সর্বশেষ

  কানাইঘাটে লেগুনার ধাক্কায় নিহত ট্রাক চালকের দাফন সম্পন্ন   মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘হাত বাড়াও’   ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার   মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতকে ভাই-বোনসহ আটক ৩   ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫   বিশ্বভারতীতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত উপহারের ডালি   সুধীজনদের মিলনমেলায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   শাবিতে কর্মচারীকে বেধড়ক পিটুনী   বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু   বিদ্রোহী কমিটি গঠন নিয়ে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবৃতি   মিসবাহ সিরাজকে শুভেচ্ছা জানালেন নবগঠিত সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ   জমির উদ্দিন ভুলাই মেম্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল   বিশ্বনাথের দিঘলীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু   রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটিতে প্রিয়াংকা চোপড়া   ওসমানীতে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১   রাজনগরে ভাইয়ের হামলায় আহত ভাইয়ের মৃত্যু   বনানীতে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে   প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে সংবর্ধনা   ফের সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পেল বিএনপি   কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বঙ্গবন্ধুর সহকর্মীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অনেকেরই অজানা

ছাতকের অবিসংবাদিত নেতা আব্দুল হক

প্রকাশিত : ২০১৭-১২-২০ ০১:৫৭:২৮

শাহ্ মো. আখতারুজ্জামান : বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ ॥ শিল্পনগরী ছাতকের প্রগতিশীল রাজনীতির কিংবদন্তি নেতা মরহুম আব্দুল হক। তিনি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহকর্মী ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাবেক এমএনএ মরহুম আব্দুল হক।

’৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডে গোপাল নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অবিসংবাদিত এই নেতার মৃত্যু হয়। তিনি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন। একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিই ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট। এদেশের সবকটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে ছিল তার একনিষ্ঠ সক্রিয়তা।

১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯এর গণ-অভ্যূত্থান ও ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সাথে নেতৃত্ব দিয়ে পাক হায়ানাদের মোকাবেলা করেন তিনি। মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে এই মহান নেতাকে দিনের পর দিন কারাবরণও করতে হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এমএনএ আব্দুল হকের রাজনৈতিক ইতিহাস সময়ের আবর্তে বীরত্বগাথা উজ্জ্বল ইতিহাস ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

মরহুম আব্দুল হক ১৯৩০ সালে তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক থানাধীন ভাতগাঁও গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী আব্দুল ওয়াহিদ ও মাতা মাহেবুন নেছা। তিন ভাইয়ের মধ্যে পরিবারে মধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি।

তার মেজো ভাই মরহুম আবুল হাসনাত আব্দুল হাই ছিলেন এই অঞ্চলের একজন গণমানুষের নেতা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাতক-দোয়ারা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে আব্দুল হাই পরপর ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এমএনএ আব্দুল হক ১৯৫১ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী হাইস্কুল থেকে মেট্টিক পাশ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। তিনি এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  বিএ ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিম উল¬¬াহ হলে জিএস নির্বাচিত হন। পরে হাইকোর্টে আইন পেশায়ও নিযুক্ত হন তিনি। ১৯৬৮সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলে তিনি কয়েক বছর শিক্ষকতাও করেছেন।

সুনামগঞ্জের ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আব্দুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৫৫ সালে তিনি গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ ১৩ মাস কারাভোগ করেন। রাজপথের অগ্রসৈনিক আব্দুল হক ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বৃহত্তর ছাতক (ছাতক-দোয়ারাবাজার-কোম্পানীগঞ্জ) ও জগন্নাথপুর থানা নিয়ে গঠিত পাকিস্থান জাতীয় পরিষদ আসনে এমএনএ নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালোরাতে দেওয়ান ওবায়দুর রাজার বাড়িতে সুনামগঞ্জের প্রথমসারির নেতাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন আব্দুল হক। পরদিন ২৭ মার্চ দেওয়ান ওবায়দুর রাজাকে আহবায়ক করে গঠিত হয় ১৩সদস্য বিশিষ্ট সর্বদলীয় স্বাধীন বাংলা পরিষদ। এ পরিষদে প্রথম সদস্য ছিলেন বাংলার আরেক ক্ষণজন্মা পুরুষ কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও দ্বিতীয় সদস্য ছিলেন আব্দুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে ১৯৭১ সালে মরহুম আব্দুল হক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৫নং সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা ও ছাতক-জগন্নাথপুর-দিরাই এর প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল হক।

মৃত্যুর পরদিন ছাতক শহরে বিশাল জানাযা শেষে শহরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় প্রবাসী কবর স্থানের পাশে তাকে চিরশায়িত করে রাখা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার তার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাদ যোহর গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ মসজিদে ও মরহুমের গ্রামের বাড়ি ভাতগাঁওয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শহরের কোর্ট রোড এলাকায় তার কবর স্থানটি অযতেœ-অবহেলায় ঝোঁপঝাড়ে ঢাকা পড়ে আছে। চারদিকে বাসা-বাড়ি, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও দোকানকোঠা তৈরি হওয়ায় মানুষের নজরের আড়ালে চলে যাচ্ছে তার কবর।

মরহুম এমএনএ আব্দুল হককে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭২ সালে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করা হয় আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টর সদর দপ্তর বাঁশতলায় প্রতিষ্ঠা করা হয় এমএনএ আব্দুল হকের নামে হকনগর ও একটি দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে মরহুম আব্দুল হকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পৌঁছে দেয়া এখন সময়ের দাবি।

দেশপ্রেমিক এমএনএ আব্দুল হকের নামে পাঠাগার ও স্মৃতি সংসদ গঠন করা হোক। জীবনচর্চার সুযোগ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য, এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এই অঞ্চলের মুক্তিকামী জনসাধারণ।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এসএমএ/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত