সর্বশেষ

  মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘হাত বাড়াও’   ছাতকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার   মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতকে ভাই-বোনসহ আটক ৩   ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫   বিশ্বভারতীতে শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত উপহারের ডালি   সুধীজনদের মিলনমেলায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   শাবিতে কর্মচারীকে বেধড়ক পিটুনী   বাহুবলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু   বিদ্রোহী কমিটি গঠন নিয়ে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবৃতি   মিসবাহ সিরাজকে শুভেচ্ছা জানালেন নবগঠিত সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ   জমির উদ্দিন ভুলাই মেম্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল   বিশ্বনাথের দিঘলীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু   রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে গল্প-খুনসুটিতে প্রিয়াংকা চোপড়া   ওসমানীতে ২ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ আটক ১   রাজনগরে ভাইয়ের হামলায় আহত ভাইয়ের মৃত্যু   বনানীতে সমাহিত করা হবে তাজিন আহমেদকে   প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে সংবর্ধনা   ফের সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পেল বিএনপি   কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি   ‘ঈদের আগে জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করতে হবে’

বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার সমাধি ও প্রত্নসম্পদ রক্ষা করতে হবে

প্রকাশিত : ২০১৭-১০-০৮ ১৮:১৯:৫১

এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী ॥ দিল্লীর মোগল সম্রাটের কাছ থেকে বঙ্গ-বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী তথা রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার প্রাপ্তির পর ১৭৬৫ ইং সনে সিলেট প্রথম বৃটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজস্ব সংগ্রহের আওতায় আসে। তখনও সিলেটে মোগল ফৌজদারদের প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা বহাল থাকলেও পূর্বের মত সার্বিক ক্ষমতা লোপ পায়। তবে সিলেটে হযরত শাহজালাল(রহ.) সহ অনেকে পীর আউলিয়াদের রওজা থাকায় সিলেটে মুসলমানদের মধ্যে বেশ ধর্মীয় অনুভুতি থাকলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের প্রতিও সহানুভুতি ছিল। কিন্তু চতুর ইংরেজদের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে সিলেটের মুসলিমগণ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদেরকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকলে মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের বৈষম্যমূলক আচরণ আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এমতাবস্থায় ক্ষমতা ও সম্মানে আঘাতপ্রাপ্ত সিলেটের মুসলিম জনগন ইরেংজদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হতে থাকে। ১৭৮২ সনে ১৪ ডিসেম্বর আর মহরম মাসের পবিত্র আশুরা বাম দশমী উপলক্ষে উপমহাদেশের প্রথম বৃটিশ বিরোধী বিদ্রোহ ঘোষনা করেন। সিলেটের মুসলমানগণ তাদের নেতা সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মেহদীর নেতৃত্বে মহরম মাসের শোকের আশুরা দিবসকে উপলক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দখলদার বৃটিশদের হত্যা করে ঐ দিন সিলেট শহর মুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক গোলযোগের মিথ্যা গুজবে ভীত হয়ে কিছু লোক বিষয়টি তদানিন্তন বৃটিশ কর্মচারী  রবার্ট লিন্ডেসের কাছে ফাঁস করে দিলে মহরমের শোক পালনে  আগত মিছিলগুলো ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে জড় হওয়ার সাথে সাথেই বাধা দিতে আসেন সিলেটের তদানীন্তন প্রধান বৃটিশ কোম্পানী কর্মচারী রবার্ট লিন্ডেসে (১৭৭৮-১৭৮৯ ইং)। আজ বৃটিশদের শেষ দিন বলে হুঙ্কার দিয়ে উন্মুক্ত তরবারির দ্বারা সামনে বাধাদানকারী বর্ণিত কোম্পনী প্রতিনিধির শিরচ্ছেদ করতে উদ্ধত হন সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়। সাথে সাথেই কোম্পানীর বর্ণিত বৃটিশ এজেন্ট রবার্ট লিন্ডসে নিজ পিস্তলের গুলিতে বীর মুক্তিসংগ্রামী ভ্রাতৃদ্বয়কে হত্যা করেনÑ যার বিস্তারিত বিবরণ বর্নিত লিন্ডসের ইংরেজিতে লেখা বৃটিশ পাবলিক লাইব্রেরীতে রক্ষিত। কিন্তু বর্তমানে দুষ্প্র্রাপ্য “এনেকডোটস অব এন ইন্ডিয়ান” লাইফ নামক ঐতিহাসিক বইয়ের সিলেট সর্ম্পকিত অংশাদিতে লিপিবদ্ধ আছে। পরবর্তীতে বর্ণিত দুষ্প্রাপ্য বইয়ের ফটোকপি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আব্দুল হাই মিনারের প্রবাসী ভগ্নিপতি জনাব হেলাল আহমদের সৌজন্যে অতিকষ্টে সংগ্রহ করা হয়। পরে মুসলিম সাহিত্য সংসদের তদানিন্তন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ মানিক কর্র্তৃক বাংলায় ভাষান্তরিত ‘সিলেটে আমার বারো বছর’ নামের বিখ্যাত ঐতিহাসিক বইতে সে করুণ ঘটনা অতীব হৃদয় বিদারক ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। ঐ বইতে আরো বর্নিত আছে যে, রাষ্ট্রদ্রোহীর অপরাধের শাস্তি হিসাবে হত্যার কয়েকদিন পর্যন্ত শহীদদের পবিত্র মরদেহগুলো জনভীতি সঞ্চার এবং হত্যার পরও অমানবিক শাস্তি হিসাবে প্রকাশ্যে শাহী ঈদগাহস্থ যুদ্ধক্ষেত্রে অতি নির্মমভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য নিরীহ মুসলিম নেতাদের আকুল আবেদনের প্রেক্ষিতে অতি নিরবে লাশগুলো সরিয়ে নিয়ে শহরের মীরবক্সটুলাস্থ বর্তমান পাদ্রী-টিলার পশ্চিম দিকের অংশে শত জনতার হৃদয়বিদারক নীরব অশ্রুসিক্ত নয়নে দাফন করা হয়। এরপর থেকেই উক্ত টিলার নামও হয়ে যায় হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার টিলা। পরবর্তীতে ঐ টিলার পশ্চিমাংশে আজও হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার রওজা এবং পরবর্তীতে তাঁর সাথীদের কবরস্থান হিসাবে পরিচিত আছে। বিগত সরকারি ভূমি জরিপের সময় ও সরকারের পক্ষে নাম অশুদ্ধভাবে হাছালিয়া-মাছালিয়া (হাদামিয়া-মাদামিয়া) পীরের নাম কবর স্থান হিসাবে ডিসির ১নং খতিয়ানে ৮২৯৭ নম্বর দাগে, সিলেট মিউনিসিপ্যালাটি  জে.এল. নং- ৯১, ভূমির পরিমাণ ১০.৮১ ডেসিমেল হিসাবে রেকর্ডভূক্ত হয়েছে। লেখকসহ শহরের অনেক লোকজন এ পবিত্র মাজারগুলো এবং কবরস্থান হর-হামেশা জিয়ারত করে আসছিলেন এবং তা সিলেট শহরসহ বঙ্গ-ভারতের একটি অমূল্য ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্বিক নির্দশন এবং জাতীয় বীরের প্রতীক হিসাবে সবার শ্রদ্ধার স্থান রূপে আজও বিরাজমান। উল্লেখ্য ঘটনার পরবর্তীতে সম্ভবত সিলেট নগরীর আদি মুসলমান হযরত বোরহানুদ্দিন মাজার কেন্দ্রিক বর্তমান ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডভূক্ত মুসলিম প্রধান এলাকার জনগণ দেশপ্রেমের কারণে শহীদ সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়ের পবিত্র স্মৃতিকে স্মরনীয় করে রাখার জন্যে এলাকার অংশ বিশেষের নাম হাদার বাগ (বর্তমান হাদারপাড়) ও মেহেদি বাগ (বর্তমান মেন্দিবাগ) নামাকরণ করে সিলেটসহ দেশবাসীকে চিরকৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করে রেখেছেন।

পরবর্তীতে জনাব আ.ফ.ম কামাল সাহেব সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকার সময়ে বর্ণিত মাজার ও কবরস্থিত দাগের পার্শ্বের উত্তরে রাস্তা সংলগ্ন দাগের ভূমিতে হোসাইনি মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়। চেয়াম্যান সাহেব পার্শ্বেও ঐতিহাসিক পবিত্র মাজারদ্বয়সহ কবরস্থান যথাযথ সংরক্ষনের শর্তে বর্ণিত মাদ্রাসা নির্মাণ ও পরিচালনার অনুমতি দেন। সাবেক চেয়ম্যার সাহেবের বর্ণনা মতে ইহা সর্বজনবিদিত এবং বর্ণিত রওজাদ্বয় ও কবরস্থান জিয়াররতের সুবিধার্থে টিলার উপরে রওজাদ্বয়ে উঠতে সিড়ি ও নির্মাণ করেছেন। পরিবর্তে মাদ্রাসা নির্মাণ হলে বর্ণিত মাজারদ্বয় ও কবরস্থান লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ায় স্বার্থানেষী লোকজন বর্ণিত রওজার গুরুত্ব অনুধাবন না করে ভূমি-সহ কবরস্থান গোপনে বেআইনি দখলের জন্য টিলার পাশে থাকা রওজারদ্বয়ের পাশের ভূমি কেটে সরিয়ে নেন। ফলে তারা বর্ণিত পবিত্র অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনের রওযাজাদ্বয় এবং তথায় যাওয়ার সিঁড়িগুলিও ধ্বংস করে বর্ণিত ভাতৃদ্বয়ের কবরস্থান ধ্বংস করে দেশের অপূরনীয় ক্ষতি করেন। বর্ণিত স্বার্থান্বেষী লোকজনের এ অপকর্ম  জনসমক্ষে  প্রকাশিত হলে অত্র এলাকার সর্বজন শ্রদ্বেয় শিক্ষাবিদ ও এডভোকেট মাসওদ খাঁন এবং ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহযোগীতায় অত্র লেখক এডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মাসিক  শাহজালালর পত্রিকার সম্পাদক জনাব রুহুল ফারুকের নেতৃত্বে তড়িঘড়ি করে সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মেহদী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন গঠন করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় প্রশাসক লেঃ কর্ণেল মাসুদকে এ বিষয়টি অবহিত করা হয়। প্রশাসক মহোদয় বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সাথে সাথেই তদানিন্তন সহকারী কমিশনার  ভূমিকে টেলিফোন করে বর্ণিত রওজাদ্বয় ও কবরস্থানস্থ সরকারী ভূমির সীমানা চিহ্নিত করে তা বেআইনী দখল থেকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার মহোদয় পরের দিনেই তা জরিপ বর্ণিত মাদ্রাসার দিকের সীমানায় বেআইনী স্থাপনায় লাল চিহ্ন দিয়ে তা সাথে সাথেই ভেঙ্গে দিয়ে বর্ণিত পবিত্র ভূমি বেআইনী দখলমুক্ত করেন। পরবর্তীতে ঐতিহাসিক এ কবরস্থানের চতুরর্দিকে স্থায়ী সীমানা দেয়াল দিয়ে তা সংরক্ষণ করার জন্য বর্ণিত সামরিক প্রশাসক তদানিন্তন জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন। পরে আমরাও তদানিন্তন ডিসি মহোদয়কে বিগত ০১/০৪/০৭ইং তারিখে পৃথক দরখাস্তের মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাড়াতাড়ি বর্নিত কবরস্থানের চতুর্দিকে সীমানা দেওয়াল নির্মানের ব্যবস্থা গ্রহনের  জন্য অনুরোধ করি। ডিসি মহোদয় তাৎক্ষনিক নগদ অর্থের অভাবের কারনে সিলেট নগর কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে তা সংরক্ষণ ও নিয়মিত তত্ত্বাবধানের লিখিত অনুরোধ করেন। প্রধান নির্বাহী কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা  নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং সাথে সাথে আমরাও এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তদানিন্তন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নজরে নিলে মেয়র মহোদয়ও এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশন ও সদর সহকারী কমিশনার, ভূমি কার্যালয়ের জরিপ কর্মকর্তাদের যৌথ জরিপে বর্ণিত ধ্বংসপ্রাপ্ত রওজা ও কবরস্থানের চর্তুদিকের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়াল নির্মাণের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু পার্শ্বের মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অসহযোগীতার কারনে তা সম্ভব না হওয়ায় বিষয়টি দেরি হতে থাকে। তৎপর আমাদের একান্ত অনুরোধ তদানিন্তন মেয়র কামরান সাহেবের উদ্যোগে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সাথে মাদ্রাসায়ই বৈঠক হয়। তখন মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে মুসলিম সাহিত্য সংসদের তদানিন্তন সভাপতি ভাষা সৈনিক বর্ণিত শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সহযোগী  পরামর্শক অধ্যক্ষ মসউদ খান, সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আ.ফ.ম কামালসহ স্থানীয় ও পার্শ¦বর্তী ওয়ার্ডের  কাউন্সিলেরবৃন্দের উপস্থিতিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ সকলেই পরিস্কারভাবে বলেন যে, মাদ্রাসার দিকের সীমানা চিহ্নত করে দেওয়াল নির্মাণে মাদ্রাসার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু উত্তরদিকের মহিলা মেডিকেল কলেজের সাথে সীমানা চিহ্নিত করে সীমানা দেয়াল নির্মানে সমস্যা আছে। সভায় মাদ্রাসার ভিতর দিয়ে বর্ণিত কবরস্থানে যাতায়াতের মাদ্রাসার অসুবিধার বিষয়ও আলোচনায় আসে। তখন মাদ্রাসার পূর্বদিকে টিলাকেটে এবং পানি নিষ্কাশন নালার উপরে ঢাকনা দিয়ে তথায় অবাধ চলাচলের ব্যবস্থাসহ রাস্তার পার্শ্বের  সাইনবোর্ড  দিয়ে রওজা ও কবরস্থানের দিক নির্দেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একটি সুন্দর নকশার মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রওজাদ্বয় পূর্ননির্মান করে কবর স্থানে ফুলের বাগান রচনা করে বর্ণিত ঐতিহাসিক কবরস্থানকে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার ব্যাপারেও ঐক্যমত হয়। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য মেয়র মহোদয়ও  সাথে সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেন এবং সে অনুযায়ী কাজও আরম্ভ হয়।

পরবর্তীতে আমরা সিলেট মহিলা মেডিকেল কলেজের কার্যকরী পরিষদের পরিচালক সিলেট জামায়েতে ইসলামের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সাহেবের  সাথে এ ব্যাপারে দেখা করলে তিনি এ বিষয়ে সহযোগীতার আশ্বাস দেন এবং তিনি তৎক্ষনিকই মেডিকেল কলেজের দিকের  সীমানা চিহ্নিত করে সীমানা দেওয়াল নির্মাণে তাদেও জনৈক পরিচালককে এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ সাহায্য ও সহযোগীতা করার অনুরোধ করেন। ফলে কর্পোরেশনের উদ্যোগে তড়িৎ গতিতে দক্ষিণ দিকের  হাসপাতালে ভূমির সাথে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে উত্তর ও পূর্ব দিকে মাদ্রাসার সাথে সীমানা দেওয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ আরম্ভ করতে  চাইলে  বর্ণিত মাদ্রাসার  লোকজন ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে গড়িমসি - আজ না কাল ইত্যাদির মাধ্যমে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। পরে তারা রাতের অন্ধকারে আবারও বর্ণিত ঐতিহাসিক কবরস্থান দখল করে বেআইনি স্থাপনা নির্মাণ করেন। ইতোমধ্যে নগর কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদসহ কাউন্সিলারদের পদে পরিবর্তন আসে এবং বর্নিত কারণে উত্তর-পূর্ব দিকে মাদ্রাসার ভূমির সাথের সীমানা দেওয়াল, রাস্তা, বর্ণিত রওজাদ্বয়সহ কবরস্থানের পূণনির্মান, সংস্কার ও সংরক্ষণসহ অন্যান্য কাজের জন্য কর্পোরেশন কর্তৃক আংশিক বরাদ্দকৃত নগদ তিন লক্ষ টাকা অব্যবহৃত থেকে যায়। তবে এ বিষয়ে অহেতুক বিলম্বে কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের লোকদের অযথা কালক্ষেপন,আর্থিক বরাদ্দে বিলম্ব এবং ক্ষমতার রাজনৈতিক কূটকৌশলও অবদান রাখে বলে অনেকের ধারণা। উল্লেখ্য, বিশিষ্ট কলাম লেখক ও সমাজ সেবক শহরের রায়নগরের রফিকুর রহমান লজুও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গবেষনা ও লেখালেখি করে বিষয়টি জনসমক্ষে ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরতে প্রচেষ্টা করেন এবং এ বিষয়ে  প্রয়োজনীয় গবেষণার জন্য মুসলিম সাহিত্য সংসদেও একটি গবেষনা সেল গঠন করার বিষয়ও আলোচনা পর্যায়ে আছে। উল্লেখ্য মাদ্রাসার পরিচালকদের এহেন কর্মকান্ডের কারণে মাদ্রাসার সাথে প্রথম থেকেই সংশ্লিষ্ট সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আ.ফ.ম কামাল সাহেব নিজেকে মাদ্রাসার পরিচালনার কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নেন।
ইতিপূর্বে ২০০৮ ইং সনের ফেব্রুয়ারী মাসের ১২ তারিখের নগর কর্পোরেশনের মাসিক সভায় উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মেহদী ভ্রাতৃদ্বয়ের  নেতৃত্বে দখলদার উপনেবেশিক ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ হওয়ার ক্ষেত্র তথা বর্তমান শাহী ঈদগাহের কোথাও আমাদের প্রজন্মান্তরের কাছে বর্ণিত জাতীয় গৌরব গাঁথা চির অম্লান রাখার জন্যে একটি সুন্দর স্মৃতিসৌধ/স্তম্ভ নির্মাণেরও আলোচনা হয়। এরকম স্মৃতিস্তম্ভের শাহী ঈদগাহের পূর্বদিকে বর্তমান সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও স্কলার্স হোম শিক্ষা প্রতিষ্টানের মধ্যবর্তী সরকারী খাস ভূমিস্থ ছোট টিলার উপরই তা নির্মাণের উপযোগী স্থান হিসাব আলোচনায় আসে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সিলেটর অতি জনপ্রিয় পুনঃপুনঃ নির্বাচিত কাউন্সিলার কয়েস লোদীকে আহবায়ক করে এক কমিটি গঠিত হয় যা পরবর্তীতে নগর কর্পোরেশন নির্বাচন ও সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার কারনে অকার্যকর হয়ে আছে। এখানে প্রকাশ থাকা অতি প্রয়োজন যে, উপমহাদেশ বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৭ ইং সনের সিপাহী বিদ্রোহীর সময় উত্তর ভারতে প্রথম বিদ্রোহীর সময় উত্তর ভারতের প্রথম বিদ্রোহী সিপাহী মঙ্গল পান্ডেকে ব্রিটিশরা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করার পর তাকেই ইতিহাসে প্রথম শহীদ আখ্যায়িত করে তাঁর দেশপ্রেম ভিত্তিক প্রখ্যাত চলচিত্রও নির্মাণ করা হয়। অথচ ঐ ঘটনার প্রায় ৭৫ বৎসর পূর্বে তথা ১৭৮২ ইং সনে বর্ণিত সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয় সিলেটকে বৃটিশ দখল মুক্ত করার সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন এবং তাঁরাই উপমহাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সর্বপ্রথম শহীদ হলেও হয়তো সিলেটের দুরবর্তী অবস্থান এবং শিক্ষিত মুসলিম সমাজের ইতিহাস বিমুখিতার কারনে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বর্ণিত প্রথম বীর শহীদদের বীরত্ব গাঁথা আজও অনুল্লিখিত। এমনকি স্বদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসেও সে ঘটনা আজও অলিখিত রয়ে আছে। অথচ বর্ণিত ঘটনার অনেক পরের মঙ্গল পান্ডের শহীদ হওয়ার ঘটনা অতি গুরুত্ব সহকারে লিপিবদ্ধ ও প্রচার হয়ে আসছে। এ মারাত্মক ঐতিহাসিক ভুলটি কি এখনও সংশোধন হওয়ার সময় আসেনি? এ র্নিলিপ্ততার দোষ কী আমাদের সবার নয়? সম্প্রতি বর্ণিত মাজার ও কবরস্থানের সাক্কুল্যে ভূমি নিজেদের দাবি করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে সিলেটের ২য় যুগ্ম জজ-আদালতের ৩৪৫নং স্বত্ত্ব মামলা ও দায়ের করেছেন।

এখানে বুকফাঁটা আর্তনাদ করে উল্লেখ করতে হয়, দখলদার বৃটিশ উপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে যে বীরত্বপূর্ন স্বাধীনতাযুদ্ধ উপমহাদেশের প্রথম সূচনা-মুক্তিযুদ্ধ যা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, ফকির ও ফরাজী আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ, আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াইসহ সকল স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ প্রদর্শক থাকার কথা ছিল। কিন্তু বর্ণিত স্বার্থান্বেষী মহলের কারনে সরকারী ভূমিতে রওজা মোবারকদ্বয় ধ্বংসসহ বর্ণিত শহীদ কবরস্থান দখলের হীন কর্মের কারনে তা যথাযথ প্রচারিত না হওয়ায় বঙ্গ-ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাসে অগ্রগণ্য ভূমিকার কথা দেশবাসীর কাছে এবং জাতীয় ইতিহাসেও অজানা অলিখিত থেকে যায়।
আমরা এ ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনের স্মারক বর্ণিত রওজাদ্বয়ের ধ্বংসযজ্ঞের কারন অনুসন্ধানের সাথে সাথে তা অতিসত্ত্বর উদ্ধার, পূর্বের পরিকল্পনা মতে বর্নিত রওজাদ্বয় ও শহীদের কবরস্থান পুননির্মণ ও সংরক্ষণসহ বর্ণিত ঐতিহাসিক লড়াইকে জনসমক্ষে চিরভাস্বর করে রাখতে শাহী ঈদগাহের  বা বর্ণিত কবরস্থানের কোন সুবিধাজনক স্থানে একটি বর্ণিয়া স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের আবেদন করছি। উল্লেখ্য বিশ্বের মুক্তি সমতা ও ভ্রাতৃত্বের পথ প্রর্দশক সে মহান ফরাসী বিপ্লব (১৭৬৯), আমেরিকার মুক্তি সংগ্রামের (১৭৭৬)সমসাময়িক (১৭৮২) বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক আমাদের বীরত্ব ও ঐতিহ্যের পূর্বসূরী শহীদ সৈয়দ হাদি ও শহীদ সৈয়দ মেহদির বীরত্বগাঁথা সংকীর্ণ কারনে কিভাবে আমরা ভূলে যেতে পারি? সে বীর শহীদ এবং তাদের পরবর্তী সাথীদের সমাধি ও কবরস্থান রক্ষা, সংরক্ষণ ও হেফাজত করা কী আমাদের সার্বিক দায়িত্ব নয়? তাই বর্ণিত ভূমি বেআইনি দখল থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্ণিত পবিত্র রওজাসহ পরবর্তী সাথিদের কবরস্থান রক্ষা, সংরক্ষন ও হেফাজত করতে সকলকে এগিয়ে এসে নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষাসহ সবাইকে নিজ নিজ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে আকুল আবেদন জানাই। এ প্রসঙ্গে বর্তমান জনপ্রিয় ও কর্মনিষ্ঠা মেয়র জনাব আরিফুল হকসহ আলোকিত সিলেট গড়ার সার্থক মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত এম.পি প্রত্নসম্পদ রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষের উদ্দ্যোগ এবং সদর ভূমি কমিশনার , জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের  শুভ দৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা।     



                                              














                                                                             
                                                                     

 


সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত