সর্বশেষ

  বঙ্গবন্ধু’র ভাষণ: উৎসব পালনের প্রস্তুতি সভা   এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনায় মামলা   ‘ভাই, কেমন আছেন?’   ড. মোমেনকে সিলেট জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অভিনন্দন   পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২ ডিসেম্বর   কোম্পানীগঞ্জের শামীমসহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারসহ ৩দফা দাবিতে স্মারকলিপি   নির্বাচনে বিএনপি জোটে থাকবে জামায়াত: ফখরুল   টুকেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের ইন্তেকাল   টিলাকেটে ভরাট চলছে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির আবাসিক জমি!   গ্রেটার ম্যানচেস্টার আ’লীগ সভাপতি ছুরাবুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আমিনুল হক সিলেটে সংবর্ধিত   মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা : এমপি রানার জামিন হাই কোর্টে নাকচ   বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতি আনন্দের : ফখরুল   ওয়ানডেতে ড্যাডসওয়েলের 'ড্যাডলি' ৪৯০ রানের রেকর্ড!   অধ্যাপক ফখরুলের মৃত্যুতে এমপি ইমরান আহমদের শোক   দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ : স্মরণসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা   জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে আহত ১০   শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন: এমপি আবু জাহির   খাদিমপাড়ায় পাহাড় কাটার দায়ে একজনকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা   নগরীর বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন সিসিক মেয়র আরিফ   বালাগঞ্জে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৮ হাজার শিক্ষার্থী

শেখ হাসিনার আবু সুফিয়ান

প্রকাশিত : ২০১৫-০৯-১১ ০০:২৪:৩১

আপডেট : ২০১৫-০৯-১১ ০০:২৫:০৩

সৈয়দ তাহমীম : শুক্রবর, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ : ॥ (এক)
আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ভাই কবে থেকে আবু সুফিয়ান হয়েছেন এটার একটা মজার স্টোরি আছে। ৯১-তে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। সুফিয়ান ভাইয়ের মন খারাপ। দেওয়ান ফরিদ গাজীর আত্মীয় সে সুবাদে সামাদ (আবদুস সামাদ আজাদ) সাহেবের পুরোপুরি আস্থায় আসেননি তিনি। অথচ তিনি পুরোপুরি সামাদ গ্রুপ সমর্থক। রাতে দেখা করতে গেছি সুফিয়ান ভাইয়ের বাগবাড়ির বাসায় সামাদ সাহেব সমেত।

সামাদ সাহেব তাকে ধৈর্য্য ধরতে বললেন। এর কয়দিন পরে সাজেদা চৌধুরী তার বাসায় থাকতে এসেছেন পরিবারসহ। সাজেদা চৌধুরী হাসতে হাসতে আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান ভাইকে আবু সুফিয়ান বলে ডাকলেন। শেখ হাসিনা নাকি তাকে আবু সুফিয়ান বলেই ডাকেন।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়েছে ঢাকায়। তোফায়েল আহমেদ ৮০% কাউন্সিলরের সমর্থন  নিয়েও সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। পরদিন ইত্তেফাকে  সম্মেলনের বিস্তারিত এবং কমিটি ঘোষিত হলো। আমরা উৎসাহ নিয়ে কমিটি দেখছি। কাদের সিদ্দিকী এক নম্বর নির্বাহী সদস্য। আবু সুফিয়ান সিলেট থেকে নির্বাহী সদস্য হয়েছেন।

শোরগোল শুরু হলো- কে এই আবু সুফিয়ান? পরে রহস্য উন্মোচন হলো। শেখ হাসিনাই জানালেন এই আবু সুফিয়ান হচ্ছেন আমাদের আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান। সেই থেকে আবদুজ জহির চৌধুরী নামটা পিছনে চলে গেল।

(দুই)
সুফিয়ান ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়ের সূত্রটা বলি। ১৯৮৭ সালে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর তখন ছাত্রলীগের সভাপতি। সিলেটে কাজী কয়েছ ভাই সভাপতি এবং এটিএম ফয়েজ ভাই সেক্রেটারি। যুবলীগের  তৎকালীন সভাপতি নজরুল ভাই তখন জেলা আওয়ামী লীগের কিং মেকার।

শফিউল আলম নাদেলকে সভাপতি এবং আমি সৈয়দ তাহমীমকে সাধারণ সম্পাদক করে শহর স্কুল ছাত্রলীগ গঠিত হয়। সুলতান মনসুর এই কমিটি গঠনে উপস্থিত ছিলেন। আমাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে সোলেমান হলে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বেশীরভাগ নেতা তখন মামলায় পলাতক।

নজরুল ভাইকে বললাম, কাকে প্রধান অতিথি করা যায়। নজরুল ভাই বললেন, কাদের ভাই (ওবায়েদুল কাদের)কে দাওয়াত দাও বা আমি ফোন করবো। বললেন ব্যাক্তিগত জীবনে হতাশ, দলেও ভালো অবস্থানে নেই ডাক দিলেই আসবেন। বক্তাও অসাধারণ।

নজরুল ভাইকে বললাম, আমাদের টাকা পয়াসা নেই। মিটিং এর জন্য কিছু ফান্ডিং এর দরকার আছে। জেলা আওয়ামী লীগের কেউ কি আছেন যিনি কর্ণার আউট বাট আমাদেরর সাহায্য করবেন। নজরুল ভাই চিন্তা না করেই বললেন, সুফিয়ান ভাই।

রাতে সুফিয়ান ভাইয়ের বাসায় গেলাম, সুফিয়ান ভাই ঢাকায় যেতে চাইছিলেন। আমাদর দেখে ঢাকা যাওয়া ক্যানসেল করলেন। একটু আলাপেই বুঝলাম ভদ্রলোক ‘ইনটেলেকচুয়াল’। দেখতে রাজকাপুর ।

(তিন)
মানুষের জীবনের অনেক পারিবারিক কাহিনী থাকে। নীনা আপা ভীষন সুন্দরী ছিলেন। সুফিয়ান ভাই ছিলেন আপন মামাত ভাই। অনেকটা জোর করেই বিয়ে করেন সুফিয়ান ভাই। আপার প্রতি তার ভালোবাসার কমতি কখনও ছিল না। ফাস্ট ক্লাস রেলওয়ে কন্ট্রাক্টার ছিলেন তিনি। ব্যবসায় আপস এন্ড ডাউন ছিল। আপা তার সব সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন। অদ্ভূত ভালোবাসা। ব্যাক্তিগত জীবনে তারা নিঃসন্তান ছিলেন। সুফিয়ান ভাই এই কষ্ট তাকে বুঝতে দেন নি। এই অভিনয় তাকে নিরন্তর করতে হয়েছে। ভালবেসে। নীনা আপা এখন কেমনে বাচবেন সুফিয়ান ভাই ছাড়া।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি শক্তিশালী পারিবারিক বলয় ছিলো সুফিয়ান ভাইয়ের। মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলের প্রশাসক দেওয়ান ফরিদ গাজী তার আত্মীয়। ইয়ামীন চৌধুরী বীরপ্রতীক, এনাম আহমদ চৌধুরী বীরপ্রতীক তার শালা, সমন্ধি। ব্যাপক প্রভাব। কিন্তু দায়সারা জীবন যাপন করেছেন। প্রভাব খাটান নি। কি সৎ জীবন কাটাতে হয়েছে তাকে। ব্যবসা, রাজনীতির জন্য তাকে সিলেট শহরে দুটো বাড়ি বিক্রি করতে হয়। তিনি ঠিকই বলেছেন আগেকার আমলের রাজনীতিবিদরা গরীব ছিলেন, লোভী ছিলেন না।

লেখক: যুক্তরাজ্যের একজন সলিসিটর, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত