি আছেন যিনি কর্ণার আউট বাট আমাদেরর সাহায্য করবেন। নজরুল ভাই চিন্তা না করেই বললেন, সুফিয়ান ভাই।

রাতে সুফিয়ান ভাইয়ের বাসায় গেলাম, সুফিয়ান ভাই ঢাকায় যেতে চাইছিলেন। আমাদর দেখে ঢাকা যাওয়া ক্যানসেল করলেন। একটু আলাপেই বুঝলাম ভদ্রলোক ‘ইনটেলেকচুয়াল’। দেখতে রাজকাপুর ।

(তিন)
মানুষের জীবনের অনেক পারিবারিক কাহিনী থাকে। নীনা আপা ভীষন সুন্দরী ছিলেন। সুফিয়ান ভাই ছিলেন আপন মামাত ভাই। অনেকটা জোর করেই বিয়ে করেন সুফিয়ান ভাই। আপার প্রতি তার ভালোবাসার কমতি কখনও ছিল না। ফাস্ট ক্লাস রেলওয়ে কন্ট্রাক্টার ছিলেন তিনি। ব্যবসায় আপস এন্ড ডাউন ছিল। আপা তার সব সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন। অদ্ভূত ভালোবাসা। ব্যাক্তিগত জীবনে তারা নিঃসন্তান ছিলেন। সুফিয়ান ভাই এই কষ্ট তাকে বুঝতে দেন নি। এই অভিনয় তাকে নিরন্তর করতে হয়েছে। ভালবেসে। নীনা আপা এখন কেমনে বাচবেন সুফিয়ান ভাই ছাড়া।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি শক্তিশালী পারিবারিক বলয় ছিলো সুফিয়ান ভাইয়ের। মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলের প্রশাসক দেওয়ান ফরিদ গাজী তার আত্মীয়। ইয়ামীন চৌধুরী বীরপ্রতীক, এনাম আহমদ চৌধুরী বীরপ্রতীক তার শালা, সমন্ধি। ব্যাপক প্রভাব। কিন্তু দায়সারা জীবন যাপন করেছেন। প্রভাব খাটান নি। কি সৎ জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে। ব্যবসা, রাজনীতির জন্য তাকে সিলেট শহরে দুটো বাড়ি বিক্রি করতে হয়। তিনি ঠিকই বলেছেন আগেকার আমলের রাজনীতিবিদরা গরীব ছিলেন, লোভী ছিলেন না।

লেখক: যুক্তরাজ্যের একজন সলিসিটর, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/টিআই-আর

এ বিভাগের আরো খবর


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত