সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

ডেথস্পট টিলাগড়

প্রকাশিত : ২০১৮-০১-০৮ ১৯:২১:১৪

আপডেট : ২০১৮-০১-০৮ ১৯:৫৪:২৪

মুক্তাদীর আহমদ : সোমবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ ॥ গতকাল ছিল ৭ জানুয়ারি। সকালবেলায় মনে পড়ে ছাত্রনেতা আকবর সুলতানের কথা। ২০০৩ সালের এ দিনে নগরীর টিলাগড়ে অতর্কিত হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল প্রিয়মুখ আকবর। তখন শাসন ক্ষমতায় ছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংস ভাবে নিহত সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন তিনি। একই বছরের ৯ অক্টোবর আরেক ছাত্রলীগ নেতা মিজান কামালীর প্রাণও কেড়ে নেয় তৎকালিন সরকারি দল ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। সেই সময়াটাও মূর্ত হয়। আক্ষেপ, আকবর,মিজান কামালীর প্রিয় দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও বিচার হয়নি তাঁদের হত্যাকান্ডের। টিলাগড়ের মাটি আকবর,মিজানের রক্তে লাল ছিল। কিন্তু তাতে প্রলেপ পড়ে ২০১০ সালের ১২ জুলাই, আরেক হত্যাকাণ্ড। উদয়েন্দু সিংহ পলাশ। ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

স্পট টিলাগড়। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে টিলাগড়কে কি ডেথস্পট বলা যায়? এক বছর আগে ব্যস্ততম জিন্দাবাজারে এক ব্যবসায়ী ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ছাত্রলীগ নেতার মুখ। তার বিচরণক্ষেত্রও টিলাগড়। ৬ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জে প্রকাশ্যে আরো একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ কর্মী জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম। একটি কলোনির বাসিন্দা মাসুম। আটপৌড়ে পরিবারের ‘বড় ছেলে’ মাসুম। মারা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাসুমকে এভাবেই চেনা যায়। এই মাসুম হত্যায় টিলাগড় ছাত্রলীগের নাম আসে। মামলা হয়, প্রধান আসামি আর ধরা পড়ে না।

মাস যায়, দেড় মাসের হিসেবে আরো এক হত্যা। এবার স্পট টিলাগড়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়া ছাত্র ওমর মিয়াদ। আবারও গ্রুপিং রাজনীতির বলি ওমর। ১৬ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের পর ১৮ অক্টোবর রাতে মামলা হয়। হত্যা মামলা থানায় নথিভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করিৎকর্মা কেন্দ্র ছাত্রলীগের জেলা কমিটি বিলুপ্ত করল। একটি বিচ্ছিন্ন পক্ষকে শায়েস্তা না করতে পেরে পুরো সংগঠনকে বিলোপের এমন সংস্কৃতি বেশ চালু। উষ্মা প্রকাশ করেন সাবেক ছাত্রনেতারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে। সাবেক নেতারা সোচ্চার হন। এরমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলু চৌধুরীর ‘খুনির চিঠি’ ছাত্রলীগের নতুন-পুরান, সাবেকদের আপ্লুত করে। আমরা খুনির চিঠি পড়ছি আর আবেগে আপ্লুত হচ্ছি। কিন্তু খুনিরা ধরা পড়ে না।

ধরা পড়া না পড়ার খতিয়ানে না গিয়ে আঁৎকে উঠতে হলো ছাত্রলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে। টিলাগড়ে অস্ত্রের মহড়ায় কাঁপল। পরদিন সংবাদমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অস্ত্রধারীদের ছবি প্রকাশ হলোছবির অস্ত্রধারীরা নাকি ভাড়াটে। ছাত্রদল থেকে আনা হয়েছে। এই ছাত্রদলও বছর শুরু করেছে হত্যার মধ্য দিয়ে। ১ জানুয়ারি তাদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আনন্দ শোভাযাত্রায় গুপ্ত হত্যার মতো সাবেক নেতা আবুল হাসনাত শিমুর পেটে ছুরি চালানো হয়।মারা যান শিমু। পরিবারে অকাল বিধবা হন শিমুর স্ত্রী। বাবাহারা হয় চার বছরের কন্যাশিশু। শিমু হত্যায় মামলার আসামিরা তারই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। আত্মঘাতী কোন্দল। প্রাণসংহারি কোন্দল। ছাত্রদল-ছাত্রলীগ যেন একই সংস্কৃতিতে একাট্টা।
 
নতুন বছর শুরুর মাত্র সপ্তাহ কাটল। ৭ তারিখে আকবর সুলতান হত্যার বিচারহীনতার মন নিয়ে বার্তা বিভাগে এলাম। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদকর্মীদের ব্যস্ততা বাড়ে। আকবর সুলতান হত্যার ১৫ বছর যেন বিচারহীনতার বছর। লিখতে যখন বসেছি, তখনই খবর। স্পট টিলাগড়। ৪ জানুয়ারির সংঘর্ষের জেরে এবার লাশ পড়ল। অতর্কিত হামলায় তানিম খান নামের এক তরুণ নিহত হলেন। গলায় ছুরি চালানো হয়েছে। স্পট ডেড তানিম।

সংক্ষুব্ধ মন। মনে মনে হিসেব কষি। সহকর্মী, সমমনাদের কথা বলি। সবার ক্ষোভ একীভূত। আকবর সুলতান হত্যার বিচার হলে টিলাগড় পয়েন্ট গ্লানি কিছুটা হলেও কমত। বিচার হয়নি বলে সিরিজ হত্যা দেখতে হয়েছে? আরও একটু আগ বাড়িয়ে বলা যায়। উদয়েন্দু সিংহ পলাশ নামের আদিবাসী যে তরুণ অকালে প্রাণ হারাল, তার বিচার যদি হতো, তাহলে তো পরবর্তী হত্যাকাণ্ড ঘটতো না।

এত দূর না থেকে নৈকট্য নিয়ে বলি। প্রশ্ন রাখি একের পর এক। মাসুম হত্যার পর যদি টিলাগড় কেন্দ্রিক আসামিদের ধরা হতো, তাহলে কি ওমর মিয়াদ হত্যাকাণ্ড ঘটত? ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের দুই পক্ষে অস্ত্রের মহড়ার পর একটি সাঁড়াশি অভিযান যদি হতো, তাহলে কি সর্বশেষ তানিম খান হত্যার ঘটনা ঘটতো?

ফেসবুকে চোখ রাখি। তানিম খানের আইডিতে চোখ রাখতে গিয়ে বিপুল কর্মযজ্ঞের দেখা হয়ে যায় এক নজরে। ছাত্রলীগ অন্তপ্রাণ তানিম। সবকিছুই ছড়ানো। মিছিলের অগ্রভাগে, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রলীগের আদর্শ প্রচার-মুখর তার ফেসবুক। হাসপাতালে তার লাশের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল চেনাজানা সবাই। হত্যার আগে নাকি আরও তিনবার হামলার শিকার হয়েছিলেন তানিম। ‘তিনবারে খুনিরা সফল’ হলো!’ অনুচ্চ স্বরে এ কথা বলে কাঁদছিলেন একজন। তার বলা ‘সফল’ কথাটি ধাক্কা লাগে। ছাত্রলীগের তরুণ-তুর্কি হত্যাকারীরা কি ধরা পড়বে? বিচার চাওয়ার আগে এ টুকু দেখতে চাই।

রাতে হাসপাতালে জড়ো হওয়া সংবাদকর্মীদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হন পুলিশের পদস্থ কর্তা ব্যক্তিরা। শেষতক এক পুলিশ কর্মকর্তা জবাব দিলেন। বললেন, রাতেই আমরা খুনিদের ধরার চেষ্টা করবো। গতকাল রাত পোহানোর পর আজ সকাল হলো। পাঠকের চোখ যখন এই লেখায়, তখন যদি জানার মধ্যে পড়ে যে, তানিমের খুনিরা ধরা পড়েছে, তাহলে রক্তস্নাত মনের মধ্যে দুর্বৃত্তপনার কালোহাতের স্পর্শ কিছুটা কমবে।

তানিমের খুনিরা ধরা পড়লেই ধরা পড়বে অন্যান্য খুনের সঙ্গে জড়িতরা। নতুবা কোনো প্রশ্ন না রেখেই বলতে হবে ডেথস্পট টিলাগড়। তা যদি বলতেই হয়, তাহলে টিলাগড় মাড়িয়ে প্রতিদিন প্রিয় এমসি কলেজে যে সকল শিক্ষার্থীরা যান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া, সরকারি কলেজে যাওয়া আতঙ্কেরই হবে। আমরা বড় আতঙ্কের মধ্যে আছি। টিলাগড়ের ডেথস্পট অবসানই এর একমাত্র স্বস্তি।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এমএ/এমওআর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত