সর্বশেষ

  রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারের দাবীতে ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগরীর বিক্ষোভ   'শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্ঠায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার'   রিয়ালকে জয়ে ফেরালেন নবীন সেবায়োস   কমেছে চালের দাম, কমবে আরও   লন্ডনে আবারো এসিড হামলা, আহত ৬   তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল   মহিউদ্দিন শীরু’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৫ সেপ্টেম্বর   ধর্ম যার যার, উৎসব সবার : কামরান   ওসমানীনগরে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর, প্রশাসন নিরব   জগন্নাথপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু   ফেঞ্চুগঞ্জে সড়ক মেরামতের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা   মৌলভীবাজারে ‘শিক্ষা দিবস’ পালিত   হত্যা মামলার আসামী টিটু ও সুলেমান এখনও অধরা   ফেঞ্চুগঞ্জে পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সাথে প্রশাসনের সভা   রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত   দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সিলেট মহানগর পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি   নগরী থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ   বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষাখাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে : এমপি আবু জাহির   সিলেটে ছিনতাইকারী বাবলু ও শরীফ আটক   সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন

অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা: লন্ডনে নাগরিক অভ্যর্থনায় ড. মোমেন

প্রকাশিত : ২০১৫-১১-১৭ ২২:১০:১৯

লন্ডন প্রতিনিধি : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৫ ॥ জাতীসঙ্ঘে বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক বিরোধ যেন বাধার প্রাচীর হয়ে না দাড়ায়।

লন্ডনে তাঁকে দেয়া এক নাগরিক অভ্যর্থনার জবাবে ড. মোমেন এই মন্তব্য করেন। জাতীসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার পথে সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট হাউস ইভেন্টস ভেন্যুতে কমিউনিটির উদ্যোগে তাঁর সম্মানে এই নাগরিক অভ্যর্থনা ও ডিনারের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশার সভাপতিত্বে এবং সালিমা শারমিন হোসেইন ও সৈয়দ মুমিনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন- ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম, ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের প্রবীন সংগঠক সুলতান শরীফ, প্রবীন রাজনীতিক শামসুদ্দিন খান ও ব্রিটেনের তরুণ আইনজীবি ব্যারিষ্টার আখলাকুর রহমান চৌধুরী কিউসি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়েন্ট কাউন্সিল ফর ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্রেন্টস (জেসিডব্লিউআই) এর সদ্য বিদায়ী চীফ এক্সিকিউটিভ হাবিব রহমান, বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিষ্টার প্রেস নাদিম কাদির, বেগম সেলিনা আফরোজা, চ্যানেল আই ইউরোপের সিইও রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী শুয়েব, এনটিভি’র ডাইরেক্টর মোস্তফা সরওয়ার বাবু, সাংবাদিক ইসহাক কাজল, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইয়াফর আলী,  যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নঈমুদ্দিন রিয়াজ, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিরন মিয়া।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. মোমেনের উপর নিউইয়র্ক ভিত্তিক টিভি চ্যানেল টিভিএন২৪ এর সৌজন্যে চিত্রনির্মাতা মঈনুল হোসেন মুকুল নির্মিত ১০ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হয়। ডকুমেন্টারীতে তাঁর কর্মস্থল নিউইয়র্কের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা জনাব মোমেনকে মূল্যায়ন করেন। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

অভ্যর্থনার জবাবে ড. মোমেন শিক্ষকতা পেশা থেকে কুটনৈতিক পেশায় আগমনের গল্প শোনান সবাইকে। তিনি বলেন, চাকরীর প্রথম জীবনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু সরকারের অধীনের দায়িত্ব পালন করেছি, এরপর দীর্ঘদিন শিক্ষতার সাথে জড়িত ছিলাম। জীবনের শেষ লগ্নে জাতীর জনকের কন্যার আহবানে ফিরে আসি কুটনৈতিক পেশায়। জাতীসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি’র দায়িত্ব পালন কালে সঞ্চিত বিভিন্ন অভিজ্ঞতাও অনুষ্ঠানে আগতদের সাথে শেয়ার করেন খ্যতিমান এই কুটনীতিক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের অন্যতম একজন ডাইনামিক লীডার আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ আজ একটি আত্মমরযাদা সম্পন্ন জাতী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। ২০২১ সালে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দুটো স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে সদ্য বিদায়ী এই কুটনীতিক বলেন, উন্নতীর পথে বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শুধু সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

রাজনৈতিক মতভিন্নতা এক্ষেত্রে যেন বাধার প্রাচীর হয়ে না দাড়ায় দেশের সাধারণ মানুষদেরও এবিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ব সম্প্রাদায়ের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এমন মন্তব্য করে জাতীসংঘে দেশের সদ্য বিদায়ী এই কুটনীতিক বলেন, জাতীসংঘের পিস কিপিং এ বাংলাদেশ আজ সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করছে, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের কোন শত্রু নেই।

ড. মোমেন বলেন, সবার সাথে আমাদের বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নেই বাংলাদেশের এমন অবস্থানও প্রশংসিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সন্ত্রাসবাদের বিরোদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে প্রবীন এই কুটনীতিক বলেন, শান্তির বাণী নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি আজ ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সন্ত্রাসবাদের বিরোদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান বিভিন্ন দেশের সামনে আজ অনুকরণীয়।

জাতীসংঘ সহস্রাব্ধ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ব নেতাদের ব্যাপক প্রশংসার কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বাংলাদেশ সফলতা দেখাবে প্রধানমনন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর এমন আস্থাই রাখছে জাতীসংঘ। প্রধানমন্ত্রী চাইলে দেশের প্রয়োজনে যেকোন দায়িত্ব পালন করতে তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়ে এই কুটনীতিক বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের অধিনে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, কাজ করেছি তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনে, এটিতো আমার অন্যতম এক পরম পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন দেশের কাজে এখনও আমার ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে, তাহলে জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে সে ভূমিকা রাখতেও আমার কোন আপত্তি নেই। তিনি দেশে ফেরার পথে তাঁকে সম্মানিত করায় ব্রিটেন প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের এই ভালোবাসা, এই আস্থা যেন ঠিকিয়ে রাখতে পারি এই দোয়াই করবেন।

উল্লেখ্য, কুটনীতিক ছাড়াও জনাব মোমেনের রয়েছে বহুমুখি প্রতিভা। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে তিনি যেমন শিক্ষকতা করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা ইউনিভার্সিটিতে, ঠিক তেমনি কুটনীতিক হিসেবেও তাঁর কর্মপরিধি সীমানাহিন। সৌদি অর্থ মন্ত্রনালয়ের ইকোনমিক এডভাইজার ছিলেন ড. মোমেন, দায়িত্ব পালন করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থি মাইকেল ডুকাকিসের সাউথ এশিয়া বিষয়ক এডভাইজর হিসেবে।

২০১১-২০১২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সেকেন্ডক মিটির চেয়ার ছিলেন তিনি।বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ভাইস চেয়ার হিসেবে। ২০১০ সালেড. মোমেন জাতীসংঘ কাউন্টার টেরোরিজমের ফেসিলিটেটর হিসেবেও কাজ করেছেন। জাতীসংঘ ইকোনমিক ও সোস্যাল কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্টেরও দায়িত্ব পালন করেছেন খ্যাতিমান এই কুটনীতিক। একই সময়ে তিনি কোকাস অব দ্যা ইউএন ন্যাম পিসবিল্ডিং এর কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্বও পালন করেন।

কুটনৈতিক পেশার বাইরে ড. এ কে এ মোমেন বোষ্টন ইউনিভিার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক, যুক্তরাষ্ট্রের ফারিংহাম ইউনিভার্সিটির বিজনেস এডমিনিষ্ট্রেশন ও ইকোনমিক ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান, মেরিমাক কলেজ, দ্যা সালেম স্টেইট কলেজ, দ্যা ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস, নর্থ ইষ্টার্ণ ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ কলেজ এন্ড দ্যা কেনেডি স্কুল অব গভার্নমেন্ট ও হার্বাড ইউনিভার্সিটির ফেকাল্টি মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন শেষে ড. এ কে এ মোমেন দেশে ফেরার পথে এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. মোমেনকে আরও বড় দায়িত্ব দেয়ার জন্যে দেশে নিয়ে যাচ্ছেন এমন মন্তব্য করেন।

উত্তরপূর্ব২৪ডটকম/এমসি/টিআই-আর

সর্বশেষ খবর


সর্বাধিক পঠিত