সর্বশেষ

  মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘হাত বাড়াও’   ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার   মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতকে ভাই-বোনসহ আটক ৩   ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫   বিশ্বভারতীতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত উপহারের ডালি   সুধীজনদের মিলনমেলায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   শাবিতে কর্মচারীকে বেধড়ক পিটুনী   বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু   বিদ্রোহী কমিটি গঠন নিয়ে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবৃতি   মিসবাহ সিরাজকে শুভেচ্ছা জানালেন নবগঠিত সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ   জমির উদ্দিন ভুলাই মেম্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল   বিশ্বনাথের দিঘলীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু   রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটিতে প্রিয়াংকা চোপড়া   ওসমানীতে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১   রাজনগরে ভাইয়ের হামলায় আহত ভাইয়ের মৃত্যু   বনানীতে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে   প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে সংবর্ধনা   ফের সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পেল বিএনপি   কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি   ‘ঈদের আগে জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করতে হবে’

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার রূপলাভ কাম্য

প্রকাশিত : ২০১৭-১০-১২ ১৬:৫৪:০১

মোঃ আমান উদ্দিন ॥ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এরিস্টটল, প্লেটো, সক্রেটিসসহ বিশ্বের বড় বড় চিন্তাশীল ব্যক্তিরা একমত হয়েছেনÑ “গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সর্বোত্তম শাসন ব্যবস্থা। সাংবিধানিক রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভে বলা আছে “নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের” মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতি পাঁচ বৎসর পর পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচিত হবে এবং সাধারণ ভোটাররা যাকে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচিত করবে তিনি হবেন ভোটারদের অভিভাবক তাদের আপনজন। জনগণ তাদের সুখ দুঃখ ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বতঃস্ফুর্তভাবে নির্বাচিত প্রতিনিদির সহযোগিতা পাবে, তাদের চিন্তা চেতনা বিকাশে উন্নয়নের অংশীদার হবে, তাদের ন্যায্য দাবী দাওয়ার পক্ষে সোচ্চার থেকে অধিকার প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ট নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণকে আপনজন করে নিবে। এটাই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতার চিন্তা চেতনায় বিশ্বাস করা উচিত। হউক সে মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান বা মেম্বার- সাধারণ ভোটাররাই তো তাকে এমন করেছে ভোটের মাধ্যমে। সাধারন ভোটারদের ভোটে যিনি নির্বাচিত হন মাঠে, ঘাটে, গর্ব করে বলে বেড়ান- এত হাজার ভোটের সকলে আমাকে আমার এলাকার জনগন নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচিত হওয়ার পর সংবর্ধনা নিতেই থাকেন- হউক সে সংবর্ধনা নিজের পয়সায়। এসব সংবর্ধনা বেশীর ভাগ নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন সমাজের কতিপয় চাটুকার দালান শ্রেণীর লোকেরা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের এ দালাল শ্রেণীর লোক দ্বারা তাদের মাধ্যমেই মন্ত্রী, এমপি তাদের সাক্ষাৎ পেতে হয়। অথচ এসব দালালের সমাজে কোন মূল্য নেই। সাধারন জনগণ মন্ত্রী, এমপিদের সাথে দেখা করতে হলে বারান্দায় ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তাদের পিয়ন-পেদারা বলে থাকেন মন্ত্রী, এমপি বা চৌধুরী সাহেব ঘুমে আছেন, বিশ্রামে আছেন, এখন বিরক্ত দেওয়া যাবেনা স্যার নিষেধ করেছেন। কেউ আসলে বলে বারান্দায় বসে থাকার জন্য। যতক্ষন ঘুম বা বিশ্রাম শেষ না হবে ততক্ষন অপেক্ষা করতে হবে। সাধারন ভোটাররা অপরাধির মত বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতে থাকে আমার নির্বাচিত প্রতিনিধি কখন ঘুম বা বিশ্রাম শেষ হবে এবং আমরা যে সমস্যা নিয়ে এসেছি সে কথাগুলো মন খুলে বলতে পারব, সমস্যা সমাধানে সহযোগীতা পাব, তাদের সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিবেন কিন্তু মন্ত্রী, এমপি তো আর আগের মত নেই। তাদের চরিত্র পাল্টে গেছে। তারা এখন বিশাল বড়লোক। তাদের ডিস্টার্ব করা চলবে না। সমস্যা আবার কিসের? সব সমস্যা আমার জানা আছে , যদি সম্ভব হয় সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেন। সাধারন ভোটাররা ঘন্টার পর ঘন্টা বারান্দায় বসে অপেক্ষা করল এক কাপ লাল চাও পায় নাই অথচ এসব নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের বাড়ীতে গেলে কি না আপ্যায়ন করে থাকে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারন ভোটার তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকে পেয়েছে ভৎর্সনা, ধমক, শাসন এবং হুংকার। আমাকে ফোন করলেই তো হয়। এখানে না আশাটাই তো ভাল। আর নির্বাচিত প্রতিনিধির কোন আত্মীয়কে সাথে নিয়ে গেলে আত্মীকেতো আর অপমানের শেষ থাকে না। লজ্জা লাগে এসব হিংস্র প্রতারক ভন্ড, মুখোশধারী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মুখোশ উন্মোচনের পর। কারন যাদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর সে রাস্তার মানুষ থেকে সম্মানিত মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করল, প্রশাসন তাকে স্যার বলে সম্মোধন করে থাকে। আমলা দালালরা কত উপঢৌকন দিয়ে থাকে! বিভিন্ন সংস্থার সম্মানিত হওয়ার সনদ প্রদর্শন করে থাকেন ডিউটি ফ্রি ( শুল্ক মুক্ত) কোটি টাকার গাড়ী, রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা। জনগণ কিন্তু তাকে মানুষ হিসাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল, বিশ্বাস করে তাকে ভোট দিয়েছিল। জনগনের সাথে যে প্রতারনা করেবে সেটা কিন্তু সাধারন জনগন বিশ্বাস করে নাই। রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন কলা কৌশলে যারা প্রতিবাদমুখর তাদেরকে শায়েস্তা করার নামে বিভিন্ন হামলা-মামলার মাধ্যমে শাসকরা তাদের প্রতিহিংসার রূপ দেখাচ্ছে।
এসব মুখোশধারী প্রতারকদের প্রত্যাখানের জন্য গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জরুরী। কারণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে জনগনের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণের সাথে নির্বাচিত প্রতিনিধি যে প্রতারনা করেছে, খারাপ ব্যবহার করেছে, দালাল, টাউট বাটপার লালন-পালন করেছে, এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টিতে পৃষ্টপোষকতা করেছে- এ সবেরই সমুচিত জবাব দেওয়ার একমাত্র মাধ্যম সুষ্ঠভাবে নির্বাচন। প্রতারক প্রতিনিধিরা প্রত্যাখ্যান হলে পরবর্তীতে নতুন প্রতারকের জন্ম হবে না জন্ম হলে কালো টাকার মালিক হয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে এ সব দুর্বৃত্তরা কখনও নির্বাচিত হতে পারবে না। তখনই গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তাদের বিবেককে নিজেরমত কাজে লাগাতে পারবে নির্বাচনের বিধি মোতাবেক, জনগন স্বেচ্ছায় ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। নির্বাচনে ভাল ও উচ্চশিক্ষিত লোকজন নির্বাচিত হবেন, প্রশাসনের লোকজন ও সম্মানজনক আচরন পাবেন এবং ভোটারগণও পাবেন তাদের হারানো সম্মান। সমাজ থেকে বিতাড়িত হবে মুখোশধারী প্রতারক, কালোটাকার মালিকরা। জনগনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সকল অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতন দুর হবে কারন প্রতারক গণতন্ত্র ও জনগনের অধিকারের কথা বলে নির্বাচিত হয়েছিল তাকে পরবর্তী নির্বাচনে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন জনগন। শুধু প্রত্যাখ্যান করেই ক্লান্ত হয়নি; তার দ্বারা যে সব অপকর্ম হয়েছে তার সবই বিচারের মুখামুখি হতে হচ্ছে। যে সব আমলারা প্রতারক জনপ্রতিনিধি দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল বিচারের আওতায় এনে এ সব প্রতিনিধিদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছেন তখন জনগন উপহাস করে হাসতেছে- “হচ্ছে”।
লেখকঃ আইনজীবি, সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন),বিয়ানিবাজার।

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত