সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৭

প্রকাশিত : ২০১৭-১০-১০ ২০:৫০:৫৪

ডা. আরকেএস রয়েল ॥ আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারো সারা পৃথিবীতে দিনটি মহাসমারোহে পালিত  হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। তবে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারন করে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন।  সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রতিপাদ্য নির্ধারনে প্রাধান্য পায়।
এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য। এরকম একটি বিষয় প্রতিপাদ্য হওয়ার পেছনের কারন হলো মানসিক রোগের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়া, এর কারনে প্রচুর অর্থ, উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত কয়েক বছরের গবেষনার ফলাফল পিলে চমকানোর মত। যেমন- বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০ কোটি লোক বিষন্নতা রোগে, প্রায় ২৬ কোটি মানুষ উদ্বিগ্নতা রোগে আক্রান্ত। এ উভয় রোগ সম্মিলিতভাবে মানুষের অক্ষমতার শীর্ষ কারন এবং এর কারণে বিশ্বে মানুষের যে উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে, তার আর্থিক মূল্য বছরে ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার।  ইউরোপে কর্মক্ষেত্রের কারণে সৃষ্ট বিষন্নতা রোগের ফলে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৬১৭ বিলিয়ন ইউরো। ভারতে ২০১২-২০৩০ এর মধ্যে মানসিক রোগের কারণে ব্যয় বা আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১.০৩ ট্রিলিয়ন ডলার একই সময়ে চীনে এর পরিমান ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। গবেষণায় দেখা গেছে বিষন্নতা বা উদ্বিগ্নতায় শুধু উন্নত বিশ্বের মানুষ নয় বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষও ইদানিং সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।
সুস্থ্য থাকার জন্য কাজ প্রয়োজন। আবার কাজের পরিবেশ খারাপ হলে তা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। প্রতি ৫ জনে ১ জন মানুষ কর্মক্ষেত্রে মানসিক সমস্যায় পড়ছে, শতকরা ১০ জন মানুষ বিষন্নতার কারণে কর্মক্ষেত্রে ছুটি নিচ্ছে, বিষন্নতায় আক্রান্ত হলে শতকরা ৯৪ ভাগ ক্ষেত্রে মনোসংযোগজনিত সমস্যা হচ্ছে। একজন উপার্জনশীল মানুষ দিনের বড় অংশ কর্মক্ষেত্রে কাটান। সুতরাং মানসিক রোগের এই ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে হলে এর সকল ক্ষেত্রে বিশেষ কর্মক্ষেত্রে নজর দিতে হবে। আর এ ব্যাপারে যাতে জনসচতেনতা বৃদ্ধি পায় সেজন্যেই আজকের প্রতিপাদ্য।
সারা বিশ্বে মানুষের উপর কাজের চাপ দিন দিন বাড়ছে।  অর্থনৈতিক মন্দা কর্মক্ষেত্র সংকুচিত করছে; প্রতিযোগিতা, চাকরি হারানোর ভয় বাড়ছে যার ফলে নিজের কাজের তৃপ্তিবোধ কমে যাচ্ছে। ফলাফল হচ্ছে মানসিক চাপ বৃদ্ধি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি।  কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। কিছু ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থাৎ কর্মচারি-কর্মকর্তা নিজেরা করবেন আর কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে নিতে হবে।
ব্যক্তি পর্যায়ে মানসিক রোগ সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা পরিবর্তন করা যেমন- মানসিক রোগ মানেই পাগল না ভাবা, এই রোগ গোপন করতে চাওয়া, মানসিক চাপ অনুভব করলে কারও সাথে তা শেয়ার না করা ইত্যাদি বাদ দিতে হবে। এরকম আচরণ মানসিক রোগ কমাতে নয় বরং বাড়াতে সাহায্য করে। তাই কর্মক্ষেত্রে যে কেউ এ সমস্যায় ভুগলে তা নিয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা করা, কেউ এরকম সমস্যায় পড়ছে কিনা খেয়াল রাখা দরকার। চাকরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের ক্ষেত্র কোনটি, নিজের প্রয়োজন কি ধরনের তা নির্ণয় করা দরকার। সারাজীবন একঘেয়ে চাকরি না করে বরং এ ক্ষেত্রে আরও দক্ষতা কিভাবে বাড়ান যায়, কোন প্রশিক্ষণ নেওয়া যায় কিনা যাতে নতুন কিছু শিখা যায় সেসবের চেষ্টা করা দরকার। এতে কাজের প্রতি বিরক্তি কম আসবে। কাজের পরিমান কি মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে কিনা সে খেয়াল রাখতে হবে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে অবসর বের করা, ছুটি নিয়ে কাজের অবসাদ কাটানো খুব গুরত্বপূর্ণ। সহকর্মীদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক রাখা, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব না জড়ানো, কাজের মধ্যে স্বাধীনতা থাকা, কাজের পরিবেশে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একজন সহকর্মী অন্যজন সহকর্মীর দিকে নজর রাখতে হবে তিনি কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন কিনা যেমন হঠাৎ বেশি চুপচাপ হয়ে গেছেন কিনা, হাতের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারছেন কিনা, অফিসে দেরি করছেন কিনা কিংবা তার মন মেজাজ, পোষাক-আষাকে পরিবর্তন বা খাবারে রুচি, ঘুমের সমস্যা হচ্ছে কিনা ইত্যাদি। এমন দেখা দিলে তাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের খেয়াল রাখতে হবে যেন একই দক্ষতা সম্পন্ন কর্মচারী যাতে সমান সুযোগ পান, কর্মচারী যেন তার কাজের স্বীকৃতি পান, তাদের মধ্যে যাতে কোন বৈষম্য করা না হয়, তাদের মধ্যে কেউ যেন অন্যদের দ্বারা কটূক্তি বা টিটকারীর শিকার না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। কর্মচারী কি মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ অনুভব করছেন কিনা খেয়াল রাখা, কাজের মধ্যে সহযোগিতামূলক পরিবেশ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী রাখা এবং শারীরিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি মানসিক সমস্যারও  সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করা।  কর্মকর্তা কর্মচারীরা যাতে নিজেদের সমস্যা বলতে পারেন, নিজেদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ শেয়ার করতে পারেন তার জন্য সংগঠন সংস্কৃতির প্রচলন একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস, সিলেট শাখা ও সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগ ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেছে।  এর মধ্যে সিলেট বিভাগের সকল সরকারি হাসপাতাল সমূহে ও সিলেটের সকল স্বনামধন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সেমিনার, লিফলেট প্রেরণ, র‌্যালি, আলোচনা সভার আয়োজন ইত্যাদি। সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগ বেশ কয়েক বছর ধরে এরকম উদ্যোগ নিয়ে আসছে। উল্লেখ্য সিলেট মেডিকেল কলেজ মানসিক রোগ বিভাগে ১০ জন এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত আছেন ও ২৩ জন এমফিল কোর্স পাস করে সারা দেশে কর্মরত রয়েছেন। মানসিক রোগ বিভাগে বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, জরুরী সেবাসহ কাউন্সেলিং, সাইকোথেরাপী, সেক্স থেরাপি, ওসিডি ক্লিনিক ইত্যাদি সেবার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পরিশেষে আমাদের মনে রাখতে হবে মানসিক সমস্যা কোন দুর্বলতা নয় বা পাপ নয়।  আবার কেউ এ রোগ থেকে ‘চিরপরিত্রানপ্রাপ্ত’ও নয়।  আসুন আমরা এ দুর্বিসহ রোগ থেকে জাতিকে বাঁচাই, একটি সুন্দর, সুস্থ, উৎপাদনশীল জাতি গঠনে এগিয়ে আসি।


লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ।


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত