সর্বশেষ

  বিশ্বনাথে সিএনজি ও রিক্সা শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ২০   প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এগিয়েছে সদর উপজেলা স্পোর্টস একাডেমি: আশফাক আহমদ   মীরেরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ৩ কিশোরের জানাজা সম্পন্ন : অনুদান প্রদান   মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৩   সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার আর নেই: এমপি মানিকের শোক   ছাতকে আওয়ামী লীগ নেত্রীর মাতৃ বিয়োগ : এমপিসহ বিভিন্ন মহলের শোক   বিশ্বনাথের খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১   শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ :শফিক চৌধুরী   সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু   মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ ভাইয়ের মৃত্যু   সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী মিন্নতের কব্জিকর্তন মামলার প্রধান আসামী শাহীনসহ গ্রেফতার ২   ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের   কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট ডিগ্রি পেলেন শেখ হাসিনা   ছাতকে পৃথক সংঘর্ষে আহত ৫০, গ্রেফতার ১   জকিগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার   এতিমদের নিয়ে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব সিলেটের ইফতার মাহফিল   শাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন   শাবির স্বপ্নোত্থানের ঈদবস্ত্র বিতরণ   সেই কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবদের হায়দরাবাদ

প্রাথমিক শিক্ষা ও কিছু কথা

প্রকাশিত : ২০১৭-০৯-১৮ ২০:১১:৩৩

আ স ম কামরুল ইসলাম ॥ শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার মূল বুনিয়াদ। শিক্ষা যে কোন জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ১৯৭৩ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের কঠিন সময়ে একটি শিক্ষিত জাতির স্বপ্নের কারিগর হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একসাথে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেন। কারণ শিক্ষা বান্ধব এ মানুষটি জানতেন শিক্ষা খাতে অর্থব্যয় একটি দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে উপযুক্ত বিনিয়োগ। বাংলার এ বিশাল জনগোষ্ঠিকে শিক্ষা, কারিগরি, বিজ্ঞান ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ করে জনশক্তিতে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি। তাঁর শাহাদত বরণের পর বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য পৃষ্ঠপোষকতা চোখে পড়েনি। ২১ বছর পর তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে দৃষ্টিপাত করেন। মূলত এ সময় থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র চেহারা, ভগ্ন দশা কাটিয়ে উঠতে শুরু করে। ২০১৩ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা আবার একসাথে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা ঘোষণা করেন। তারই ধারবাহিকতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হতে যাওয়া ৭২তম জাতিসংঘ অধিবেশনে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত শিক্ষায় বৈষম্য হ্রাস, নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি, অর্ন্তভূক্তিমূলক শিক্ষা ইত্যাদি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। এখানে উল্লেখ করা দরকার ২০১৫ সালের ১৯৩টি দেশ কর্তৃক স্বাক্ষরিত SDG চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য অর্ন্তভূক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনে প্রায়ই আমার যাওয়া হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত আমার সাথে শেয়ার করে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা একটা বড় সমস্যা। শিক্ষকগণ প্রতি মাসে ১টা করে হোম ভিজিট করেন। কমিটির সভা আহবান করে সমস্যা তুলে ধরেন ও নিরসনের চেষ্টা করেন। তবুও শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। আরো জানা যায়, সৃজনশীল পদ্ধতি শিশুদের কাছে খুবই কঠিন। কোমলমতি শিশুদের সৃজনশীল বুঝতে সমস্যা হয়। শিক্ষকদেরও প্রশ্ন তৈরী করতে সমস্যা হয়। নীতি নির্ধারনে যারা আছেন তাদেরকে এ ব্যাপারে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।
শিক্ষা সুযোগ নয়, প্রতিটি শিশুর অধিকার। সকলেরর জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে সকল স্তরে। সচেতন হতে হবে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকেও। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ভাল মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা থাকতে হবে। তা না হলে পরিবর্তন আসবে না।
গত ৩ বছরের বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ, হাওর-চর, পাহাড়ী দুর্গম এলাকা, চা বাগান, জেলেপল্লী, বস্তিবাসী ছেলেমেয়েসহ ভাসমান শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্ন্তভূক্তিকরণ, সবধরনের শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ‘একীভূত শিক্ষাসেল’ গঠন, যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করে বই উৎসব পালন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, SLIP বরাদ্দ থেকে দরিদ্র বাচ্চাদের জন্য পোশাক, খাতা-কলমের ব্যবস্থা, কর্মকর্তাদের ই-মনিটরিং পরিদর্শন ব্যবস্থা, উদ্ভাবনী বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্ভূত সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মা সমাবেশ, হোম ভিজিট করে উপস্থিতি বৃদ্ধি, মানসম্মত পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, প্রাক-প্রাথমিক কক্ষ সুসজ্জিতসহ বিদ্যালয়ের ভবন আকর্ষণীয়করণ ইত্যাদি বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের রূপকার হিসেবে প্রমাণ দিয়েছে। তবে আমি মনে করি মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন একটি ধারবাহিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এতসব কার্যক্রম চলমান থাকলেও আমরা মানসম্মত শিক্ষার দোরগোড়ায় প্রবেশ করেছি মাত্র।
একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, অতীতের তুলনায় বর্তমানে উচ্চ শিক্ষার দ্বার আমাদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ব্যাপকভাবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোতেও অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য আনন্দের, গৌরবের। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আমাদের একেবারে দোরগোঁড়ায় এসে পৌঁছেছে। রাষ্ট্র ও সরকার আমাদের জন্য এ সুযোগ অবারিত করে দিয়েছেন। ব্যাপক হারে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে আর বাঁধা থাকছে না। তাই প্রাথমিক স্তরেই যেন শিশুরা ঝরে না পড়ে এ ব্যাপারে আমাদের সকলের সজাগ দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ, নতুন পদ সৃষ্টি, শূন্য পদে পদায়ন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ল্যাব রুম তৈরিসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ সৃষ্টি করে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত ও পরিমাণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

লেখক:চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ ও সভাপতি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত